ডেস্ক রিপোর্ট
১৯ জুলাই ২০২১, ২:০৯ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: সৌদি আরবে যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার অবরুদ্ধ মালাকে অবিলম্বে দেশে ফেরত আনার দাবিতে আজ সোমবার (১৯ জুলাই) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত।
প্রতিবাদ সমাবেশে মালার পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন মালার মা ফাতেমা বেগম, প্রতিবেশী ব্যবসায়ী জনাব ইদ্রিস মোল্লা, স্বামী মো রাসেল, বোন জুনু আক্তার, বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত, সাংগঠনিক সম্পাদক তসলিমা আক্তার, সাংবাদিক ইভা আক্তার।
মালার মা বলেন, আমার মেয়ে সম্পূর্ণ বৈধভাবে রিক্রুটিং এজেন্সীর মাধ্যমে সৌদিআরব গেলেও সে সেখানে অমানুসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। রিক্রুটিং এজেন্সী আমার মেয়ের নির্যাতনের কথা জানার পরেও তার খোঁজ নিতে গড়িমসি করে। আমি আমার মেয়েকে ফেরত চাই। সরকারের কাছে আমার আবেদন অবিলম্বে আমার মেয়েকে আমার বুকে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। বোন জুনু আক্তার বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে মতিঝিলের ৯নং রাজউক এভিন্যুউ’র ওভারসীজ রিক্রুটিং এজেন্সীর মাধ্যমে সৌদি আরবে যায় মালা। সেখানে গিয়েই নিদারুণ প্রতারণার শিকার হয় সে। সৌদি আরবে পৌঁছানোর পরে তাকে হোটেলে নিয়ে আটকে রেখে মারধর করে এবং যৌন কাজ করার জন্য প্রতিনিয়ত চাপ প্রয়োগ করতে থাকে সেখানকার কিছু ব্যক্তি। এক সপ্তাহ পরে অনেক কষ্টে গোপনে সে পরিবারের কাছে তার নির্যাতনের কথা জানায় এবং তাকে দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করতে বলে।
পরিবার রিক্রুটিং এজেন্সীর মালিকের সাথে যোগাযোগ করে সকল ঘটনা খুলে বলে এবং মালাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করে। মালা তার শরীরে নির্যাতনের চিহ্নসম্বলিত ছবি অন্যের মোবাইলের ইমো নাম্বার থেকে পরিবারকে পাঠায় এবং আবারও তাকে উদ্ধারের আবেদন জানায়। ফোন ব্যবহার করার সুযোগ না থাকায় তার সাথে পরিবারের যোগাযোগ করা সম্ভব নয় বলে পরবর্তিতে তার কি পরিস্থিতি তা জানা যায়নি। এই সব ঘটনা রিক্রুটিং এজেন্সী এবং বাপ্পী দালালকে জানানোর পরও তারা বিষয়টি অবহেলার দৃষ্টিতে দেখে। তাদের বক্তব্য মালা সেখানে থাকতে চায়না বলে মিথ্যা অভিযোগ এনেছে। তারপারও তাকে যদি দেশে আনতে হয় তবে ৩,০০০,০০ (তিন লক্ষ টাকা) টাকা দিলে তারা আনার ব্যবস্থ্যা করবে।
এখানে উল্লেখ্য সৌদি আরবে গৃহকমীর্দের কাজে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন খরচ না লাগলেও মালাকে সৌদি আরবে পাঠানোর ক্ষেত্রে তার পরিবার বাপ্পী দালালকে ৩,০০০,০০/— টাকা প্রদান করে। রিক্রুটিং এজেন্সীর কোনরূপ আশ^াস না পেয়ে শোকে মুহ্যমান মালার মা। এই ঘটনায় নারায়নগঞ্জ কোর্টে একটি মামলা করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মালার মার একটাই দাবি— তার মেয়েকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হোক। এবং যে রিক্রুটিং এজেন্সীর অবহেলার কারণে মালা এই নির্মম প্রতারণার শিকার হল সেই রিক্রুটিং এজেন্সীর মালিকের বিচার হোক যাতে ভবিষ্যতে আর কোন মেয়ের জীবন এভাবে নষ্ট না হয়।
সমাবেশে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত বলেন, সৌদি আরবে বাংলাদেশের নারী শ্রমিক নির্যাতনের হার দিন দিন বাড়ছে অথচ সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলির একনও কোন টনক নড়ছে না। নানা আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে বিচার পায়না ভিকটিম কিংবা ভিকটিমের পরিবার। গত বছর পর্যন্ত পাঁচ বছরের রিপোর্ট পাঁচশত’র ও বেশি নারী লাশ হয়ে ফিরেছে। নির্যাতনের শিকার হয়েছে আরো অনেক নারী। সরকার, রিক্রুটিং এজেন্সী, কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্যান্যরা এসব ক্ষেত্রে সব দায় ভুক্তভোগীর উপর ছেড়ে দেয়। মালাদের পরিবার মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। মালা নির্যাতনের শিকার অথচ রিক্রুটিং এজেন্সী বলছে তারা ছলনা করছে। আমরা অবিলম্বে মালাকে দেশে ফেরত আনার দাবি জানাচ্ছি এবং মানবপাচারের অপরাধে যারা মালাসহ আরো হাজার হাজার নারীর সাথে প্রতারণা করেছে তাদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানাচ্ছি।