ডেস্ক রিপোর্ট

২৯ অক্টোবর ২০২১, ১১:৩৭ অপরাহ্ণ

চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা দাবি

আপডেট টাইম : অক্টোবর ২৯, ২০২১ ১১:৩৭ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

সিলেট প্রতিনিধি:: চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ, নির্মাণ শ্রমিকদের পরিচয়পত্র প্রদান,পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো ঘোষণা,অটোরিকশা চালকদের লাইসেন্স প্রদান, হকারসহ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত সকল শ্রমিকদের রাষ্ট্রীয়ভাবে তালিকা করে রেশন প্রদানসহ ৫ দফা দাবিতে বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন, সিলেট জেলার উদ্যোগে মিছিল ও সমাবেশ।

শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় শহীদ মিনারের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়ে সিটি পয়েন্টে সমাবেশে মিলিত হয়। সংগঠন সিলেট জেলার আহবায়ক মোখলেসুর রহমান -এর সভাপতিত্বে ও প্রসেনজিৎ রুদ্র এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা জিতু সেন, চা শ্রমিক নেতা বিরেন সিং, অজিত রায়, নির্মাণ শ্রমিক নেতা রাজন ঘোষ প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন,একদিকে দ্রব্যমূল্যের বাজারে আগুন অন্যদিকে সারাদেশে সাম্প্রদায়িক বর্বরোচিত হামলা ও নির্যাতন ।সবমিলিয়ে চলমান গনবিরোধী ও স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের শাসনে জনজীবন বিপর্যস্ত। গার্মেন্টস, চা শিল্প, পাট শিল্প,চিনি শিল্প, হকার,রিক্সা -অটোরিকশা, নির্মাণসহ সব সেক্টরের শ্রমিকরা নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন।এই করোনাকালীন সময়ে বর্তমান সরকার সকল সেক্টরের শ্রমিকদের অধিকার ও স্বার্থের পরিপন্থী ভুমিকা পালন করেছে।যে চা শ্রমিকদের শ্রম,ঘামের বিনিময়ে চা মালিকের মুনাফার পাহাড় গড়ে উঠেছে সেই চা শ্রমিকদের অবস্থার দুর্দশার অন্ত নাই। নির্দিষ্ট সময় থেকে অনেক তালবাহানা করে দুই বছরের মাথায় দৈনিক মাত্র ১২০ টাকা মজুরি নির্ধারণ হয়। আবার মজুরি বৃদ্ধির নামে বিভিন্ন চা বাগানে নিরিখ বা সময় বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে যা খুব অন্যায় সিদ্ধান্ত।নেই ভূমি অধিকার,সুচিকিৎসা, পর্যাপ্ত রেশন ব্যবস্থাসহ অন্যান্য অধিকার।দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষানবিশ শ্রমিক হয়ে কাজে থাকলেও অস্থায়ী শ্রমিক স্থায়ী হয় না।ফলে অস্থায়ী শ্রমিকরা বিভিন্নভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।এরমধ্যে সরকার অন্যায়মুলক চা শ্রমিকদের আইনের গেজেট প্রকাশ করে যা আন্দোলনের মুখে স্থগিত আছে।

বক্তারা আর বলেন,বাংলাদেশে প্রায় অসংগঠিত সেক্টর এর প্রায় ২৫ লক্ষ মানুষ নির্মান সেক্টরে কাজ করেন।এর বেশির ভাগ বিভিন্ন সংকটে নিমজ্জিত গ্রামীণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় উচ্ছেদ হয়ে শহরে আসা মানুষ। ফলে কোন প্রশিক্ষণ ছাড়াই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে নির্মান শ্রমিকরা।পরিচয়পত্র না থাকা,কাজের চুক্তিপত্র না করা ইত্যাদি বিভিন্ন কারনে দূর্ঘটনার কোন দায় থাকে না মালিকের।রাষ্ট্রীয় নীতিমালা ও তদারকি না থাকাতে কাজের নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা নেই এই কাজে।অন্যদিকে শহরের পরিস্কারের ভার যাদের উপর,যারা এই শহরকে বাসযোগ্য করে তোলে সেই পরিচ্ছন্নকর্মীদের নেই সুস্থভাবে বাঁচার অধিকার। তাদের নেই কোন সামাজিক মর্যাদ।নেই সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো,বসবাসের উপযোগী ঘর।সংসার চালাতে না পেরে প্রতিনিয়ত অপরাধমূলক কার্যকলাপে যুক্ত হচ্ছেন শ্রমিকরা।

খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে সরকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা—ভ্যান বন্ধ করে প্রায় ৫০ লক্ষের বেশি অটোরিকশা শ্রমিককে কর্মচ্যুত করে পথে বসিয়েছে। এর সাথে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় আড়াই থেকে ৩ কোটি মানুষ। আবার সিলেটে মূল সমস্যাকে আড়াল করে যানজট এর অজুহাতে আম্বরখানা থেকে বন্দরবাজার পর্যন্ত সকল প্রকার রিকশা,ভ্যান,ইত্যাদি চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকার শ্রমিক স্বার্থবিরোধী কাজ করছে।অন্যদিকে হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান বরাদ্দ দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুব কম।বাধ্য হয়ে ফুটপাতে বসে প্রায়শই হয়রানী হতে হয়।অথচ সরকারের দায়িত্ব ছিল এই করোনা মহামারিতে হকারসহ সকল অসংঘটিত শ্রমজীবী মানুষদের রেশন দিয়ে খাদ্য—চিকিৎসার নিরাপত্তা দেওয়া। ফলে প্রচন্ড মানবেতর জীবনযাপন করেছে তারা এই পুরো করোনাকালীন সময়ে।

বক্তারা সফলভাবে দাবি সপ্তাহ সফল করার জন্য শ্রমিকদের অভিনন্দন জানান ও এই সমস্যা সংকট নিরসনের জন্য নিন্মোক্ত ৫ দফা দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান।

৫ দাবি :
১।চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ কর। তিন মাসের অধিক সকল অস্থায়ী শ্রমিকদের স্থায়ী কর।

২।নির্মাণ শ্রমিকদের পরিচয়পত্র প্রদান কর।প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত কর।কর্মক্ষেত্রে আহত- নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

৩।পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো ঘোষণা কর।সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত কর।

৪।অটোরিকশা চালকদের লাইসেন্স প্রদান কর।প্রশিক্ষণের আয়োজন কর,রাষ্ট্রীয় হয়রানী বন্ধ কর।

৫।হকারসহ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত সকল শ্রমিকদের রাষ্ট্রীয়ভাবে তালিকা করে রেশন প্রদান কর।হয়রানী বন্ধ কর।

শেয়ার করুন