ডেস্ক রিপোর্ট
৬ মে ২০২২, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
Tennis Elbow বা কনুইয়ের ব্যাথা কি/What is Tennis Elbow?
“Tennis elbow, also known as lateral epicondylitis, is a condition in which the outer part of the elbow becomes painful and tender.The pain may also extend into the back of the forearm and grip strength may be weak.Onset of symptoms is generally gradual”
সহজে বলতে গেলেঃ আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা তাদের জীবনের বিভিন্ন সময়ে কনুই এর ব্যাথায় ভুগেছে। কি রকম সেই ব্যথা? কোন কাজ করতে গেলে হাতে জোর পাচ্ছেন না,বিশেষত কোন কাপড় কাঁচার কাজ, জোরে কোন কল খোলার কাজ বা ভারী কোনো জিনিস তুলতে গেলে কনুইয়ের বাইরের অংশে ব্যাথা লাগছে। এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে কলম দিয়ে কিছু লিখতে গেলেও কনুইতে ব্যাথা লাগছে। এই সমস্ত ক্ষেত্রে রোগীরা কনুই এর বাইরের অংশে ব্যথা অনুভব করে এবং তার ফলে তাদের কাজকর্ম করতে গেলে প্রচন্ড অসুবিধা হয়।এই কন্ডিশনটাকে বলা হয় টেনিস এলবো বা Lateral Epicondylitis.
কেনো এটাকে Tennis Elbow বলে?
টেনিস এলবো কথাটার উৎপত্তি হয়েছিল মূলত টেনিস প্লেয়ার থেকে।টেনিস খেলার সময় খেলোয়াররা অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফলে কনুইতে ব্যথা অনুভব করতো। সেখান থেকেই এই রোগটা আবিষ্কার হয় এবং এই রোগটার নামকরণ হয় বলে ধারণা করা হয়।
আর Lateral Epicondylitis কেন বলা হয়?
কারণ আমাদের হিউমেরাস বলে যে হাড়টি আছে তার শেষ অংশে আছে Lateral Epicondyl.সেই Epicondyl এর উপরে যে মাংসপেশী এবং যে টেনডন সে টেনডনটা ফুলে যায়।তাই তার ডাক্তারী ভাষায় নাম হলো Lateral Epicondylitis.
Tennis Elbow কাদের বেশি হয়?
👉যারা টেনিস ও ব্যাডমিন্টন যারা খেলেন তাদের এটি সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে
👉হাতুড়ি ও স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে যারা কাজ করে থাকেন তাদের টেনিস এলবো হতে পারে।
👉 পেইন্টার বা রং মিস্ত্রিদের কাজের জন্যও এরকম হয়।
👉টাইপিস্ট, স্টেনোগ্রাফারদের হাতের কাজ সবসময় চলতে থাকে বলে,হাতে অতিরিক্ত প্রেসার পড়ায় টেনিস এলবো হতে পারে।
👉যারা কাঠ কাটেন তাদের এটি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
👉অনেকে আবার অত্যাধিক মোটরসাইকেল চালাতে পছন্দ করেন।এমনকি মোটরসাইকেল চালানোর কারণেও এটি হতে পারে।
👉 বিভিন্ন ধরনের আর্থ্রাইটিস যেমন— রিউমাটয়েড, গাউট ও ডায়াবেটিসের রোগীদের তাদের রোগের কারণে টেনিস এলবো হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
👉 মহিলারা যারা খুব বেশি রান্নাবান্নাতে ব্যস্ত থাকেন,তাদেরও Lateral Epicondylitis হতে পারে।
কেন হয় Tennis Elbow?
এবার আমরা বুঝে নেব কেন এই জিনিসটা হচ্ছে? যারা দীর্ঘদিন ধরে হাতের প্রচুর পরিশ্রম করে বা যারা বিভিন্ন রোগে ভুগছেন অর্থাৎ ডায়াবেটিস,থাইরয়েড,অন্যান্য সমস্যা তাদের হাতের মাংসপেশীগুলোতে রিপিটেড প্রেশার পড়ার ফলে মাংসপেশির কিছু কিছু ফাইবারস কিছু কিছু টেনডন নষ্ট হয়ে যায়। সেগুলো ড্যামেজ হয়ে যায়।তার ফলে সেই কাজটা অর্থাৎ হাতের কব্জি ঘোরানো,হাত মোচড়ানো,স্ক্রু টাইট দেওয়া ইত্যাদি করলেই কনুইতে অতিরিক্ত প্রেসার পড়ে এবং রোগীরা এর ফলে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করেন এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে এতটাই ব্যথা হয় যে তারা কাজ করতে পর্যন্ত অসুবিধা ফিল করেন।
উপসর্গঃ যে কাজ বারবার করতে হয়, এমন কাজেই মূলত এ রোগ ধরা পড়ে বেশি।যেমন-
👉 ভেজা কাপড় নিংড়ানো, ভারী কিছু তোলা বা রুটি বেলার মতো কাজের সময়ে কনুই থেকে বাহুর অংশে ব্যথা ছড়িয়ে পড়তে পারে।
👉সারা দিন এক ভঙ্গিমায় মাউস ধরে কাজ করার সময়েও এ ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
👉 হাতের কনুইয়ে ব্যথা অনুভব হয় বলে হাত দিয়ে কোনো কিছু তুলতে সমস্যা হয়। হাতের নড়াচড়া বা কাজকর্মে ব্যথা বেড়ে যায়।
👉 এই ব্যথা শুধুমাত্র কনুইতেই সীমাবদ্ধ থাকে না।এটি কনুই থেকে শুরু হয়ে হাতের আঙুল পর্যন্ত যেতে পারে।
👉এমনকি অপরজনপর সাথে করমর্দনেও(handshake) এ ব্যাথা অনুভূত হতে পারে।
কি করে বুঝবেন যে আপনার Tennis Elbow হয়েছে কিনা?
