ডেস্ক রিপোর্ট
১৬ আগস্ট ২০২১, ৮:৩৯ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: সব সেক্টরের কর্মজীবীরাই বছরে ২০ দিনের অধিক অতিরিক্ত ছুটি ভোগ করে থাকেন। কিন্তু গার্মেন্টস শ্রমিকরা এই সকল ছুটি থেকে সব সময়ই বঞ্চিত বলে মন্তব্য করেছেন গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।
আজ সোমবার (১৬ আগস্ট ২০২১) সকাল ১০টায় পুরানা পল্টনস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এই মন্তব্য করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সমন্বয়ক শহীদুল ইসলাম সবুজ।
সভায় উপস্থিত থেকে আলোচনা করেন শ্রমিক নেতা মোশরেফা মিশু, এ্যাড. মাহবুবুর রহমান ইসমাইল, তাসলিমা আকতার লিমা, শামীম ইমাম, মাসুদ রেজা, প্রকাশ দত্ত, এএএম ফায়েজ হোসেন, রাজু আহমেদ, আমেনা আকতার আশা প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
আলোচনায় নেতৃবৃন্দ বলেন, গত প্রায় ৪ দশকেও গার্মেন্টস মালিকরা শিল্প মালিক হয়ে উঠতে পারেনি। তাদের মানসিকতা লুটেরা ব্যবসায়ী সুলভ বা তার চেয়েও নিম্নমানের। শিল্প মালিক সুলভ মানসিকতা তাদের থাকলে, গার্মেন্টস সেক্টরের শ্রমিকদের এত অমর্যাদা, বঞ্চনার জীবন থাকত না।
নেতৃবৃন্দ বলেন, অধিকাংশ গার্মেন্ট শ্রমিক সাপ্তাহিক ছুটিটাও পান না। শ্রম আইন অনুযায়ী বিভিন্ন (অর্জিত ছুটি, ঐচ্ছিক ছুটি, অসুস্থতা জনিত ইত্যাদি) ছুটি মিলিয়ে সব সেক্টরের কর্মজীবীরাই বছরে ২০ দিনের অধিক অতিরিক্ত ছুটি ভোগ করে থাকেন। কিন্তু গার্মেন্টস শ্রমিকরা এই সকল ছুটি থেকে সব সময়ই বঞ্চিত। সরকার ঘোষিত ৫ অগাস্ট পর্যন্ত লকডাউনের মধ্যে শ্রমিকদের কাজে যোগদানে বাধ্য না করলেও শ্রমিকদের সেই প্রাপ্য ছুটি পূরণ হতো না। লকডাউন, স্বাস্থ্যঝুঁকি উপেক্ষা করে, এমনকি গণপরিবহনের কোনো ব্যবস্থা না করেই সর্বশেষ ১ আগস্ট সকল শ্রমিকদের কারখানায় ফিরতে বাধ্য করল মালিকরা। অবশ্য অনেক গার্মেন্টস কারখানায় ২৫ জুলাই থেকেই শ্রমিকদের কাজে ফিরতে বাধ্য করেছিল। তারা যদি শ্রমিকদের উৎপাদনের যন্ত্র মনে না করে মানুষ মনে করত, তা হলে এই অমানবিক কাজটা করত না।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বিভিন্ন শ্রমিকাঞ্চল থেকে খবর পাওয়া যাচ্ছে, লকডাউনের কারণে বন্ধ থাকা ছুটির দিন কয়টিও মালিকরা ওভারটাইমের বিল না দিয়ে এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও অতিরিক্ত কাজ করিয়ে ছুটি সমন্বয়ের অপতৎপরতা চালাচ্ছে। ফলে বিভিন্ন শ্রমিকাঞ্চলের শ্রমিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। আর এই ক্ষোভ থেকে শ্রম অসন্তোষ তৈরি হলে তার দায় তো মালিক ও তাদের পৃষ্ঠপোষক সরকারকেই নিতে হবে।
আলোচনায় নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, শ্রমিকদের কাজে ফিরতে বাধ্য করার সময় মালিকরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল— কাজে যোগ দেওয়ার পরপরই সকল শ্রমিকের করোনা টেস্ট করানো হবে ও করোনা টিকা দেওয়া হবে। কিন্তু আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ করছি, গণটিকা দেওয়ার সময় চরম বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে খুবই সামান্য কিছু শ্রমিককে টিকা দেওয়া হয়েছিল, যা মোট শ্রমিকের ০.৫% হবে না। তারপর অর্ধ মাস পার হয়ে গেলেও টিকা দেওয়ার আর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। যা শ্রমিকদের সাথে আরও একটি প্রতারণা ও চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ফেলার অপতৎপরতা ছাড়া আর কিছুই না।
নেতৃবৃন্দ গার্মেন্টস মালিকদের এই অপতৎপরতার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি বিনা পারিশ্রমিকে এক মিনিট সময়ও কাজ না করার জন্য শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান।