ডেস্ক রিপোর্ট
১৯ মার্চ ২০২২, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: সম্ভাব্য অনাস্থা ভোটের আগে নিজ দলের আইনপ্রণেতাদের বিরোধিতার মুখে পড়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ক্ষমতাসীন দলের প্রায় ২৪ জন সংসদ সদস্য অনাস্থা ভোটে ইমরানের বিপক্ষে ভোট দেয়ার হুমকি দিয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।
এর ফলে ক্ষমতা ধরে রাখতে ইমরান খানকে বেশ চাপের মুখে পড়তে হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। গেল সপ্তাহে পাকিস্তান মুসলিম লীগ- নওয়াজ ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রায় ১শ’ জন আইনপ্রণেতা দেশটির পার্লামেন্টে ইমরান খানের বিপক্ষে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। পাকিস্তানে বেড়ে চলা অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রাস্ফীতির জন্য ইমরান খান ও তার দল তেহরিক ই ইনসাফকে দায়ী করেন তারা। ২১শে মার্চ পার্লামেন্টে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনার পর এ মাসের শেষের দিকে অনাস্থা ভোট হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যদি অনাস্থা প্রস্তাব সফল হয়, সে ক্ষেত্রে ২৭ শতাংশ পাকিস্তানি মনে করেন শেহবাজ শরিফের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হওয়া উচিত। আর ১৭ শতাংশ বিলাওয়াল ভুট্টোকে এ পদে দেখতে চান। অবশ্য ৬ শতাংশের পছন্দ শহীদ খাকান আব্বাসিকে।
সাধারণ নির্বাচনের পর নওয়াজ শরিফ প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে মনে করেন ১৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী। ইমরান খানই আবার প্রধানমন্ত্রী হবেন মনে করছেন ১৬ শতাংশ মানুষ। ১৪ শতাংশ মানুষ মনে করেন, শেহবাজ শরিফ প্রধানমন্ত্রী হবেন।
জরিপে অংশ নেওয়া মানুষের সর্বোচ্চ ৪৮ শতাংশ মনে করেন, অনাস্থা প্রস্তাবে ক্ষমতাসীন জোটের উচিত বিরোধীদের সমর্থন করা। অন্যদিকে, মাত্র ২৭ শতাংশ মানুষ মনে করেন, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) জোটের উচিত ইমরান খানকেই সমর্থন দেওয়া।
অনাস্থা প্রস্তাবকে সামনে রেখে ইমরান খানের পদত্যাগ করা উচিত কি না—এমন প্রশ্নে ৪৪ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ‘হ্যাঁ’সূচক জবাব দিয়েছেন। আর ৩৩ শতাংশ মানুষ মনে করেন, অনাস্থা প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তাঁর লড়ে যাওয়াই উচিত।
ইমরান খানের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছে বিরোধী দলগুলো। এ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও ভোটাভুটির জন্য অধিবেশন ডাকতে স্পিকারের প্রতি লিখিত আবেদন জানিয়েছে তারা। স্পিকার ২২ মার্চের মধ্যে অধিবেশন ডাকতে পারেন। এরপর ভোটাভুটির জন্য সাত দিন সময় পাওয়া যাবে।
পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, ৩৪২ সদস্যবিশিষ্ট নিম্নকক্ষে উত্থাপিত অনাস্থা প্রস্তাব পাসের জন্য প্রয়োজন ১৭২ ভোট। নিম্নকক্ষে পিটিআইয়ের আসনের সংখ্যা ১৫৫। এ কারণে জোটের শরিকেরা অনাস্থার পক্ষে ভোট দিলে ক্ষমতা ছাড়তে হবে ইমরান খানকে।
এদিকে বিরোধী জোটের দাবি, পিটিআইয়ের ২৮ আইনপ্রণেতা এবং সরকারি জোটের আরও কয়েকজন নেতার সমর্থন আছে তাদের সঙ্গে। সব মিলে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির ২০২ সদস্যের সমর্থন থাকার দাবি করেছে তারা।
পাকিস্তানের কোনো প্রধানমন্ত্রীই মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। দেশটির রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখেই ক্ষমতা ছাড়তে হতে পারে তারকা ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া ইমরান খানকে।