ডেস্ক রিপোর্ট
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক :: অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ বহাল রেখে হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৬৬ পৃষ্ঠার প্রকাশ করা হয়। এ রায় পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে। আর নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেই হাজী সেলিমকে আপিল বিভাগে আবেদন করতে হবে।
এদিকে, মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য যেই হোক, দুর্নীতি করলে সাজা পেতেই হবে। হাজী সেলিমের রায়ের বিষয়ে, এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এর ফলে, সংবিধান অনুযায়ী হাজী সেলিমের এমপি পদ আর থাকবে না।
সংবিধান ও নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ন্যূনতম দু’বছর দণ্ডিত হলে সংসদ সদস্য হওয়ার ও থাকার যোগ্যতা হারান যে কেউ। মুক্তিলাভের পাঁচ বছর পার না-হওয়া পর্যন্ত ভোটে অংশ নেওয়া যায় না।
হাজী সেলিমের আইনজীবী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা বলেন, হাইকোর্টের রায়ে হাজী মোহাম্মদ সেলিম সাহেবকে এক মাসের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে। হাজী মোহাম্মদ সেলিমের সঙ্গে কথা বলেছি। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে এক মাসের মধ্যে বিচারিক আদালতে সারেন্ডার করে সুপিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দায়ের করবো।
২০২১ সালের ৯ই মার্চ বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। রায়ে ১০ বছরের দণ্ড বহাল থাকলেও তিন বছরের দণ্ড থেকে খালাস পান হাজী সেলিম।
এর আগে, ২০০৭ সালের ২৪শে অক্টোবর হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ মামলায় ২০০৮ সালের ২৭শে এপ্রিল তাকে দুই ধারায় ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত।
২০০৯ সালের ২৫শে অক্টোবর এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন হাজী সেলিম। ২০১১ সালের ২রা জানুয়ারি হাইকোর্ট এক রায়ে তার সাজা বাতিল করেন। পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে দুদক। ওই আপিলের শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ১২ই জানুয়ারি হাইকোর্টের রায় বাতিল করে পুনরায় হাইকোর্টে শুনানির নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।