ডেস্ক রিপোর্ট

৩ ডিসেম্বর ২০২১, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ

সিডিএ কর্তৃক পতেঙ্গা সি বিচ ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করার দাবি

আপডেট টাইম : ডিসেম্বর ৩, ২০২১ ৭:৩৩ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

পতেঙ্গা সি বিচে প্রতিবাদী সমাবেশ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:: সিডিএ কর্তৃক পতেঙ্গা সি বিচ বেসরকারি অপারেটরকে ইজারা দেওয়া ও প্রবেশমূল্য নির্ধারণের গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করার দাবিতে আজ বিকাল ৪ টায় পতেঙ্গা সি বিচে প্রতিবাদী সমাবেশ করেছে বাসদ(মার্কসবাদী) চট্টগ্রাম জেলা শাখা।

বাসদ(মার্কসবাদী) চট্টগ্রাম জেলা সদস্যসচিব শফি উদ্দিন কবির আবিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের জেলা নেতৃবৃন্দ যথাক্রমে ইন্দ্রানী ভট্টাচার্য্য সোমা,জাহেদুন্নবী কনক,দীপা মজুমদার প্রমুখ। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী সিঞ্চন ভৌমিক।

সমাবেশে বক্তারা বলেন,”পতেঙ্গা সি বিচ চট্টগ্রামবাসীর বিনোদনের একমাত্র উম্মুক্ত স্থান। নগরজীবনের ক্লান্তি কাটাতে সাধারণ মানুষ সাপ্তাহিক ছুটি বা সরকারী ছুটির দিনে বা যে কোন উৎসবের দিন ছুটে আসে পতেঙ্গা বিচে। অথচ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা সিডিএ সাধারণ মানুষের এ স্বস্তির জায়গাটুকু কেড়ে নিতে চায়।পতেঙ্গা সি বিচকে আন্তর্জাতিক মানের করার কথা বলে সিডিএ পতেঙ্গা সি বিচের ৬ কিলোমিটার ও ইপিজেড সাগরপাড়ের ৩৫ একর জায়গা দেশী-বিদেশী বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।ইজারাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান এখানে নিজেদের মতো করে বিনোদন কেন্দ্র তৈরি, বিচের রক্ষণাবেক্ষন এবং বিচের বেশিরভাগ অংশে প্রবেশের জন্য টিকেটের দাম নির্ধারণ করতে পারবে।এরমধ্যেই সিডিএ এ সম্পর্কিত প্রস্তাব গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় অনুমোদন করেছে। পতেঙ্গা সি বিচ একটি পাবলিক বিচ। হাজার বছর ধরে প্রাকৃতিক ক্রমপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠা একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। এর উপর সবার সমান ও অবাধ অধিকার প্রাকৃতিক,এ অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করা যায়না। সাগর ও সাগর পাড়,নদী,পাহাড়,উম্মুক্ত স্থান এগুলো জনগণের সম্পদ,রাষ্ট্র জনগণের স্বার্থে তা দেখভাল করে। এসব প্রাকৃতিক উম্মুক্ত স্থানে প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ বা টিকেট ধার্য করার চিন্তা আন্তর্জাতিক সমস্ত ধরণের স্বীকৃত নাগরিক অধিকার, মানবাধিকার আইন ও নিয়মনীতির সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন।

বক্তারা বলেন, সিডিএ প্রণীত চট্টগ্রাম শহরের উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য প্রণীত মাস্টার প্ল্যান ও ড্যাপ(ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানের) অনুসারেও এর কোন সুযোগ নেই।এ দুটিতেই পতেঙ্গা সি বিচকে ‘পাবলিক ওপেন স্পেস’ অর্থাৎ ‘জনগণের জন্য উম্মুক্ত স্থান’(ওপেন স্পেস) হিসেবে সংরক্ষণের জন্য বলা আছে।বাস্তবে এর পেছনে আছে নগর উন্নয়নের নামে ইজারা ও কমিশন বাণিজ্য করে শতশত কোটি টাকা লুটপাটের মুনাফালোভী সিন্ডিকেট।পতেঙ্গা সি বিচের জমির মালিকও সিডিএ নয়।মালিক না হয়ে কিভাবে তারা রাষ্ট্রীয় তথা জনগণের সম্পদ সিবিচের জায়গা ইজারা দিতে পারে ?সিডিএ আজ মিথ্যাচার করছে,পৃথিবীর অনেক দেশে নাকি এমন উদাহরণ আছে।অথচ পৃথিবীর কোন দেশেই পাবলিক বিচে প্রবেশের জন্য নাগরিকদের টাকা দিতে হয়না।জনগণের জন্য উন্নত বিনোদনের কথা বলে রেল কর্তৃপক্ষ ফয়েজ লেক বানিজ্যিক কনকর্ড কোম্পানিকে ইজারা দিয়েছিল।সাধারণ মানুষ আর সেখানে ঢুকতে পারেনা।জনপ্রতি ৩৫০ টাকার টিকেট দিয়ে কয়জনের সামর্থ্য আছে?কনকর্ড চুক্তি ভঙ্গ করে ফয়েজলেকে নানা স্থাপনা করার জন্য গাছপালা-টিলা কেটে পরিবেশ ধ্বংস করেছে,লেকের পানি দূষিত করেছে।যেকারণে রেল সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি কনকর্ডের সাথে ইজারা বাতিলের সুপারিশ করেছে।পতেঙ্গা সি বিচেরও যে একই পরিণতি হতে যাচ্ছে,তা আজ সাদা চোখেই বলা যায়।এছাড়া উম্মুক্ত পতেঙ্গা বিচকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে।বেসরকারী অপারেটরকে ইজারা দিলে সে মানুষগুলোও উচ্ছেদ হবে, জীবিকা হারিয়ে পথে বসবে। অবিলম্বে সিডিএ এ গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল না করলে নগরবাসীকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।“

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন,”আমরা স্পষ্ট বলতে চাই,আমরা নগরের উন্নয়ন চাই।পতেঙ্গা বিচে জনগণের বিনোদন ও উন্নত সুযোগসুবিধা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হোক।তবে অবশ্যই তা হতে হবে হাজার বছরে গড়ে উঠা প্রাকৃতিক পরিবেশ-প্রতিবেশ অক্ষুণ্ন ও জনগণের জন্য উম্মুক্ত রেখে রাষ্ট্রীয় আয়োজনে।কারণ নাগরিকদের সুস্থভাবে বাঁচা ও বিনোদনের পর্যাপ্ত আয়োজনের দায়িত্ব রাষ্ট্র এবং নগর কর্তৃপক্ষের।।আমরা নগরীতে মুক্তভাবে শ্বাস নিতে চাই।তথাকথিত উন্নয়নের নামে মুষ্টিমেয় গোষ্ঠীর স্বার্থে ইতোমধ্যেই একে একে চট্টগ্রামের পাহাড়,খেলার মাঠ,পার্ক,নদী-পুকুর সহ উম্মুক্ত স্থান ধ্বংস করা হয়েছে।সিআরবিকেও ইউনাইটেড হাসপাতাল করার নামে ধ্বংসের আয়োজন চলছে।একমাত্র অবশিষ্ট আছে পতেঙ্গা সি বিচ।এর উপর জনগণের অধিকার খর্ব করে আজ তুলে দেওয়া হচ্ছে ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর হাতে।যা কোনভাবেই চট্টগ্রামের জনগণ হতে দেবেনা”

শেয়ার করুন