ডেস্ক রিপোর্ট
৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৭:৫০ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: জোর করে আদায় করা অভিযোগের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ছাত্রনেতাকে প্রশাসন কর্তৃক কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানোর ঘটনায় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদ নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয় ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রাগীব নাঈম এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হল না খুলে স্বশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ ১৮ মাস বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় দ্রুত পরীক্ষায় বসার ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের আগ্রহের সুযোগে পরিবহন এবং আবাসনের দাবি না তুলবার শর্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দিক থেকে আসা অত্যন্ত দুঃখজনক। শাটল ট্রেন বন্ধ থাকায় সেটি পুনরায় চালু করা কিংবা অন্তত শহর থেকে আসা-যাওয়া করা শিক্ষার্থীদের জন্য বাসের ব্যবস্থা করবার যৌক্তিক দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীদের নিয়মতান্ত্রিক প্রতিবাদটুকুও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সহ্য করতে পারলো না। শিক্ষার্থীরা বিপদে পড়লে সকল শর্ত ও বাধার দেওয়াল ডিঙিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ অন্যান্য শিক্ষকরা এগিয়ে আসবেন, এমনটাই তো হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে ঘটলো তার উল্টো। একজন শিক্ষার্থীকে শর্তের বেড়াজালে আটকে যৌক্তিক দাবি আদায়ের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে আসবার ‘উৎসাহ প্রদান ও প্ররোচনার’ বানোয়াট গল্প সাজিয়ে বাধ্য করা হলো তিন ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে। সম্প্রতি সেই বানোয়াট অভিযোগের ভিত্তিতে তিন ছাত্রনেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠাতেও কুন্ঠাবোধ করলো না প্রশাসন!
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও প্রশাসনের এহেন ভূমিকায় হতাশা ব্যক্ত করে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার পাশাপাশি মুক্তচিন্তা ও গণতন্ত্র চর্চার পীঠস্থান হওয়ার কথা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনও আজ ভিন্নমত দমনে তৎপর। সমগ্র দেশ আর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোর রাজনৈতিক চিত্রে ভিন্নতা অবশিষ্ট নেই আর। পরিতাপের বিষয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরাও এখন প্রশাসনের উঁচু চেয়ারে বসে নিজেদের শিক্ষক পরিচয় ছাপিয়ে দলদাসে পরিণত হচ্ছেন, ভিন্নমত দমনের সরকারি মিশনের আস্থাভাজন কাপ্তান হয়ে উঠছেন। রাজেশ্বর দাশ গুপ্ত, শাহ মোহাম্মদ শিহাব ও আশরাফি নিতুকে শাস্তি প্রদান করার পাঁয়তারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে প্রতিবাদশূন্য করবার মিশনের অংশ বলেই আমরা মনে করি।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে লিপ্ত বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগের ভিত্তিতে কোনরূপ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবার দুঃসাহস দেখালে শিক্ষার্থীরা চুপ করে থাকবে না। আমরা আশা করবো, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভিন্নমত দমনের পথ থেকে সরে শিক্ষার্থীদের সঙ্কট নিরসনে এগিয়ে আসবে। অন্যথায় যথাসময়ে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এইসব অপতৎপরতার যথোপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।