এবার বুঝে নেবো যে যদি আপনাদের Lateral Epicondylitis হয়ে থাকে অর্থাৎ টেনিস এলবো হয়ে থাকে তাহলে আপনারা ঘরে বসে এটা বুঝবেন কি করে?এটা বোঝার জন্য খুব সিম্পল টেস্ট করলেই এটা আপনারা নিজেরা বুঝতে পারবেন।সেটা হল কনুইয়ের বাইরের দিকের জাংশন পয়েন্টটা যেখানে কনুইটা শেষ হচ্ছে ও নিম্নবাহু শুরু হচ্ছে এই পয়েন্টেটাতে যদি আলতো করে চাপ দেন তাহলে কিন্তু খুব ব্যাথা অনুভব করবেন।
২য় টেস্টটি হলো হাতকে L shape করে নিয়ে যদি কব্জিটাকে উপর দিকে তোলার চেষ্টা করেন এবং আপনি যদি কব্জিটাকে উপরে তোলা থেকে আটকান তাহলে কিন্তু কনুইতে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করবেন।এর মাধ্যমে আপনারা বুঝতে পারবেন Lateral Epicondylitis আপনার হয়েছে।
প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে এক্স-রে ও রক্তের পরীক্ষা যেমন—শর্করা, সিরাম ইউরিক এসিড, আরএ ফ্যাক্টর ইত্যাদি করতে হবে। অনেক সময় এক্স-রে ও রক্ত পরীক্ষায়ও রোগ শনাক্ত হয় না। কনুইয়ের বিশেষ ধরনের আল্ট্রাসাউন্ড এবং এমআরআই করেও অনেক সময় এই রোগ শনাক্ত করা হয়ে থাকে।
Tennis Elbow হলে কি করবেন?
যেটা ভালো ব্যাপার সেটা হল টেনিস এলবো নিজে নিজেই ৩-৪ মাস বা ৬ মাসের মধ্যে ঠিক হয়ে যায়।এর জন্য খুব বেশি ওষুধ বা চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে না।এই সময় একটু High Protein ও ভিটামিন সি জাতীয় খাদ্য যেমন-লেবু,আমলকি এগুলো খেলেই এটি নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়।যদি ভালো খাওয়াদাওয়া শর্তেও,রেস্ট দেওয়া শর্তেও এই ব্যাথা না কমে তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কনজারভেটিভ চিকিৎসায় কনুই এলবো সেরে যায়। তবে দুঃখের বিষয়, এই রোগ সেরে যাওয়ার কিছুদিন পর আবার দেখা দিতে পারে। অনেক সময় কনুইয়ের বাইরের দিকে ব্যথা না হয়ে যখন কনুইয়ের ভেতরের পাশে ব্যথা হয়, তাকে গলফার্স এলবো বলে, যার চিকিৎসাও টেনিস এলবোর মতোই।
রোগটা থেকে বাঁচতে আপনি নিজে যেগুলো করতে পারেনঃ
👉কনুইকে যথাসম্ভব বিশ্রামে রাখার চেষ্টা করতে হবে, যাতে প্রদাহ বা ব্যথা কম হয়।
ঘরোয়া কাজের পাশাপাশি মোটরবাইক চালানো, কম্পিউটারের মাউস ধরে একটানা কাজ করতেও বারণ করা হয়।তবে অতিরিক্ত বিশ্রামের কারণে আবার কনুই স্টিফ হয় বা জমে যেতে পারে।
👉 বরফ বা গরম সেঁক দিতে পারেন।এতে প্রদাহ, ফোলা ও ব্যথা কমে যায়।
👉 কনুইয়ের স্বাভাবিক নড়াচড়া ও পেশি শক্তিশালী হওয়ার জন্য ব্যায়াম করা উচিত।তবে ব্যায়াম করবেন কনুইয়ের ব্যাথা ও ফোলা কমে গেলে তারপর।
ব্যাথা খুব বেড়ে গেলে বা সতর্কতার জন্য অবশ্যই একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সতর্কতাঃ কখনই ইন্টারনেটের তথ্য অনুযায়ী নিজের বা অন্য কারো চিকিৎসা করার চেষ্টা করবেন না।এগুলো পড়বেন নিজের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করার জন্য যাতে ডাক্তারকে আপনার সমস্যাটি জানাতে ও ডাক্তারের পরামর্শ সহজে বুঝতে পারেন আপনি।সর্ব অবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলবেন।
লিখেছেন ডাঃ মো. আলমাহির ফেরদৌস, এমবিবিএস(এসইউএসটি),ডি. অর্থো.(ইউ. কে),এমপিএইচ(ঢাকা),এফআরএসপিএইচ(লন্ডন) কন্সালটেন্ট,অর্থোপেডিক সার্জারী বিএলসিএস ইনস্টিটিউট এন্ড হসপিটাল,ঢাকা। চেম্বারের ঠিকানাঃ সিলেট সেন্টার- ৬৪,পূর্ব স্টেডিয়াম মার্কেট (নিচতলা),সিলেট যোগাযোগঃ01711-042145