ডেস্ক রিপোর্ট
২ জুলাই ২০২১, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় ‘বি ইউনিটে পরীক্ষা না দিয়েই মেধাতালিকায় ১২ তম অবস্থানে আসার ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হলে, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে এ সংক্রান্ত তথ্য গণমাধ্যমে সরবরাহের অভিযোগ এনে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন! এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নেটওয়ার্ক’।
‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নেটওয়ার্ক’ প্লাটফর্মটির পক্ষ থেকে দেশের ১৯ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রতিনিধিরা ১ জুলাই এক যুক্ত বিবৃতিতে এই নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি জালিয়াতীর তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০তম সিন্ডিকেট সভায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মাহবুবুল হক ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে! অথচ যাদের যোগসাজশে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর নাম মেধাতালিকায় চলে আসলো, তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়নি। উল্টো দুই দফায় তদন্ত কমিটি গঠন করে গণমাধ্যমে তথ্য সরবরাহকারীকেই খুঁজে বের করেছে প্রশাসন।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একদিকে জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করছে, অন্যদিকে এই অনিয়মের তথ্য গোপণ করতে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করছে৷ প্রশাসনের এই তথ্য গোপণের প্রচেষ্টা কার্যত প্রশাসনিক অনিয়মের ইঙ্গিত বহন করছে৷
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক যদি অনুপস্থিত শিক্ষার্থীকে মেধাতালিকায় অানার তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ করেও থাকেন, সেটা কখনোই শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে না৷ জনগণের অর্থে পরিচালিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন অসঙ্গতি নিয়ে ছাত্র-শিক্ষক এমনকি সাধারণ জনগণেরও স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে৷ সেই গণতান্ত্রিক চর্চা কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত দ্বারা রুদ্ধ করা যাবে না৷ বরঞ্চ যে অনিয়মের অভিযোগ গণমাধ্যম প্রকাশ হয়েছে তার সুষ্ঠু তদন্ত প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব।
বিবৃতিতে অবিলম্বে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহবুবুল হক ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে সকল হয়রানিমূলক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, ভর্তি প্রক্রিয়ার সচ্ছতা নিশ্চিতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে হওয়া তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ, দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষকদের স্বাধীন মত প্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে নিম্নােক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা সাক্ষর করেছেন:
ছায়েদুল হক নিশান (শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), সুদীপ্ত দে (শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়), অনিমেষ রায় (শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়), জি কে সাদিক (শিক্ষার্থী, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়), মােস্তাক আহমেদ (শিক্ষার্থী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়), আশরাফি নিতু (শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়), রুহুল আমিন (শিক্ষার্থী, যবিপ্রবি), আলিসা মুনতাজ (শিক্ষার্থী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়), মাহফুজুল ইসলাম বকুল (শিক্ষার্থী, বেগম রােকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়), স.ম নাহিন রহমান (শিক্ষার্থী, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), রােমিও রহমান (শিক্ষার্থী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), জি এস নােমান (শিক্ষার্থী, শাবিপ্রবি), আপ্রুসি মারমা (শিক্ষার্থী, নােবিপ্রবি), আরিফুল হাসান (শিক্ষার্থী, বিইউবিটি), তানজিদ সােহরাব (শিক্ষার্থী, IUBAT), আবদুল্লাহ মেহদী দীপ্ত (শিক্ষার্থী, প্রাইমেশিয়া ইউনিভার্সিটি), সাইফুর রুদ্র (শিক্ষার্থী, বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদশ), ফাহিম আহমদ চৌধুরী (সিলেট ইটারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি), মনীষা ওয়াহিদ (শিক্ষার্থী, মেট্রােপলিটন ইউনিভার্সিটি)।