ডেস্ক রিপোর্ট
১৬ আগস্ট ২০২১, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকাণ্ডের পর খন্দকার মোশতাকের সময়ে জিয়াউর রহমান চিফ অব আর্মি স্টাফ হলেন। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়ার সংশ্লিষ্টতার আর কী প্রমাণ চান?
সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। সভায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
ওবায়দুল কাদের বলেন, পৃথিবীর যত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হয়েছে, কোনো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের তুলনা হয় না। অন্যসব হত্যাকাণ্ডে অবলা নারী কিংবা অবুঝ শিশুকে হত্যা করা হয়নি। কিন্তু ১৫ আগস্টে শিশু-নারী সবাইকে হত্যা করা হয়েছে। এটি নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড।
‘সরকার কখনোই দেশকে বিএনপি শূন্য করতে চায়নি’
এর আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের প্রতিবাদে দেওয়া এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার দেশকে কখনোই বিএনপি শূন্য করতে চায়নি। এটি আওয়ামী লীগের রাজনীতিও নয়। বরং বিএনপিই নীতি বিবর্জিত হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের রাজনীতিকে বৈধতা দিয়েছে। এমনকি ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশে নারকীয় গ্রেনেড হামলা চালিয়েছে।
তিনি বলেন, অতীত কর্মকাণ্ডের ফল হিসেবে বিএনপি আজ নিশ্চিহ্ন প্রায়। বিএনপি রাজনৈতিক মাঠে নয়, নিরপত্তা বেষ্টনীতে বসে শুধু লিপ সার্ভিসের মাধ্যমে গণমাধ্যমের ওপর ভর করে টিকে আছে। আসলে বিএনপি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়নি, নেবেও না। জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে অবৈধ ও অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারী সেনা শাসক জিয়া সেনা আইন ও সংবিধান লঙ্ঘন করে সেনা ছাউনিতে দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কারও ওপর দমন-পীড়নে বিশ্বাসী নয়। আওয়ামী লীগ আইনের শাসন ও বিচারের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। যেসব ব্যক্তি বা সংগঠন রাষ্ট্রের শান্তি-শৃঙ্খলা পরিপন্থি বা জননিরাপত্তা ভঙ্গ ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মির্জা ফখরুল একজন ছাত্রদল নেতার জামিন না হওয়ায় নিলর্জ্জভাবে সরকারের সমালোচনা করেছেন। অথচ যেকোনো ব্যক্তির জামিনপ্রাপ্তি একটি সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া, এটি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার।
তিনি আরও বলেন, এখানে সরকারকে দোষারোপের বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আসলে মির্জা ফখরুল ‘ধান ভানতে শিবের গীত’ গাইতে চেয়েছেন। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস, বাঙালি জাতির জীবনে এক গ্লানিময় অপবিত্র অধ্যায়। এই দিনে জাতির পিতাকে হত্যার বেনিফিশিয়ারি গ্রুপ এবং খুনিদের পৃষ্ঠপোষকদের প্রতিনিধি হিসেবে মির্জা ফখরুল তথাকথিত ভয় ও আতঙ্কের গল্পের আড়ালে বাঙালির কষ্টার্জিত আইনের শাসনের প্রতি রক্তচক্ষু প্রদর্শন করেছেন। কিন্তু বাঙালি জাতি তা পরোয়া করে না।
সেতুমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পরে খুনি-ঘাতকচক্র তার ও তার পরিবারের সদস্যদের চরিত্র হননের হীন অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল। তেমনিভাবে আজও একটি চিহ্নিত মতলবি মহল শেখ হাসিনা সরকার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। শোকের মাস আগস্টে শোককে শক্তিতে পরিণত করে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।