ডেস্ক রিপোর্ট

২০ নভেম্বর ২০২১, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ

সিপিবি সিলেটের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

আপডেট টাইম : নভেম্বর ২০, ২০২১ ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: আগামী ১০ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র দ্বাদশ কংগ্রেস উপলক্ষে সিপিবি সিলেট জেলার সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত। শুক্রবার (১৯ নভেম্বর ) সকাল ১১টায় পার্টি অফিসে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলা কমিটির সংগ্রামী সভাপতি কমরেড হাবিবুল ইসলাম খোকা’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড আনোয়ার হোসেন সুমন এর সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম মেম্বার কমরেড অনিরুদ্ধ দাস অঞ্জন।

সভায় প্রেসিডিয়াম মেম্বার কমরেড অনিরুদ্ধ দাস অঞ্জন আসন্ন দ্বাদশ কংগ্রেসের খসড়া দলিলের ব্যাখ্যাসহ দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে অংশগ্রহণ করেন সিপিবি সিলেট জেলা নেতা কমরেড ডা. বীরেন্দ্র চন্দ্র দেব, জেলার সহকারি সাধারণ সম্পাদক কমরেড খায়রুল হাছান, সাথী রহমান, আনিসুর রহমান, এনায়েত হাসান মানিক, তুহিন কান্তি ধর, নিরঞ্জন দাস খোকন, বিধান দেব, ফজলুর রহমান শিপু, রতন দেব, আরিফ হোসেন সুমন, লুৎফুল হক চৌধুরী, নিজাম আবুল, দেবব্রত পাল, রজত দাস, রাজু চক্রবর্তী, রশীদ আহমদ রাশেদ, বিজীত আচার্য্য, সন্দ¦ীপ দাস, নাবিল এইচ, মনিষা ওয়াহীদ প্রমুখ।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কমরেড অনিরুদ্ধ দাস অঞ্জন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও তেল পাচারের অজুহাত দেখিয়ে ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য মধ্যরাতে হঠাৎ করে লিটার প্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধির ঘোষণায় দেশবাসী বিস্মিত হয়েছে। এ যেনো ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মালিক শ্রেণির স্বার্থে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে কৃষি, পরিবহন, শিল্প ও বিদ্যুত খাতে এবং কাঁচা বাজারে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। ইতোমধ্যে বাস ও লঞ্চ এর ভাড়া ২৭% ও ৩৬% বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু পরিবহন মালিকেরা বিআরটিএ ঘোষিত বর্ধিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করছে। সরকার ও পরিবহন মালিকদের সাজানো নাটকের মাধ্যমেই এই ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে যাতে মালিকরা জনগণের পকেট কেটে বাড়তি মুনাফা তুলে নিতে পারে।

সভায় বক্তারা বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে দেশের লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে, দারিদ্রতার হারও অনেক বেড়ে গেছে। এমনিতেই চাল, ডাল, তেল, চিনি, সবজি, পেঁয়াজসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবনে দুর্বিসহ অবস্থা বিরাজ করছে। কিন্তু সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ না করে সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দিয়েছে। তার উপর জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি ও পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধিতে জনগণ দিশেহারা হয়ে পড়ছে। দেশ আজ লুটেরা সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। ক্ষমতাসীন সরকার সাম্প্রদায়িক শক্তির সাথে আপোষরফা করছে, ধনিক শ্রেণির লুটেরা সিন্ডিকেটকেও তোষণ করছে। এ অবস্থা চলতে দেওয়া যায় না।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ডিজেল, কেরোসিন, এলপিজির বর্ধিত মূল্য এবং পরিবহনের বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান। দেশের শাসনব্যবস্থার এই জনস্বার্থবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে এবং ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশের বাম-প্রগতিশীল-গণতান্ত্রিক শক্তিকে এগিয়ে আসার জন্য বক্তারা আহ্বান জানান।

সভার শুরুতে প্রয়াত কমরেড শ্রীকান্ত দাশ ও কমরেড ভবতোষ চৌধুরীর স্মৃতির স্মরণে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

শেয়ার করুন