ডেস্ক রিপোর্ট

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:০৪ অপরাহ্ণ

শিক্ষার্থীদের করোনাকালীনফি মওকুফ করার দাবি ছাত্র ফ্রন্টের

আপডেট টাইম : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২১ ১০:০৪ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:: শিক্ষা সংকোচন, ব্যয় বৃদ্ধি ও সাম্প্রদায়িকীরণ বন্ধ, করোনায় শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ এবং করোনাকালীন শিক্ষার্থীদের বেতন ফি মওকুফসহ ৩ দফা দাবি জানিয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রাম নগর শাখার উদ্যোগে শিক্ষা দিবসের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, নগর সভাপতি রায়হান উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ঋজু লক্ষ্মী অবরোধ, সাংগঠনিক সম্পাদক মিরাজ উদ্দিন, সংগঠক সাকিব হোসেন ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব ইসরাত হক জেরিন।

সমাবেশ পরিচালনা করেন প্রচার প্রচারণা বিষয়ক সম্পাদক প্রীতম বড়ুয়া।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১৭ই সেপ্টেম্বর মহান শিক্ষা দিবস। ১৯৬২ সালের এই দিনে এদেশের ছাত্র সমাজ পাকিস্তানি আইয়ুব সরকারের কুখ্যাত শরীফ কমিশনের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে রচনা করেছিলো দুর্বার গণআন্দোলন। হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের সেই মিছিলে প্রাণ হারায় বাবুল (স্কুল ছাত্র), গোলাম মোস্তফা (বাস কন্ড্রাক্টর), ওয়াজিউল্লাহ (গৃহভৃত্য)। ১৯৬২ সালের পাকিস্তানের শিক্ষা সচিব এস.এম. শরীফের নেতৃত্বে গঠিত সেই শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির রিপোর্টে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণকে অবারিত করার সুপারিশ করা হয়েছিলো। শিক্ষার ব্যায়ভার বহনের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব অগ্রাহ্য করে, শিক্ষার ব্যয় বাড়িয়ে শিক্ষাকে একটি পণ্যে পরিণত করে শিক্ষা সংকোচনের পথকে সেই রিপোর্ট বৈধতা দিয়েছিলো। বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণ সরকারি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ, বাংলা ভাষাকে উর্দূ বা আরবীকরণের জন্য একটি কমিশন গঠনের সুপারিশ, ডিগ্রীকে ৩ বছর করা সহ এরকম আরো অসঙ্গতি ছিলো সেদিনের সেই শরীফ কমিশনের রিপোর্টে। শিক্ষা ধ্বংসের এই পায়তারার বিরুদ্ধে সেদিন ছাত্র জনতা রুখে দাঁড়িয়েছিলো। ছাত্র জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধে আইয়ুব সামরিক জান্তার সরকার এ শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে পিছু হটে। কিন্তু, ২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছর পার করে ফেললেও আমরা দেখছি, সেদিনের আইয়ুব এর যে শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ছাত্ররা বুকের তাজা রক্ত দিয়েছিলো তার ছায়া এখনো এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নানাভাবে বিস্তৃত হয়ে আছে।

বক্তারা বলেন, সার্বজনীন বিজ্ঞানভিত্তিক একই ধারার শিক্ষার দাবি উপেক্ষিত হয়ে আসছে শিক্ষানীতিগুলোতে। শিক্ষার প্রধান ধারা হয়ে গেছে বেসরকারি ধারা। শিক্ষার মর্মবস্তুকে ধর্বংস করে একে করা হয়েছে সাম্প্রদায়িক ও ধর্মান্ধ। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ধার্য করা হচ্ছে উচ্চ বেতন ফি, সেই ব্যয় বহন করতে না পেরে প্রতিনিয়ত অসংখ্য শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়ছে শিক্ষাজীবন থেকে। এই করোনাকালেও শিক্ষার্থীদের বেতনসহ অন্যান্য ফি মওকুফ না করে উলটো আমরা দেখলাম তাদের কাছ থেকে এসাইনমেন্টসহ বিভিন্ন নামে বেনামে আদায় করা হয়েছে ফি। শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত ডিভাইস, ইন্টারনেট সেবা প্রদান না করে অনলাইন ক্লাসের নামে শিক্ষার বৈষম্যকে আরো অনেক বেশী প্রকট করে তোলা হয়েছে। শিক্ষাকে পরিণত করা হয়েছে বাজারি পণ্যে।

সমাবেশে বক্তারা আহবান জানান, ১৯৬২ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর যেই স্বপ্ন নিয়ে সাধারণ জনতা প্রাণ দিয়েছিলো, তাদের সেই স্বপ্ন আজও পূরণ হয়নি। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে এসেও শাসকের শিক্ষাকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি সেদিনের চাইতে আজও অভিন্ন নয়। তাই আজ এর বিরুদ্ধে লড়াই ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। আজ শিক্ষাকে ধ্বংসের এই পায়তারাকে রুখতে হলে, শিক্ষার গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে, সর্বোপরি শিক্ষা দিবসের চেতনাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের। সমাবেশ থেকে সকলকে সেই সংগ্রামে যুক্ত হওয়ার আহবান জানানো হয়।

শেয়ার করুন