ডেস্ক রিপোর্ট

৪ এপ্রিল ২০২২, ১০:২৩ অপরাহ্ণ

ক্যান্টিনে খাবারের দাম বাড়ানো অযৌক্তিক: ঢাবি ছাত্র ফ্রন্ট

আপডেট টাইম : এপ্রিল ৪, ২০২২ ১০:২৩ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: রোজাকে কেন্দ্র করে হলের ক্যান্টিনগুলোতে খাবারের দাম অস্বাভাবিক মাত্রায় বাড়ানোর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক প্রগতি বর্মণ তমা।

আজ এক যৌথ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “রোজাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যন্টিনগুলোতে খাবারের যে দাম বাড়ানো হলো (মাছ— ৬০ টাকা, মুরগির মাংস— ৭০ টাকা, গরুর মাংস— ৮০ টাকা, খাসির মাংস— ৯০ টাকা) তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ছাত্রস্বার্থবিরোধী এবং বিশ^বিদ্যালয়ের চরিত্রের সাথে সাংঘর্ষিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনগুলো ইজারা দিয়ে ব্যবসায়ীদের দ্বারা চালানোতে শিক্ষার্থীরা আজ ইজারাদারদের হাতে জিম্মি। তারা ইচ্ছেমত খাবারের দাম নির্ধারণ করে। শিক্ষার্থীদের সাধ্যের বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে অযৌক্তিক মাত্রায় খাবারের দাম বাড়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, যা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণকেই স্পষ্ট করে। এই দাম ইচ্ছামত ক্যান্টিন মালিকরা বাড়াতে পারে কারণ ক্যন্টিনগুলো চলে ইজারার ভিত্তিতে। ইজারাদাররা একটা নিদৃষ্ট ফি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দেয়। আবার কিছু বড় ভাইদের ফাও খাওয়াতে হয়। এই সব কিছু দিয়ে ক্যান্টিন মালিকদের মুনাফা করতে হয়। অথচ একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কোনোকিছু মুনাফার ভিত্তিতে চলতে পারেনা। তাই ইজারাভিত্তিক ক্যান্টিনব্যবস্থা তুলে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বা হল প্রশাসনের তত্বাবধানে যদি ডাইনিং পদ্ধতি চালু করা যায় এবং পর্যাপ্ত ভর্তুকি দেয়া যায় তাহলে ছাত্রদের এত টাকা দিতে হতোনা। টিএসসি ও ডাকসু ক্যাফেটেরিয়া আমাদের সামনে উদাহরণ হিসেবে আছে। একটা পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ের চরিত্র এমনি হওয়া উচিৎ। কিন্তু বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন তা না করে ক্যান্টিনগুলোকে বণিজ্যিকভাবে ইজারা দিচ্ছে।”

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “ক্যান্টিনগুলো ইজারা দেওয়ার কথা না, বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব তত্ত্বাবধানে ডাইনিং চালাবে এটাই হওয়া উচিৎ। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিন ইজারা দেয়া হয়, খেলার মাঠ, অডিটোরিয়াম ভাড়া দেয়া হয়। এগুলো কোনো স্বাভাবিক এবং ছোটখাটো বিষয় নয়। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এগুলো করা হচ্ছে এবং সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের জীবনের উপর এর প্রভাব পড়ছে। বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে ইউজিসির ২০ বছর মেয়াদী (২০০৬—২৬) কৌশলপত্র বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ আয় বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই ক্যান্টিন ইজারা দেওয়া, মাঠ ভাড়া দেওয়া, অডিটরিয়াম ভাড়া দেয়া, ভর্তি ফি বাড়ানো সহ বিভিন্ন ধরনের ফি আরোপ করা হচ্ছে। যা শিক্ষাকে পণ্যে রূপান্তরিত করার, শিক্ষার বেসরকারীকরণের দীর্ঘ ও ক্রম প্রক্রিয়ারই অংশ”

নেতবৃন্দ গভীরভাবে ছাত্রদের এ বিষয়গুলো ভেবে দেখার অনুরোধ জানান এবং আগামীদিনে ছাত্র আন্দোলোন গড়ে তোলার আহবান জানান।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পক্ষ থেকে তারা দাবি জানানঃ

১. কম টাকায় প্রয়োজনীয় পুষ্টিমান সম্পন্ন খাবার নিশ্চিত করতে হবে।

২. খাবারের মূল্য তালিকা নির্ধারণ করে টানিয়ে দিতে হবে। নির্ধারিত দাম ও মান নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের তদারকি জোরদার করতে হবে। ফাও খাওয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

৩. অতি দ্রুত ক্যন্টিগুলো বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসনের তত্বাবধানে নিয়ে এসে ডাইনিং পদ্ধতি চালু করে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভর্তুকি নিশ্চিত করতে হবে।

শেয়ার করুন