ডেস্ক রিপোর্ট

১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ৫:২০ অপরাহ্ণ

চীনে আবাসনখাতে সংকট: ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অর্থনীতি

আপডেট টাইম : ফেব্রুয়ারি ১, ২০২২ ৫:২০ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ভালো যাচ্ছে না চীনের আবাসন ব্যবসা । দেশটিতে এ খাত সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে ২০২১ সালের শেষের দিকে। সম্প্রতি এ শিল্পকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে চীন। বিনিয়োগকারী জর্জ সোরোস এমনটাই জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারি) সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সোমবার স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির হুভার ইনস্টিটিউশনে এক বক্তৃতায় এই বিলিয়নিয়ার বলেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সমস্যাগ্রস্ত শিল্পে আস্থা ফিরিয়ে আনতে নাও পারেন। ডেভেলপারদের ক্রমাগত খেলাপি, জমি ও অ্যাপার্টমেন্টের দাম কমে যাওয়ার কারণে দেশটির আবাসনখাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

টেকসই মডেল ছাড়াই চীনের আবাসন খাত ফুলেফেঁপে উঠেছিল। যাতে উপকৃত হয়েছে স্থানীয় সরকার। এখাতে মানুষ তাদের সঞ্চয়ের সিংহভাগ বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হয়।

সরকারের আবাসন নীতির ফলে ঋণগ্রস্ত আবাসন কোম্পানি এভারগ্র্যান্ড তাদের ঋণ পরিশোধে সক্ষম হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

জানা গেছে, ডেভেলপার কোম্পানিটি ৩০ হাজার কোটি ডলারের ঋণের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। এভারগ্র্যান্ড ঋণদাতাদের অর্থ শোধ করার জন্য কয়েক মাস ধরে হিমশিম খাচ্ছে।

একটি পুনর্গঠন তদারকি করার জন্য কোম্পানিটিতে সরকারি কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে। তবে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে সে ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। এদিকে অর্থ পরিশোধের জন্য এভারগ্র্যান্ড আরও সময়ের জন্য আবেদন করেছেন। কিন্তু কিছু ঋণদাতা অপেক্ষা করতে অনিচ্ছুক।

জর্জ সোরোস বলেন, কর্তৃপক্ষ কীভাবে সংকট মোকাবিলা করবে সেটাই এখন দেখার বিষয়। চীনের উন্নয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত সে সম্পর্কে একটি প্যানেল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

সোরোস সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শি ও চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির একজন বিশিষ্ট সমালোচক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। কিংবদন্তি এই বিনিয়োগকারী ও ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের চেয়ার সেপ্টেম্বরে বলেন, অ্যাসেট ম্যানেজার ব্ল্যাকরক চীনে আরও ব্যবসা করে একটি দুঃখজনক ভুল করছেন। তিনি বেইজিংয়ের নজরদারি নীতি ও ব্যক্তিগত ব্যবসার ওপর কঠোর পদক্ষেপেরও সমালোচনা করেন।

বেইজিংয়ে শীতকালীন অলিম্পিক শুরুর কয়েকদিন আগে সোরোস জানান, চীনা প্রেসিডেন্ট এখন সম্পত্তির বাজার নিয়ে ঝুঁকির সম্মুখীন।

চীনের প্রেসিডেন্ট আবাসন শিল্পে আস্থা ফেরাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে পারবেন। তবে তিনি সে পদক্ষেপ যথাযথভাবে নেবেন কি না সেটাই বড় প্রশ্ন।

বিশ্লেষকরা দীর্ঘদিন ধরে উদ্বিগ্ন ছিলেন যে এভারগ্র্যান্ডের পতন চীনের আবাসন বাজারের জন্য ব্যাপক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি বাড়ির মালিকদের ও বৃহত্তর আর্থিক ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। চীনের ডিডিপিতে আবাসনসহ সংশ্লিষ্টখাত ৩০ শতাংশ অবদান রাখে।

চীনের অর্থনীতি গত বছর ৮ দশমিক এক শতাংশ প্রসারিত হয়। যা সরকারের নিজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। তবে আবাসনখাতে সংকট ও করোনার নতুন ধরনের কারণে বছরের শেষ দিকে প্রবৃদ্ধি দুর্বল হয়ে যায়।

এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ২০২২ সালে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নাটকীয়ভাবে ৪ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসবে বলে আশা করছে।

শেয়ার করুন