ডেস্ক রিপোর্ট

৩০ ডিসেম্বর ২০২১, ৭:২৫ অপরাহ্ণ

৩০ ডিসেম্বর ‘কালো দিবস’ হিসেবে বগুড়ায় বাম জোটের সমাবেশ

আপডেট টাইম : ডিসেম্বর ৩০, ২০২১ ৭:২৫ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

বগুড়া প্রতিনিধি:: ভোট ডাকাতির তিন বছর: ৩০ ডিসেম্বর ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালন করলো বাম গণতান্ত্রিক জোট বগুড়া জেলা শাখা। ভোট ডাকাতির তিন বছর, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী দু:শাসন রুখে দাঁড়ান, নির্বাচন কমিশন পুণগঠনে আইন প্রনয়ণ করুন এবং জনগণের সংগ্রামী ঐক্য জোরদার করুন, বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ে তুলুন এই আহবানে-বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশহিসাবে আজ-৩০ ডিসেম্ব ২০২১ বেলা: ১১:০০ টায় সাতমাথায় মানববন্ধন-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাম গণতান্ত্রিক জোট বগুড়া জেলার নেতা সিপিবি বগুড়া জেলা সভাপতি কমরেড জিন্নাতুল ইসলাম জিন্নাহ্, মানববন্ধন-সমাবেশ কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য রাখেন বাসদ বগুড়া জেলার আহবায়ক কমরেড এ্যাড.সাইফুল ইসলাম পল্টু, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক আব্দুর রশিদ, সিপিবি জেলা নেতা কমরেড সন্তষ কুমার পাল, বাসদ বগুড়া জেলা সদস্য দিলরুবা নূরী, শ্যামল বর্মন প্রমূখ।

সভাপতির বক্তব্যে কমরেড জিন্নাতুল ইসলাম জিন্নাহ্ বলেন, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ কথিত নির্বাচনের পর এদেশে নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী ব্যবস্থা বলে কিছু আর অবশিষ্ট নেই। সরকারি দল আওয়ামী লীগের ভোট ডাকাতির সহযোগী হিসাবে নির্বাচন কমিশনও তার গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। সরকার ও সরকারি দলের কোন অন্যায় , অপরাধ এবং দেশ ও জণগনের স্বার্থ বিরোধী কোনো তৎপরতাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে এমন কোন প্রতিষ্ঠান আর রাখা হয়নি। বিচার ব্যবস্থাসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে দুর্বল ও অকার্যকর করে ফেলা হয়েছে। স্বাধীনতার ৫০ বছরেও নির্বাচন কমিশন গঠনে আমরা আইন প্রনয়ন করতে পারিনি। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ নানা অগণতান্ত্রিক কালা-কানুনের মাধ্যমে সরকার ও সরকারি দলের জবরদস্তিমুলক কর্তৃত্ব নিরঙ্কুশ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকেন্দ্রিক ক্ষমতার চরম অগণতান্ত্রিক স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামো আরো পাকাপোক্ত করা হয়েছে। পরিবারতন্ত্রকে নতুনভাবে জোরদার করা হচ্ছে। বাস্তবে দেশে যা চলছে তা ভিন্ন পোশাকে নব্য একদলীয় ফ্যাসিবাদী দু:শাসন।

কমরেড সাইফুল ইসলাম পল্টু বলেন, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর এক নজিরবিহীন ভোট ডাকাতির মধ্য দিয়ে গঠিত সংসদ ও সরকার তিন বছর পার করছে। প্রশাসন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের তত্ত¡াবধানে সরকার ৩০ ডিসেম্বর ভোট ২৯ ডিসেম্বর রাতে ব্যালট পেপারে সিল মেরে ভোট জালিয়াতির এক চরম কলঙ্কজনক নজির স্থাপন করে আওয়ামীলীগ ক্ষমতাসীন হয়েছে। ভোটের ৬ মাস পর নির্বাচন কমিশন প্রদত্ত তথ্য থেকেও সীমাহীন অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে এসেছে। অনেক কেন্দ্রে শূন্য ভোট আবার অনেক কেন্দ্রে ১০০ শতাংশ ভোট পড়ার আজগুবি তথ্য দেয়া হয়েছে। এটা স্পস্ট যে, ভোট ডাকাতি ও ভুয়া নির্বাচনের মধ্যদিয়ে গঠিত এই সরকার রাজনৈতিক ও নৈতিক বৈধতা বলে কিছু নেই। বাস্তবে সমগ্র রাষ্ট্র যন্ত্রকে ব্যবহার করে গায়ের জোরে সরকার তার অবৈধ ও অনৈতিক ক্ষমতা টিকিয়ে রাখছে।

সমাবেশে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন, আওয়ামী দু:শাসনে আজ দেশে চুরি, দুর্নীতি, লুন্ঠন, অর্থপাচার, চাঁদাবাজি, দখল-জবরদখল, দলীয়করণ- দলবাজি, স্বেচ্ছাচারিতা অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। সন্ত্রাস, অপহরণ, হত্যা, খুন, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, সামাজিক অনাচারের রোমহর্ষক ঘটনাবলি বেড়েই চলছে। সরকার , প্রশাসন ও লুটেরা ব্যবসায়ীদের শক্তিশালী সিন্ডিকেটসমূহ এখন প্রায় একাকার। বাজারের উপরের সরকারের কোন নিয়ন্ত্রন না থাকায় নিত্য প্রয়োজনীয় প্রতিটি জিনিসের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। অপরদিকে কৃষক তার উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম পায় না।

নেতৃবৃন্দ বলেন যে পুঁজিবাদী- ভোগবাদী ব্যবস্থা বর্তমানে দেশ পরিচালিত হচ্ছে তার অবসান না হলে সরকার বদল হওয়া সত্তে¡ও জণগনের দুর্গতির মৌলিক কোন পরিবর্তন হবে না । তাই ফ্যাসবাদী দু:শাসনের অবসানের পাশাপাশি বর্তমান লুটপাট ও বৈষম্যের ব্যবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করা আজ অপরিহার্য এবং ফ্যাসিবাদী দু:শাসনের বিরুদ্ধে বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তুলতে দেশবাশীর প্রতি আহবান জানান।

শেয়ার করুন