ডেস্ক রিপোর্ট

১০ জুলাই ২০২১, ১১:০৪ অপরাহ্ণ

রূপগঞ্জে অগ্নি দুর্ঘটনার নামে শ্রমিক হত্যার বিচার চাই: শ্রমিক ফ্রন্ট

আপডেট টাইম : জুলাই ১০, ২০২১ ১১:০৪ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:: নারায়ণগঞ্জ এর রূপগঞ্জে অগ্নি দুর্ঘটনার নামে শ্রমিক হত্যার জন্য দায়ী মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী নিহতদের আজীবন আয়ের সমান ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের দাবিতে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংক্ষিপ্ত পরিসরে আজ দুপুর ১১ টায় ২ নং রেল গেইটে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লবের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাসদ ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক নিখিল দাস, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক
সাইফুল ইসলাম শরীফ, সহ-সভাপতি হাসনাত কবীর।

নিখিল দাস বলেন, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় অবস্থিত হাসেম ফুড লিমিটেড (সজীব গ্রুপ) এর ৬ তলা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকা-ে ৫২ জন শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করে। এর অধিকাংশই শিশু শ্রমিক। কারখানার নিচতলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হলেও মালিক কর্তৃপক্ষ কারখানা গেইট বন্ধ করে রাখে। পুরো কারখানায় দাহ্য পদার্থ থাকায় অতি অল্প সময়ে পুরো কারখানায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার বিগ্রেড ২ দিনের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণ করলেও ৪ তলা থেকে ৪৯ টি পুড়ে অঙ্গার হওয়া শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করে।

তিনি বলেন, হাসেম ফুড লিমিটেড একটি রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান হলেও এখানে বিল্ডিং কোড মানা হয়নি। পর্যাপ্ত অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়নি। কারখানাময় প্রচুর দাহ্য পদার্থে ব্যবহার থাকলেও বিষ্ফোরক অধিদপ্তরের অনুমতি নেয়া হয়নি এবং যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেয়া হয়নি। এ কারখানায় কর্মরত অধিকাংশই শিশু শ্রমিক ছিল। নারায়ণগঞ্জে শক্তিশালী কলকারখানা অধিদপ্তর থাকলেও হাসেম ফুড লিমিটেড আইন লঙ্ঘন করে কারখানা পরিচালনা করার বিষয়ে তারা কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রম আইন বাস্তবায়ন এবং শ্রমিকের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ মালিকদের স্বার্থরক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। যার ফলে স্পেকট্রাম, তাজরিন, রানাপ্লাজার মত ঘটনা ঘটার পরেও আজও শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্র, চাকরি বা জীবনের ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেল না। বাস্তবে অতীতের এ সকল ঘটনায় দায়ী মালিকসহ দায়িত্বরত সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হলে রূপগঞ্জে এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতো না।

নিহত শ্রমিকদের জন্য শ্রমমন্ত্রীর ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করে নেতৃবৃন্দ বলেন, আইএলও কনভেনশন ১২১ ধারা মোতাবেক নিহত প্রত্যেক শ্রমিককে আজীবন আয়ের সমান (হিসাব মতে ৫০ লাখ টাকা) ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

নেতৃবৃন্দ রূপগঞ্জের অগ্নিকান্ডের ঘটনা দুর্ঘটনা না বলে হত্যাকান্ড অভিহিত করে এরজন্য দায়ী মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

শেয়ার করুন