ডেস্ক রিপোর্ট
২৩ আগস্ট ২০২১, ৫:৪১ অপরাহ্ণ
গৌতম চন্দ্র বর্মন, ঠাকুরগাঁও :: ঠাকুরগাঁওয়ের একটি মাদরাসার খেলার মাঠে চাষ করা হচ্ছে ধান। দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বেসরকারি এই মাদরাসাটি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছে না। তাই মাদরাসা সুপার অফিস সহকারীকে ধান চাষ করার অনুমতি দিয়েছেন। তবে উপজেলা প্রশাসন বলছে, এই কাজটি করা ঠিক হয়নি। মাদরাসার মাঠ শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্যই রাখতে হবে।
জানা যায়, ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ ইউনিয়নের চন্দন চহট আলহাজ ইমারউদ্দিন দাখিল মাদরাসার খেলার মাঠে এখন চাষ হচ্ছে ধান। করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠে ধানের চারা রোপন করা হয়েছে। এ কাজে সহায়তা করছেন মাদরাসার সুপার মমতাজ আলী নিজেই। অনুমতি দিয়েছেন মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতিও।
এক অভিভাবক অভিযোগ করেন, দেড় বছর যাবত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ছেলে-মেয়েরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। কিন্তু এই সুযোগে মাদরাসার মাঠে ধান চাষ করা কর্তৃপক্ষের উচিত হয়নি। এতে মাদরাসার মাঠে খেলাধুলার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে।
মাদরাসার সুপার মমতাজ আলী বলেন, ‘১৯৯৫ সালে আমরা মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করি। এরপর থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মাদরাসার কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছি না। অফিস সহকারীর অনুরোধে করোনাকালে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে ধান চাষের অনুমতি দিয়েছি। তাছাড়া মাদরাসা বন্ধের কারণে শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা করে না।’
মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেনের কাছে ধান রোপণের বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মাদরাসাটি এমপিও ভুক্ত হয়নি। করোনার জন্য বন্ধও রয়েছে। তাই ফেলে না রেখে অফিস কর্মচারী ধান রোপন করেছেন। এতে তেমন সমস্যা তো দেখছি না।’
রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে ধান চাষ করার কোনো সুযোগ নেই। মাঠটি খেলার জন্য শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এ বিষয়ে মাদরাসার সুপারকে ডেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।