ডেস্ক রিপোর্ট
১০ জুলাই ২০২১, ৪:২৮ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা ছাড়া কারখানা অনুমোদন পেল কিভাবে? প্রশ্ন রেখে বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ওয়ার্কার্স-এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের আহবায়ক রাশেদুর রহমান রাশেদ এবং সদস্য সচিব আহসান হাবিব বুলবুল সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশের জন্য প্রেরিত বিবৃতিতে নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জ উপজেলার কর্নগোপ এলাকায় অবস্থিত সজীব গ্রুপের মালিকানাধিন হাসেম ফুড এন্ড বেভারেজ কারখানায় অগ্নিকান্ডে ৫২ জনের অধিক শ্রমিক নিহত হওয়া এবং অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হওয়ার জন্য দায়িদের গ্রেপ্তার ও বিচার, নিহত শ্রমিকদের পরিবার প্রতি আই.এল.ও কনভেনশন ১২১ অনুযায়ী আজীবন আয়ের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ, আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা-ক্ষতিপূরণ-পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।
নেতৃবৃন্দ, শ্রম আইন স্বীকৃত অধিকার, পর্যটন খাতে শ্রম আইনের প্রয়োগ এবং করোনাকালে পর্যটন খাতের শ্রমিকদের দুরাবস্থার চিত্র তুলে ধরতে আজ ১০ জুলাই ২০২১, সন্ধ্যা ৭টায় আয়োজিত “কেমন আছে পর্যটন খাতের শ্রমিক-শ্রম আইনে ও করোনাকালে”-শীর্ষক অনলাইন আলোচনা সভা সফল করার আহবান জানান।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সজীব গ্রুপের মালিকানাধিন ্ধসঢ়;ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে কোম্পানিটি ৩০ বছর যাবত ব্যবসা করছেন। কোম্পানিটি এশিয়া, আফ্রিকা, পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পণ্য রপ্তানি করেন। অগ্নিকান্ডের পরে জানাযায় ৬ তলা কারখানা ভবনের কোন ফ্লোওে
অগ্নিনির্বাপনের ব্যবস্থা নেই। অগ্নিকান্ডের সময় চতুর্থ তলার জরুরী নির্গমণের পথটি ছিল তালাবদ্ধ। নিহত শ্রমিকদের অধিকাংশই শিশু শ্রমিক। আইন অনুযায়ী কারখানার প্রতিটি ফ্লোরেই জরুরী নির্গমনের রাস্তা, অগ্নিনির্বপনের ব্যবস্থা এবং উৎপাদনের সময় প্রতিটি গেট খোলা থাকতে হবে। আইন লঙ্ঘন এবং অব্যবস্থাপনার কারনেই এতজন শ্রমিককে নির্মমভাবে প্রাণ হারাতে হয়েছে। ফলে অগ্নিকান্ডে ৫২ জনের অধিক শ্রমিকের মৃত্যু কোন দৃর্ঘটনা নয়, এটা অবহেলাজনিত এবং কাঠামোগত হত্যাকান্ড। শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার জন্য ডাইফ, ফায়ার সার্ভিস, স্থাপনা তদারকি সংস্থা, পরিবেশ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসনসহ সরকারের অনেকগুলি দপ্তরযুক্ত।
নেতৃবৃন্দ প্রশ্ন রাখেন, অগ্নিনির্বাপনের ব্যবস্থা ছাড়া, বিল্ডিং কোড অনুসরণ ছাড়া, আইন না মেনে কারখানা পরিচালনার অনুমোদন কিভাবে পেল? নেতৃবৃন্দ বলেন, কারখানা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিদর্শনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণও সমভাবে দায়ি।
নেতৃবৃন্দ, তদন্তপূর্বক দায়িত্ব অবহেলার জন্য দায়ি প্রত্যেককে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও বিচার করার দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ নিহত শ্রমিকদের পরিবার প্রতি আজীবন আয়ের সমান ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানিয়ে বলেন, কর্মক্ষেত্রে শ্রমিক হত্যাকান্ড বন্ধের সদিচ্ছা থাকলে আই.এল.ও কনভেনশন ১২১ এবং রানাপ্লাজা ধ্বসে হাইকোর্টের নিদের্শে গঠিত ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে শ্রম আইনের ১৫১নং ধারা ও
পঞ্চম তফসিল সংশোধন করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ অবিহিত করেন যে পর্যটন খাতে শ্রম আইন প্রয়োগের চিত্র তুলে ধরতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ওয়ার্কার্স-এমপ্লয়িজ ফেডারেশন এর উদ্যোগে আয়োজিত অনলাইন আলোচনা সভায় অতিথি হিসাবে আলোচনা করবেন বামগণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশিদ ফিরোজ, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, জাতীয় শ্রমিকজোট বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, উত্তারাঞ্চল হোটেল শ্রমিক পরিষদের সদস্য সচিব আব্দুল মমিন মন্ডল।
নেতৃবৃন্দ, কর্মসূচীর সংবাদ দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংবাদ কর্মীদের প্রতি আহবান জানান।