ডেস্ক রিপোর্ট

১৯ অক্টোবর ২০২১, ১১:১৯ অপরাহ্ণ

শাল্লায় সাম্প্রদায়িক হামলার সব আসামি জামিনে মুক্ত

আপডেট টাইম : অক্টোবর ১৯, ২০২১ ১১:১৯ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক::  সুনামগঞ্জের শাল্লায় গেল ১৭ই মার্চ সাম্প্রদায়িক হামলায় গ্রেপ্তার সব আসামিই এখন জামিনে মুক্ত। আর হেফাজত নেতা মামুনুলের বক্তব্যের প্রতিবাদ করে ফেসবুকে পোস্ট দেয়া ঝুমন দাশ প্রায় সাত মাস জেল খেটে ক’দিন আগে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

আসামিরা বাইরে থাকায় নানা আশঙ্কার কথা বলছেন স্থানীয়রা। পুলিশ বলছে, মামলাগুলোর তদন্ত চলছে। ওই ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত কমিটি পুলিশ সুপারকে বদলির সুপারিশ করলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

গেল ১৫ই মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের একটি সমাবেশে হেফাজতে ইসলামের তখনকার যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের বক্তব্যের প্রতিবাদ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন পাশের শাল্লা উপজেলার যুবক ঝুমন দাশ। সেদিনই তাকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ।

তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। একদিন পর জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ১৭ই মার্চ ওই ঝুমন দাসের পোস্টকে কেন্দ্র করে শাল্লার নোয়াগাঁওয়ে হামলা করে মামুনুলের অনুসারীরা।

৯০টি বাড়িঘরে লুটপাট, আগুন ও ৫টি মন্দির গুঁড়িয়ে দেয় তারা। মামলা হয়েছিল তিনটি। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত বিচার আইনে মামলা নেয়ার দাবি জানালেও পুলিশ তা রেকর্ড করে সাধারণ মামলা হিসেবে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষে ইউপি চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল ৭০ জনের নাম উল্লেখসহ প্রায় দেড় হাজার জনকে আসামি করে মামলা করেন। আরেকটি মামলা করেন শাল্লা থানার এসআই আব্দুল করিম। আর ঝুমন দাশের মা মামলা করেন আদালতে, পরে সেই মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশকে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন দেবনাথ বলেন, এসব সন্ত্রাসী যখন জামিনে বের হয়ে আসে তারা মানুষকে ভয় দেখায়। এদের ভয়ে তখন ভুক্তভোগীরা মনে করেন একবার আমাদের ঘর পুড়িয়েছে এবার আমাদেরকেই কিছু করে ফেলবে।

হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিরা এরইমধ্যে জামিনে বের হয়ে এলাকায় অবস্থান করছে। এতে শঙ্কায় ভুগছেন ভুক্তভোগীরা। তারা বলেন, আমাদের উপর যে হামলা হয়েছে সেই স্মৃতি এখনো আমরা ভুলতে পারিনি। হামলার কোন বিচারও পাইনি। যাদের নামে মামলা করা হয়েছে সেই হামলাকারীরা আমাদের সামনেই ঘোরাফেরা করছে।

সুনামগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল বাহার ডিবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, মামলাগুলোর তদন্ত চলছে। তদন্ত ও ভিডিও ফুটেজ দেখে এ মামলায় ১শ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো।

২৬শে এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করে; এতে পুলিশ সুপারসহ ১১ জনকে বদলি এবং ছয়জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়।

সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ঝুমন দাস কয়েকদিন জামিন পেয়েছে। আমরা তাদের বলেছি তাদের নিরাপত্তার জন্য যেকোন ব্যবস্থা নিতেই আমরা প্রস্তুত আছি। আমি আশা করছি এইটা নিয়ে আর কোন সমস্যা হবে না।

নিরাপরাধ ঝুমন দাশকে মামলা থেকে অব্যাহতির পাশাপাশি দ্রুত হামলাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি গ্রামবাসীর।

শেয়ার করুন