ডেস্ক রিপোর্ট
১১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অযৌক্তিকভাবে তিন শিক্ষার্থীকে শোকজের প্রতিবাদে দেশের ৩১ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৫ জন ছাত্র প্রতিনিধির স্বাক্ষর সম্বলিত একটি কারণ দর্শানো নোটিশ ,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। এই প্রথম কোন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সারাদেশেরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষাথীদের প্লাটফর্ম ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নেটওয়ার্ক ’ থেকে প্রতিবাদস্বরূপ শোকজপত্র প্রেরণের ঘটনা ঘটেছে।
কারণ দর্শানো নোটিশে বলা হয়, আমরা সারাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্লাটফর্ম ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নেটওয়ার্ক ’ এর পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত কতিপয় সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ , উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করা , তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করা এবং এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জোরপূর্বক মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়ের মধ্য দিয়ে কতিপয় গুরুতর অপরাধ সংগঠিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য করোনার অজুহাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগে পরীক্ষা নেয়ার শর্ত হিসাবে , আবাসিক হলে না থাকা এবং যাতায়াত ব্যবস্থার দাবি তোলা যাবে না এই মর্মে নির্দিষ্ট ফরমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মুচলেকা আদায় করা হয়েছে। কয়েকটি বিভাগে শিক্ষার্থীদের এই শর্ত সমেত গুগল ফর্মও পূরণ করানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নেটওয়ার্ক ’ মনে করে চবি প্রশাসনের এহেন কর্মকান্ড নজীরবিহীন এবং চরম ন্বেচ্ছাচারীতার বহিঃপ্রকাশ। করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের আবাসন ও পরিবহন নিশ্চিত করে পরীক্ষা গ্রহণ করা বিশ্ববিদ্যারয়ের দায়িত্ব। তা না করে উপরন্তু শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বন্ডসই আদায়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি ও স্বাধীন অভিব্যাক্তি প্রকাশের অধিকারকে রুদ্ধ করা হয়েছে। যা সংবিধানের ৩৭ ও ৩৯ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের নাগরিক হিসাবে একজন শিক্ষার্থীর সভা সমাবেশ ও স্বাধীন মত প্রকাশের মৌলিক অধিকারকে হরণ করে। ফলে প্রশাসনের এরূপ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত মাত্রায় অগণতান্ত্রিক ও রাষ্ট্রের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক এবং অবৈধ তৎপরতা বলে আমরা মনে করি।
আবার গত ৭ সেপ্টেম্বর সংবাদ মাধ্যম ‘চট্টগ্রাম প্রতিদিন’ এ দেয়া এক বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জনাব রবিউল হাসান ভূঁইয়া দাবি করেন , মিটন চাকমা নামক এক শিক্ষার্থী পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে লিখিত দিয়েছে সে পরিবহন ও আবাসিক হল খোলার দাবি করবে না তারপরও সে কেন আন্দোলন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে ?
আমরা মনে করি একটি অবৈধ মুচলেকার উপর ভিত্তি করে কোন শিক্ষার্থী কোন নৈতিক আন্দালনে যুক্ত হবে কিংবা হবে না সেই প্রশ্ন তোলাই প্রক্টর মহোদয়ের এখতিয়ার বর্হিভূত কাজ। বরং এরকম জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে মিটন চাকমা উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং স্পষ্টতই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্ররোচনায় ৩ ছাত্র নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপনে বাধ্য হয়েছে। যা সরাসরি ফৌজদারী অপরাধের অর্ন্তভূক্ত।
আবার মিটন চাকমার কাছ থেকে মিথ্যা অভিযোগপত্র আদায় করে তার ভিত্তিতে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী রাজেশ্বর দাশ গুপ্ত , ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র শাহ মোহাম্মদ শিহাব ও ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী আশরাফি নিতুকে শোকজ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে- “অভিযোগকারী শিক্ষার্থীকে আন্দোলন কর্মসূচিতে আসতে প্ররোচিত করেছে।”
এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য হলো, বাংলাদেশ দন্ডবিধি ১৮৬০ এর ১০৭ ধারা অনুসারে কোন অপরাধ সংগঠনে সহায়তা করাকে প্ররোচনা বলে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। অথচ সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোন দাবিতে মিছিল, মানববন্ধন কিংবা প্রতিবাদ কর্মসূচি করা কোন অপরাধমূলক কাজ নয়। এখানে শিক্ষার্থীরা নিজের অধিকার আদায়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। ফলে ছাত্রদের ন্যায্য আন্দোলনে অংশ নেয়ার জন্য কোন শিক্ষার্থীকে প্ররোচিত ও বাধ্য করার অভিযোগ একটি অন্তঃসারশূণ্য অভিযোগ। আবার অভিযোগকারী মিটন চাকমা বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ এর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আহবায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি তার সাংগঠনের পক্ষ থেকে পরিবহনের দাবির পক্ষে সংহতি প্রকাশ করেছেন। ফলে তাকে ব্যক্তিগত প্ররোচনার অভিাযোগ ভিত্তিহীন। আবার যেকোন ন্যায্য দাবি প্রচারের অধিকার শিক্ষার্থীদের আছে।একে প্ররোচনা কিংবা বাধ্য করা হিসাবে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে কার্যত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন শিক্ষার্থীর সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সকল কার্যক্রমকে কেন রাষ্ট্রের আইন ও সংবিধান পরিপন্থী ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, এবং তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ও ইস্যুকৃত শোকজ নোটিশ কেন প্রত্যাহার করা হবে না- এই মর্মে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জবাব দেয়ার জন্য বলা হলো।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নেটওয়ার্ক এর পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেছেন দেশের ৩১ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিন্মের ৭৫ জন ছাত্র প্রতিনিধি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়:
১। আদনান আজিজ চৌধুরী ২। আরাফাত সাদ ৩। রবিউল ইসলাম মিম ৪। মোকতার আহমদ ৫। মিশকাত মহিউদ্দিন ৬। সায়েদুল হক নিশান ৭। সাদিক মাহবুব ইসলাম ৮। জাবির আহমেদ জুবেল
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়:
৯। তুষার ধর ১০। রাকিবুল হক রনি ১১। তাসবিবুল গনি নিলয় ১২। হাসান জামিল ১৩। ঋদ্ধ অনিন্দ্য গাঙ্গুলি ১৪। ফারুক ইমতিয়াজ ১৫। শোভন রহমান ১৬। আবু সাইদ ১৭। সুদীপ্ত দে ১৮। অমর্ত্য রায়
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়:
১৯। সব্যসাচী জহির ২০। ইমন সৈয়দ ২১। আজাদ হোসেন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়:
২২। আজিজুল হক মানিক ২৩। মহাব্বত হোসেন মিলন ২৪। মিঠুন চন্দ্র মোহন্ত
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়:
২৫। মোস্তাক আহমেদ ২৬। আশিক বিশ্বাস ২৭। ইমামুল ইসলাম সোহান
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়:
২৮শাহ সাকিব সোবহান
শাবিপ্রবি:
২৯। সামিউল এহসান শাফিন ৩০। মারুফ-উল-আলম ৩১। সংঘ মিত্রা ৩২। সামিরা ফারজানা ৩৩। কাজল দাস
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়:
৩৪। আলিসা মুনতাজ ৩৫। শুভদ্বীপ অধিকারী ৩৬। সুজয় শুভ ৩৭। জামান কবির
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়:
৩৮। জি. কে. সাদিক ৩৯। অনি আতিকুর রহমান ৪০। আব্দুর রউফ
বশেমুরবিপ্রবি:
৪১। ইশতিয়াক আহমেদ রিফাত ৪২। কাফি মোহাম্মদ তামিম ৪৩। রাজিত ইয়ামিন হাসান
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়:
৪৪। তানজিলা ইসলাম ঋতু ৪৫। উত্তম কুমার বালা ৪৬। অপুরান্ত মন্ডল ৪৭। তনুশ্রী চৌধুরী
বুয়েট:
৪৮। তাহমিদ হোসেন
কুয়েট:
৪৯। স.ম. নাহিন রহমান
চুয়েট:
৫০। আসিফ ইকবাল ৫১। শাফায়েত জামিল
যবিপ্রবি:
৫২। অরূন্ধতী রায়
হাবিপ্রবি:
৫৩। তামজিদ মুশফিক
নোবিপ্রবি:
৫৪। রিয়াদ রাসেল
বাংলাদেশে টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়:
৫৫। তাসনুভা বিনতে মমিন
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়:
৫৬। সুজয় সরকার ৫৭। মিজান মাহিন ৫৮। তানজিনা বেগম
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি:
৫৯। তাসনীম মাজহার ৬০। রাজিত
ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ:
৬১। সৈয়দ ইনজাম উল হুদা ৬২। মোঃ শোয়ায়েব হোসেন ৬৩। ইয়ামিন হাসান
প্রাইমেশিয়া ইউনিভার্সিটি:
৬৪। আবদুল্লাহ্ মেহেদী দীপ্ত
বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ:
৬৫। সাইফুর রুদ্র
স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি:
৬৬। সুবর্ণা আক্তার রিয়া
এআইইউবি:
৬৭। জুবায়ের হাসান
আইইউবিএটি:
৬৮। তানজিদ সোহরাব
বিইউপি:
৬৯। আবু সাইদ অনয় ৭০। তাহমিদ ফায়াজ মাহির ৭১।মোহাম্মদ সাজিদ হোসেন
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি:
৭২। পিয়াল বিশ্বাস
নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি:
৭৩। মো. আল আমিন শেখ
মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি:
৭৪। মনীষা ওয়াহিদ
সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি:
৭৫। ফাহিম আহমেদ চৌধুরী