ডেস্ক রিপোর্ট
১০ জুলাই ২০২১, ১০:৫১ অপরাহ্ণ
বরিশাল প্রতিনিধি:: সজীব গ্রুপের মালিকানাধিন হসেম ফুড এন্ড বেভারেজের কারখানায় অগ্নিকান্ডে অর্ধশতাধিক শ্রমিক হত্যার বিচার এবং নিহত শ্রমিকদের পরিবার প্রতি আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপুরণ নিশ্চিত করা, আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা -ক্ষতিপূরণ-পুনর্বাসনের দাবিতে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) বরিশাল জেলা শাখা আজ ১০ জুলাই সকাল ১১টায় অশি^নীকুমার হলের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে।
সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের জেলা সভাপতি প্রকৌশলী ইমরান হাবিব রুমনের সভাপতিত্বে এবং জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন বরিশাল জেলার সভাপতি এস এম জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের বরিশাল জেলার সাধারণ সম্পাদক এড এ কে আজাদ, বাসদের সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুল ইসলাম, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গির হোসেন চৌধুরী, নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আবুল হাশেমসহ বরিশাল রিক্সা-ভ্যান চালক শ্রমিক ইউনিয়ন, বরিশাল রিক্সা, ভ্রান, ঠেলাগাড়ি শ্রমিক ইউনিয়ন, বরিশাল মহানগর দর্জি শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সজীব গ্রুপের মালিকানাধিন ্ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে কোম্পানিটি ৩০ বছর যাবত ব্যবসা করছেন। কোম্পানিটি এশিয়া, আফ্রিকা, পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পণ্য রপ্তানি করেন। অগ্নিকান্ডের পরে জানাযায় ৬ তলা কারখানা ভবনের কোন ফ্লোরে অগ্নিনির্বাপনের ব্যবস্থা নেই। অগ্নিকান্ডের সময় চতুর্থ তলার জরুরী নির্গমণের পথটি ছিল তালাবদ্ধ। নিহত শ্রমিকদের অধিকাংশই শিশু শ্রমিক। আইন অনুযায়ী কারখানার প্রতিটি ফ্লোরেই জরুরী নির্গমনের রাস্তা, অগ্নিনির্বপনের ব্যবস্থা এবং উৎপাদনের সময় প্রতিটি গেট খোলা থাকতে হবে। আইন লঙ্ঘন এবং অব্যবস্থাপনার কারনেই এতজন শ্রমিককে নির্মমভাবে প্রাণ হারাতে হয়েছে। ফলে অগ্নিকান্ডে ৫২ জনের অধিক শ্রমিকের মৃত্যু কোন দৃর্ঘটনা নয়, এটা অবহেলাজনিত এবং কাঠামোগত হত্যাকান্ড। শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার জন্য ডাইফ, ফায়ার সার্ভিস, স্থাপনা তদারকি সংস্থা, পরিবেশ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসনসহ সরকারের অনেকগুলি দপ্তরযুক্ত।
নেতৃবৃন্দ প্রশ্ন রাখেন, অগ্নিনির্বাপনের ব্যবস্থা ছাড়া, বিল্ডিং কোড অনুসরণ ছাড়া, আইন না মেনে কারখানা পরিচালনার অনুমোদন কিভাবে পেল?
নেতৃবৃন্দ বলেন, কারখানা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিদর্শনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণও সমভাবে দায়ি। নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনিক তদন্ত নয় বিচার বিভাগীয় তদন্তপূর্বক দায়িত্ব অবহেলার জন্য দায়ি প্রত্যেককে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও বিচার করার দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ, নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবার প্রতি আজীবন আয়ের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য তাৎক্ষণিক সহায়তা, বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানান।
একই সাথে নেতৃবৃন্দ লকডাউনে সকল শ্রমজীবী মানুষদের পর্যাপ্ত ত্রাণ সহযোগিতা দেয়ার আহ্বান জানান।