ডেস্ক রিপোর্ট
৩১ জুলাই ২০২১, ২:১৭ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: করোনার উচ্চতর সংক্রমনের মধ্যে ও লকডাউন চলা অবস্থায় ১লা আগষ্ট থেকে রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানা চালু করার সরকারী সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট এর নেতৃবৃন্দ কারখানা চালুর আগে শ্রমিকদের জন্য পরিবহন, টিকা ও ঝুঁকি ভাতা নিশ্চিত করার দাবি জানিেছেন।
গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহসান হাবিব বুলবুল এবং সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ এক আজ শনিবার (৩১ জুলাই ২০২১) এক বিবৃতি এই দাবি জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার ১৩ জুলাই প্রজ্ঞাপন জারী করে ঘোষণা করেছিল ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগষ্ট পর্যন্ত কঠোর লকডাউনে
নিত্যপ্রয়োজনীয় জরুরী সেবা ব্যাতিত সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। ঈদের আগে এবং পরে সরকার একাধিকবার এই কথার পুণরুল্লেখ করেছে বিশেষত শিল্প কলকারখানা বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছিল। কিন্ত শিল্প মালিকদের চাপে গতকাল ৩০ জুলাই রাতে আকস্মিকভাবে ১লা আগষ্ট থেকে রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানা খোলা থকবে বলে সরকার প্রজ্ঞাপন জারী করে। প্রজ্ঞাপনে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরার জন্য পরিবহন এবং অন্যান্য আনুসাঙ্গিক আয়োজন সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। ফলে চাকরি হারানোর ভয়ে ঈদের ছুটিতে বাড়িতে যেয়ে আটকে থাকা লক্ষ-লক্ষ শ্রমিককে গণপরিবহন বন্ধ থাকা অবস্থায় দুভোর্গ আর ঝুঁকি কে সঙ্গি করে একদিনের মধ্যে কর্মস্থলে ফিরতে হবে। পরিবহন ও আনুসাঙ্গিক আয়োজন ছাড়া সরকারের এই ঘোষণা একদিকে লক্ষ-লক্ষ শ্রমিককে যাত্রাপথের ঝুঁকি এবং অতিরিক্ত পরিবহন ব্যায়ের ক্ষতি, অন্যদিকে করোনা সংক্রমণ আর চাকরি হারানোর ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিয়েছে। আমরা গতবছর দেখেছি শিল্প মালিকরা ঢাকায় অবস্থানরত শ্রমিকদের দিয়ে কারখানা চালু করার অনুমতি নিয়ে কিভাবে গ্রামে অবস্থানকারী শ্রমিকদের ফোন করে চাকুরিচ্যুতির ভয় দেখিয়ে কাজে যোগদিতে বাধ্য করেছিল। পূর্বের এই অভিজ্ঞতার পরেও সরকার এ ধরনের সিদ্ধান্ত, শ্রমিকদের স্বার্থ ও সুরক্ষা বিবেচনা না করার আর একটি নজির।
নেতৃবৃন্দ, মালিকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের একতরফা অবস্থানের নিন্দা জানান এবং শিল্প-কারখানা চালুর আগে শ্রমিকদের জন্য পরিবহন ও টিকা
নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঝুঁকি ভাতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে প্রশ্ন করেন যে শ্রমিকদের কি জীবিকার জন্য জীবন হারাতে হবে।