ডেস্ক রিপোর্ট

২০ নভেম্বর ২০২১, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ

‘খাসিয়া সম্প্রদায় নিয়ে পরিবেশ মন্ত্রীর বক্তব্য বর্ণবাদী মনস্তত্ত্বের নির্লজ্জ বহিঃপ্রকাশ’

আপডেট টাইম : নভেম্বর ২০, ২০২১ ১১:৪৫ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: খাসিয়া সম্প্রদায় সম্পর্কে পরিবেশ মন্ত্রীর বক্তব্য এই স্বৈরাচারী সরকারের নির্লজ্জ বর্ণবাদী মনস্তত্ত্বেরই নগ্ন প্রকাশ বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘বন্য প্রাণীর অবৈধ বাণিজ্য দমনে আইন প্রয়োগ শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি পরামর্শ সভা আয়োজিত হয়।সেই সভার প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘পাহাড়েও বন্য পশু নিরাপদ নয়। আমাদের খাসিয়া সম্প্রদায়ের অনেকে পাহাড়ে পান চাষ করে। আরও অনেকে আছে। তারা পাহাড়ের ভেতরে গিয়ে বসবাস করছে, যে কারণে বন্য পশু সেখানেও নিরাপদ নয়।’

এই বক্তব্যকে সরকারের দ্বিচারী ও বর্ণবাদী মনস্তত্ত্বের নির্লজ্জ বহিঃপ্রকাশ আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজির আমীন চৌধুরী ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রাগীব নাঈম বলেন, “ পরিবেশ মন্ত্রীর বক্তব্য জলবায়ু ও প্রকৃতি প্রসঙ্গে সরকারের দ্বিচারিতারই আরও একটি উদাহরণ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন এই স্বৈরাচারী সরকার যেমন এক দিকে পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনভূমি সুন্দরবনে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে করতে অন্য দিকে আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলোতে গিয়ে বাংলাদেশের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে কুমিরের কান্না কাঁদে, একইভাবে এই সরকারের জলবায়ু মন্ত্রী বন-জঙ্গল উজাড় করার সময় নিশ্চুপ থেকে উল্টো একটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করার ইচ্ছা হলে প্রকৃতি রক্ষাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করেন। তাঁর বক্তব্যে আমরা অবাক না হলেও ক্ষুব্ধ। খাসিয়া সম্প্রদায় সম্পর্কে পরিবেশ মন্ত্রীর বক্তব্য, বস্তুত এই সরকারের নির্লজ্জ বর্ণবাদী মনস্তত্ত্বেরই নগ্ন প্রকাশ।”

ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা আরও বলেন, “দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অবগত থাকলে একজন মন্ত্রীর এহেন বক্তব্যকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগই থাকে না। আমরা দশকের পর দশক ধরে দেখে আসছি কীভাবে খাসিয়া সম্প্রদায়ের পূর্বপুরুষের ভিটা থেকে তাদের উচ্ছেদ করার জন্য ষড়যন্ত্র হয়ে চলেছে, বহু ক্ষেত্রে তা সফলও হয়েছে। তাদের ভূমি থেকে তাদের উৎখাত করে সেখানে চা-বাগান তৈরির ইচ্ছা ও নির্বিচারে সেই ভূমির গাছ কেটে তা বিক্রি করে দেওয়ার যে লিপ্সা ঐ অঞ্চলের ধনিক শ্রেণীর রয়েছে, এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সেই দুরভিসন্ধিকেই নতুন করে উৎসাহ দেওয়া হল। এই বছরের আগস্ট মাসেও মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার বেলুয়া পুঞ্জিতে প্রায় ২৮০০ জুম পানের গাছ কেটে ফেলা হয়েছিল। এতে ঐ অঞ্চলের খাসিয়াদের বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। সংবাদমাধ্যম থেকে আমরা জেনেছিলাম যে এই গাছ কাটার সাথে স্থানীয় প্রশাসন সরাসরি যুক্ত ছিল। কাজেই, তখন মন্ত্রী মহাশয়কে আমরা কোনো বক্তব্যই দিতে শুনিনি। এক দিকে খাসিয়াদের চিরাচরিত জীবিকাকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত উপায়ে ধ্বংস করে তাদের বাস্তুচ্যুত করা হচ্ছে। অন্য দিকে তারা বাঁচার জন্য অন্য জীবিকা খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে বর্ণবাদী মিথ্যাচার চালানো হচ্ছে।

এই বর্ণবাদী, স্বৈরাচারী সরকারের বিভাজনের রাজনীতিকে মোকাবিলা করতে হলে বাঙালি ও আদিবাসী সম্প্রদায়সমূহকে যূথবদ্ধ হতে হবে। আমরা বারংবার জনগণের কাছে সেই আহ্বানই জানিয়ে যাচ্ছি।“

শেয়ার করুন