ডেস্ক রিপোর্ট

১ নভেম্বর ২০২১, ১০:৩৮ অপরাহ্ণ

ভাংড়ির দোকানে মিলছে করোনা টিকার সিরিঞ্জ-ভায়াল!

আপডেট টাইম : নভেম্বর ১, ২০২১ ১০:৩৮ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: ব্যবহারের পর টিকার সিরিঞ্জ ও ভায়াল ধ্বংস বা পুড়িয়ে ফেলার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও, তা না করে ভাংড়ির দোকানে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের কর্মচারীদের বিপক্ষে।

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় বিভিন্ন ভাংড়ির দোকানে মিলছে করোনাভাইরাসের টিকার সিরিঞ্জ-ভায়াল। কার্টুন কার্টুন সিরিঞ্জ আর ভায়েল এখন ভাংড়ির দোকানে দোকানে ঘুরছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে শৈলকুপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনাভাইরাসের যে টিকা দেয়া হয়েছে সেসব সিরিঞ্জ আর ভায়াল পুড়িয়ে না ফেলে বা ধ্বংস না করে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে ভাংড়ির দোকানগুলিতে।

দোকানীরা জানান, হাসপাতালের কর্মচারীরা এসে তাদের দোকানে এসব বিক্রি করে যাচ্ছে । শৈলকুপার কবিরপুরে কবি গোলাম মোস্তফা সড়কে মা ক্রেকারিজ স্টোরে দেখা গেছে টিকা দেয়ার কাজে ব্যবহৃত পাঁচ কার্টুনের বেশি সিরিঞ্জ ও ভায়াল। দোকানটিতে রবিবার দুপুরে হাসপাতালের কর্মচারীরা এসে কার্টুন আর বস্তা ভর্তি সিরিঞ্জ-ভায়েল বিক্রি করেছে। ৪০ টাকা কেজি দরে এসব তারা কিনেছে। ভাংড়ির দোকানদার আব্দুল মান্নান জানান, তারা ভাংড়ি হিসাবে কিনেছেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইপিআই টেকনিশিয়ান বিজন কুমারের দায়িত্ব করোনাভাইরাসের এসব টিকার সামগ্রী দেখভালের দায়িত্ব। রোগীদের টিকা দেয়ার পর এই টেকনিশিয়ান এসব স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ সামগ্রী পুড়িয়ে না ফেলে বিক্রি করে দেন। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসাবে দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, সরকার এসব ব্যবহৃত সামগ্রী ধ্বংস বা পুড়িয়ে ফেলার জন্য তেল পর্যন্ত সরবরাহ করে থাকে অথচ সমস্ত নিয়ম ভঙ্গ করে তিনি এসব বিক্রি করে দিচ্ছেন। অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে যেসব করোনা টিকার সামগ্রী দেয়া হয়, সেসবের ব্যবহৃত সিরিঞ্জ আর ভায়ালও অরক্ষিত বা বিক্রি করে দেয়া হয়েছে।

এই ব্যাপারে শৈলকুপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইপিআই টেকনিশিয়ান বিজন কুমারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, কার্টুনসহ সিরিঞ্জ বাহিরে যাওয়া বা বিক্রির কোনও নিয়ম নেই। তার অধীনে থাকা সিরিঞ্জ-ভায়াল পুড়িয়ে ফেলেছেন। কিভাবে এসব বিক্রি হচ্ছে তা তিনি জানেন না বলে দাবি করছেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক কনক রহমান জানান, বিষয়টির ব্যাপারে দ্রুত খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। এসব সরঞ্জাম কোনও অবস্থাতেই পাবলিকের হাতে বা বাহিরে বিক্রির কথা নয়।

শেয়ার করুন