ডেস্ক রিপোর্ট

২২ জানুয়ারি ২০২২, ৯:০৮ পূর্বাহ্ণ

অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি শাবিপ্রবির ১৩ অনশনকারী

আপডেট টাইম : জানুয়ারি ২২, ২০২২ ৯:০৮ পূর্বাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক :: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে টানা চতুর্থদিনের মতো অনশন করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এপর্যন্ত অন্তত ১৩ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে আমরণ অনশনে অসুস্থ হয়ে বেশিরভাগই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বাকিদের শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে বলে জানান চিকিৎসক।

সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নাজমুল হাসান বলেন, তারা ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়েছেন। তাদের বিপি ও পালস ফল করছে। এছাড়া অন্যান্য ক্রিটিকাল অবস্থা তৈরি হচ্ছে। আমরা তাদের হাসপাতালে রেফার্ড করে দিচ্ছি কারণ এখানে আমাদের ক্লোজ মনিটরিংয়ের সুযোগ নেই। যদি এভাবে চলমান থাকে তবে অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাবে।

এদিকে, প্রচন্ড ঠান্ডায় শারিরীকভাবে ভেঙে পড়লেও দাবি আদায়ে মানসিক দৃঢ়তার কথা জানান অনশনকারীরা।

তারা বলেন, একটু পর পর চেক করতে হচ্ছে কারও শরীরে গ্লুকোজ কমে যাচ্ছে বা বিপি ফল করছে কিনা। আমরা একটাই জিনিস চাই উপাচার্যের পদত্যাগ। যত কষ্টই হোক আমরা আমাদের অনশন জারি রাখব এই নির্লজ্জ ও বেহায়া ভিসির পদত্যাগ দাবিতে। আমাদের অনশনের প্রায় ৪৪ ঘণ্টা পার হতে চলেছে। এ সময়ে এক ফোঁটা পানিও গ্রহণ না করায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে অনেকেই। খাবার গ্রহণ না করলে জীবন সংশয় হতে পারে ডাক্তাররা বারবার এই সতর্কবাণী দেয়া সত্ত্বেও তারা এখনও অনশন ভাঙতে রাজি হননি। অনশনস্থলে থাকাদের মধ্যে বর্তমানে বাকিদের স্যালাইন দেয়া হচ্ছে। যত কষ্টই হোক, যত ত্যাগই স্বীকার করতে হোক, ভিসির পদত্যাগের আগ পর্যন্ত আমরা অনশন জারি রাখব।

এদিকে, শুক্রবার বিকেলে শিক্ষামন্ত্রী ফোনে আন্দোলনকারীদের ঢাকায় এসে আলোচনার অনুরোধ জানালে রাজী হয় তারা। তবে কয়েকঘণ্টার মধ্যেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে আন্দোলনকারীরা। অনশনকারীদের শারীরিক অবস্থা দেখভালের কারণ দেখিয়ে ভার্চুয়াল মিটিংয়ের প্রস্তাব করে আন্দোলনকারীরা।

দিনভর সাবেক শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা শিক্ষার্থীদের খোঁজ নেন। তবে, কথা বলতে রাজি হননি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।

উল্লেখ্য, তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি আদায় না হওয়ায় রবিবার বিকেলে মিছিল থেকে উপাচার্যকে ধাওয়া করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। হামলা এড়াতে আইসিটি ভবনে আশ্রয় নেন উপাচার্য। এসময় সেই ভবনে তালা দিয়ে ভিসিকে অবরুদ্ধ করে চলে বিক্ষোভ। দফায় দফায় শিক্ষক প্রতিনিধিরা আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়, পরে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় পুলিশ। আলোচনায় ব্যর্থ হয় পুলিশও। এক পর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে ও লাঠিচার্জ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। প্রায় ৩ ঘন্টা পর পুলিশি অভিযানে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করা হয় শাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে। এ সময় সংঘর্ষে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পুলিশসহ আহত হয় অর্ধশতাধিক। আহতদের মধ্যে অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী।

এরপর পরিস্থিতির অবনতি হলে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। সন্ধ্যায় পুলিশ ও শিক্ষার্থীর মধ্যে সংঘর্ষের পর এক জরুরি সভায় শাবিপ্রবির ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের এই সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। এছাড়া, শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট জাফরিন আহমেদ লিজা পদত্যাগ করেছেন, তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন অধ্যাপক ড. নাজিয়া চৌধুরী।

শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি এখন এক দফায় পরিণত হয়েছে যা হলো উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ।

শেয়ার করুন