ডেস্ক রিপোর্ট

১৫ মার্চ ২০২২, ২:১৪ অপরাহ্ণ

প্রাক্তন স্ত্রীকে হত্যার দায়ে যুবকের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট টাইম : মার্চ ১৫, ২০২২ ২:১৪ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: খুলনার ডুমুরিয়ায় সাবেক স্ত্রীকে হত্যার দায়ে লিটন মোল্লা নামে (৩৭) এক যুবকের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মশিউর রহমান চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

সাত কার্য দিবসে শেষ হলো মামলাটির বিচার কার্যক্রম শেষে হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) এম ইলিয়াস খান ও শাম্মি আক্তার।

আদালতের সূত্র জানায়, নিহত পারভীন বেগম লিটন মোল্লার দ্বিতীয় স্ত্রী। হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় পারভীন আগের ঘরে আট বছরের একটি কন্যা সন্তান নিয়ে লিটনের ঘরে আসেন। বিয়ের পর কিছুদিন সংসার ভালোভাবে চললেও পরে তাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। এ নিয়ে প্রায়ই উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন লিটন মোল্লা।

হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ আগে পারভীন স্বামীকে তালাক দেন। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হন লিটন। পারভীনকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকেন তিনি। ২০২১ সালের ১৫ জুন পারভীনকে হত্যার জন্য বাড়ি থেকে শাবল ও ধারালো ছুরি নেন লিটন। দিনগত রাত ১টার দিকে ডুমুরিয়া মহিলা কলেজের পাশে শামসুর রহমানের ভাড়া বাড়িতে এসে পারভীনকে ডাকতে থাকে। সাড়া দিয়ে তিনি আবার ঘুমিয়ে থাকেন। একপর্যায়ে শাবল দিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ফেলেন লিটন। তাকে অস্বাভাবিক দেখতে পেয়ে পালানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন পারভীন। হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে পারভীনের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কোপাতে থাকেন। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য পাশের রান্না ঘর থেকে কাঠ এনে মাথায় আঘাত করেতে থাকেন।

মায়ের চিৎকার শুনে পারভীনের আট বছর বয়সী মেয়ের ঘুম ভেঙে যায়। তার চিৎকার শুনে আশপাশের বাসার লোকজন এগিয়ে এসে পারভীনকে জখম অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের বড় মেয়ে লিটনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

একই বছরের ৩০ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লিটনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ১৮ জন আদলতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাত কার্য দিবসে মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়।

শেয়ার করুন