ডেস্ক রিপোর্ট
২ অক্টোবর ২০২১, ৩:২৩ অপরাহ্ণ
বগুড়া প্রতিনিধি :: শনিবার দুপুরে বগুড়া সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে সাংবাদিক দীপঙ্কর চক্রবর্তীর হত্যাকাণ্ডের ১৭ বছর উপলক্ষে বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত স্মরণ সভা ও স্মৃতি পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও দ্যা ডেইলী অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী।
স্মরণসভা ও স্মৃতি পদক প্রদান অনুষ্ঠানে বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আমজাদ হোসেন মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহমুদুল আলম নয়ন ও সাধারণ সম্পাদক আরিফ রেহমান। অনুষ্ঠানে দীপঙ্কর চক্রবর্তীর ছেলে অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী গোপাও তার বাবার হত্যাকারীদের বিচারের দাবি জানান।
বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জেএম রউফ এর সঞ্চালনায় বগুড়ার তিনজন সাংবাদিককে দীপঙ্কর চক্রবর্তী স্মৃতি পদক প্রদান করা হয়। স্মৃতি পদক পাওয়া সাংবাদিকরা হলেন বগুড়ার প্রবীণ সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, প্রবীণ সাংবাদিক রবিউল করিম হেলাল ও দৈনিক করতোয়ার বার্তা সম্পাদক প্রদীপ শঙ্কর ভট্টাচার্য।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার সাংবাদিকদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। সাংবাদিকদের কল্যাণে শেখ হাসিনাই প্রথম সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করেছেন। পর্ণফিল্ম সময় সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে প্রণোদনা হিসেবে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, গণমাধ্যম সেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় ভূমিকা পালন করছে। প্রতিটি এলাকায় অপসাংবাদিকতাকে রোধ করতে হলে প্রকৃত সাংবাদিকদের সোচ্চার হতে হবে। সারাদেশে সাংবাদিকরা নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের খবর সংগ্রহ করতে যায়ে প্রথম আলো সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা সারাদেশে রোজিনা ইসলাম জন্য আন্দোলন করেছি রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি। রোজিনা ইসলাম এর মত অনেক সাংবাদিক নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। তথ্য অধিকার আইন নিশ্চিত করা হয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আব্দুল জব্বার বলেছিলেন আমরা যে আইন করছি শেয়ার ফলো করবে, কিন্তু কোন দেশ ভালো করে তা আমাদের জানা নেই। দীপঙ্কর চক্রবর্তীর মতো আমাদের আরো অনেক সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো হত্যারই আমরা বিচার পাইনি। দীপঙ্কর চক্রবর্তীর মত নিবেদিত সাংবাদিকদের হত্যাকাণ্ডের বিচার আমরা এখনো সোচ্চার ভূমিকা পালন করে যাচ্ছি। দীপঙ্কর চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হতে হবে, তাহলে সাংবাদিক সমাজ পরিবার ও জাতি প্রকৃত রহস্য জানতে পারবে এই হত্যাকাণ্ডের। দীপঙ্কর চক্রবর্তী হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। সারাদেশে ডিজিটাল আইনে সাংবাদিকদের নামে মামলা হচ্ছে এবং সাংবাদিকদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। আমরা দাবি জানাই মামলা হওয়ার পর অবশ্যই তদন্ত করে আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হোক। কিন্তু তদন্ত হওয়ার পূর্বেই সাংবাদিককে গ্রেফতার করে হয়রানি করা হচ্ছে, জামিন দেয়া হচ্ছে না। দীপঙ্কর চক্রবর্তী, সাগর-রুনি সহ সকল সাংবাদিক হত্যার বিচার আমরা চাই। গণমাধ্যমের কর্মীরা দেশের উন্নয়ন যেমন তুলে ধরেন তেমনি দুর্নীতির কথা বলতে ভয় পায় না। তাই গণমাধ্যম কর্মীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের নিজেদেরকেই একতাবদ্ধ হতে হবে।
দীপঙ্কর চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ডের ১৭ বছর উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় ও স্মৃতি পদক প্রদান অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সহকর্মীরা তার স্মৃতিচারণ করেন এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করে হত্যাকারীদের চিহ্নিত করার দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়নের বিভিন্ন ইউনিটের ইউনিট চিফ, ডেপুটি ইউনিট চিফ সহ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন ও সকলেই দীপঙ্কর চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে প্রকৃত হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।