ডেস্ক রিপোর্ট
৭ জুলাই ২০২১, ৯:১৭ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: বাসদ (মার্কসবাদী)-র প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরীর মৃত্যুতে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত ও সাধারণ সম্পাদক নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী এক যুক্ত বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী বাংলাদেশের শোষিত মানুষের মুক্তির আন্দোলনে এক ঐতিহাসিক ও অনুকরণীয় চরিত্র। আজীবন তিনি শোষিত মানুষের মুক্তির আন্দোলনে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। এদেশের মানুষের মুক্তির আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করতে দেশের বুকে যথার্থ মার্কসবাদী বিপ্লবী দল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে স্বাধীনতার পর কমরেড শিবদাস ঘোষের শিক্ষা নিয়ে এদেশে এসেছিলেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, কমরেড শিবদাস ঘোষের সুযোগ্য ছাত্র হিসেবে, তিনি আমাদের শিখিয়েছেন – শুধু অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই নয় প্রতিক্রিয়াশীল পুঁজিবাদের যুগে ব্যক্তিবাদ যখন নিকৃষ্টরূপে আত্মপ্রকাশ করেছে সেই সময় বিপ্লবী চরিত্র গড়ে তোলা ছাড়া বিপ্লবী আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বিপ্লবী চরিত্র তথা ব্যক্তিগত স্বার্থমুক্ত হওয়ার সংগ্রামে তিনি ছিলেন অনুসরনীয় দৃষ্টান্ত। দলের কর্মী, সমর্থক , দরদী ও শ্রমজীবী মানুষের প্রতি তিনি গভীর দরদবোধ করতেন। মানুষের মুক্তি সংগ্রামে আজীবন একাত্মতা গড়ে তোলার সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী বিপ্লবী চরিত্র অর্জন করেছিলেন। এই চরিত্রের আকর্ষণে দলে অসংখ্য যুবক তরুণ নারী যুক্ত হয়েছে। যারাই তাঁর সংস্পর্শে এসেছে তাঁর চরিত্রের মাধুর্যে সবাই মোহিত হয়েছে। তাই কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরীর মৃত্যু এদেশের বাম প্রগতিশীল আন্দোলনে এক অপূরণীয় ক্ষতি।
তারা আরো বলেন, কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী আজীবন একটি যথার্থ মার্কসবাদী দল গড়ে তোলার সংগ্রাম যেমন করেছেন তেমনি নারী মুক্তির সংগ্রাম যে সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত সেই শিক্ষায় এদেশের নারীমুক্তি আন্দোলন তথা আমাদের সংগঠনকে দিক নির্দেশনা দিয়ে গড়ে তুলতে ভূমিকা পালন করেছেন। ফলে তারঁ মৃত্যুতে শুধু বাম প্রগতিশীল আন্দোলনই নয়, এদেশের নারী মুক্তির সংগ্রামও তার এক অকুণ্ঠ সুহৃদকে হারালো। বেদনার্ত হৃদয় এই প্রতিজ্ঞায় সজ্জিত হোক, তাঁর অপূরিত স্বপ্ন পূরণে আমরা শোষিত মানুষের সংগ্রাম ও নারী মুক্তির সংগ্রামে নিজেদের আরো একাত্ম করবো।