ডেস্ক রিপোর্ট
১৩ আগস্ট ২০২১, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: সাম্প্রদায়িক শক্তির দায়ের করা মিথ্যা মামলায় আটক ঝুমন দাসের মুক্তি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল এবং খুলনার সাম্প্রদায়িক হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সংহতি সমাবেশ অনুষ্টিত করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন৷
শুক্রবার বিকেলে শাহবাগে ৩ দাবিতে সংহতি সমাবেশ পালিত হয়। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি অনিক রায়ের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মিখা পিরেগুর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন রাকসু’র সাবেক ভিপি ও সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা রাগিব আহসান মুন্না, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্টীর সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক নেতা সুব্রত দাস খোকন, রিক্সা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম নাদিম, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা মহানগর সংসদের সভাপতি তাসীন মল্লিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক মেঘমল্লার বসু, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ঋদ্ধ অনিন্দ্য গাঙ্গুলী সহ প্রমুখ। রা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) এর সাবেক ভিপি রাগীব আহসান মুন্না বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান সংকট শুধুমাত্র ধর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এই সংকট রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়েছে৷ এর থেকে মুক্তির জন্য সর্বাত্মক সংগ্রাম প্রয়োজন।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, দেশটাকে একটা ইস্যুর দেশে পরিনত করা হয়েছে৷ রামুতে ফেসবুকের একটি তথ্যকে কেন্দ্র করে হামলা হয়েছিল। সেটা যে ভুয়া ছিল তাও প্রমাণিত হয়েছে কিন্তু কারো শাস্তি হয়নি। ঝুমন দাস কোন পোস্ট দেননি কিন্তু তাও সাতবারেও তার জামিন হয়নি। অন্যদিকে হামলাকারীদের বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বর্তমান রাষ্ট্র একটা দানবীয় চেহারা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ৭০ জন সাংবাদিকের নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে। এই আইন কাকে নিরাপত্তা দিচ্ছে? এই আইন সাধারণ জনগণ না বরং রাষ্ট্রকে আরও শোষনমূলক হওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা দিচ্ছে।’
বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন বলেন, ‘একটা অদ্ভুদ সময়ে আমরা বসবাস করছি। হিন্দু, আদিবাসী, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মানুষ এবং নারীদের উপর সহজে শোষন করা যায়। আর মিডিয়াতেও তাই দেখানো হচ্ছে। আইনের প্রয়োগের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু জনগণের পক্ষের আইন কি আছে? শ্রমজীবী মানুষের পক্ষের আইন থাকলে ঝুমন দাস এতোদিন জেলে থাকতো না।বর্তমান যে সিস্টেম সেটাকে সম্পূর্ণ ভাবে ভাঙ্গতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা সুব্রত দাস বলেন, ‘সবাই আজকে সবাই বিপদে আছে। যারা প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করে রেখেছে তারাই মানুষকে একটা চক্রের মধ্যে ফেলে শোষণ চালিয়ে যাচ্ছে। এই শোষণের চক্র ভেঙ্গে মানুষের বের হতে হবে।’
রিকশা ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম নাদিম, এই দেশের সাম্প্রদায়িক হামলার পিছনে যতটা সাম্প্রদায়িক মনোভাব থাকে এরচাইতে বেশি থাকে ভূমির রাজনীতি। এই হামলা গুলোর পর সেই এলাকার মানুষেরা চলে যায়, অনেকে দেশ ছেড়েও চলে যায়। আর তাদের যাওয়া ভূমি দখল করে যাদের নেতৃত্বে হামলা হয়েছিল তাদের। যারা হামলার স্বীকার তাদের মধ্যে অনেকে ঝুমন দাসের মতো কারাগারে থাকে।’
সংহতি সমাবেশে সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি অনিক রায় বলেন, ‘একটা নির্মম পরিস্থিতির মধ্যে আমরা বসবাস করছি। জেলাগুলোতে করোনা টেস্টের ল্যাব নেই। হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ সুবিধা নেই। আমাদের সরকার এসব নিয়ে প্রস্তুত হয়নি তাই মিডিয়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে নায়িকা-মডেলদের গ্রেপ্তারে নেমেছে। স্বাস্থ্যখাতে যাদের হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি করেছে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে না। তেলের দাম, চালের দাম যারা বাড়াচ্ছে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে না। সেজান গ্রুপের মালিক জামিন পায় অথচ ঝুমন দাসের মুক্তি হয় না। গণটিকার নামে গণপ্রহসন চলছে। প্রতিবাদ না করায় আজ জনগণের উপর অত্যাচার বাড়ছে।বাংলাদেশে রামুর ঘটনার বিচার হয় নি,হয়নি নাসিরনগর বা শাল্লার ঘটনার বিচার,ফলে আজকে যখন খুলনায় হামলা হয় তখন বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় এর বিচার হবে। সবাইকে এর প্রতিবাদে রাস্তায় নামতে হবে।’
সংহতি সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি শাহবাগ থেকে টিএসসিতে গিয়ে শেষ হয়।