ডেস্ক রিপোর্ট

১৪ জুন ২০২১, ৭:৫১ অপরাহ্ণ

গার্ড অব অনারে নারী ইউএনও এর বিকল্প প্রস্তাবের প্রতিবাদ

আপডেট টাইম : জুন ১৪, ২০২১ ৭:৫১ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর পর গার্ড অব অনার দেওয়ার ক্ষেত্রে নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিকল্প চেয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে এ প্রস্তাব প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে আজ ১৪ জুন ২০২১ প্রগতিশীল নারী সংগঠন সমূহের সমন্বয়ক ও সিপিবি নারী সেলের আহ্বায়ক লক্ষ্মী চক্রবর্তী, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সভাপতি রওশন আরা রুশো, শ্রমজীবী নারী মৈত্রীর সভাপতি বহ্নিশিখা জামালি, বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত, নারী সংহতির সভাপতি তাসলিমা আখতার লিমা, বিপ্লবী নারী ফোরামের সহ সাধারণ সম্পাদক আমেনা আক্তার এক যৌথ বিবৃতি প্রদান করেন ।

পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর পর গার্ড অব অনার দেওয়ার ক্ষেত্রে নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিকল্প চায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।

কমিটি বিকল্প ব্যক্তি নির্ধারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে। গতকাল ১৩ জুন ২০২১ জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। সুপারিশে বলা হয়, ‘সাধারণত নারীরা জানাজায় অংশ নেন না। জানাজার সঙ্গে ধর্মীয় অনুভূতির একটি বিষয় আছে। এটি নিয়ে সমাজে অনেকে প্রশ্ন তোলেন। তাই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গার্ড অব অনার দেওয়ার ক্ষেত্রে যেখানে নারী ইউএনও আছেন, সেখানে বিকল্প একজন পুরুষ কর্মকর্তা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বা এ ধরনের কোনো কর্মকর্তাকে বিকল্প রাখা যেতে পারে।’

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সংসদীয় কমিটির এ প্রস্তাব নারীর জন্য অবমাননাকর, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংবিধানবিরোধী।

নেতৃবৃন্দ বলেন, গার্ড অব অনার আর জানাজা এক বিষয় নয়। গার্ড অব অনার একটি রীতি, কোন ধর্মীয় কার্যকলাপ নয়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সংবিধানের ২৮ (১) অনুচ্ছেদে আছে, ‘কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদে বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবে না’; সংবিধানের ২৮ (২) অনুচ্ছেদে আছে, ‘রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন’।

নেতৃবৃন্দ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আইন প্রণয়নের ক্ষমতাধারী সংসদ সদস্যগণ কিভাবে সংবিধান বিরোধী সুপারিশ করতে পারেন? এবং আরও দুঃখজনক নারী পুরুষের মিলিত অংশগ্রহণে যে মুক্তিযুদ্ধ; যার মূল চেতনায় নারী পুরুষের সমতার গণতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের কথা বলা হয়েছে; এখন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এমন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী সুপারিশ করা হচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে সরকার নিজেদেরকে রোল মডেল বলে দাবি করে থাকেন। এ ধরনের সুপারিশ নারীর অযাত্রার পথে বাধা। সমাজে নারীকে অধস্তন করে রাখার পশ্চাদপদ দৃষ্টিভঙ্গিকেই সহযোগিতা করবে এই প্রস্তাব।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী, সংবিধান পরিপন্থি ও নারীর প্রতি অবমাননাকর এই প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানান ।

 

শেয়ার করুন