ডেস্ক রিপোর্ট
৮ জুন ২০২১, ৫:২৭ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: প্রস্তাবিত বাজেট প্রত্যাখান করে শিক্ষাখাতে জাতীয় বাজেটের ২৫ শতাংশ বরাদ্দের দাবিতে ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপর ১৫ শতাংশ কর আরোপের প্রতিবাদে ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদ রাজু ভাস্কর্যের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে৷
আজ ৮ জুন, ২০২১ রাজু ভাস্কর্যের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি মোঃ ফয়েজ উল্লাহ সভাপতিত্বে সহকারী সাধারণ সম্পাদক খায়রুল হাসান জাহিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সাংগঠনিক সম্পাদক সুমাইয়া সেতু ও সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মোট জিডিপি হিসাবে ২০২১-২২ অর্থ-বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ তো বাড়েইনি উল্টো গত অর্থ-বছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ০.৩৬ শতাংশ কমেছে। এই করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘ দেড় বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ৷ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত শিক্ষক- কর্মচারীরা বেশ কষ্টে দিনযাপন করছেন। এছাড়াও অর্থনৈতিক সংকটের ফলে শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পরেছে অসংখ্য শিক্ষার্থী। শিক্ষা বাজেটে নেই এসব শিক্ষার্থী-শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বিশেষ কোনো বরাদ্দ। শিক্ষাখাতে বরাদ্দের প্রস্তাব হয়েছে মোট বাজেটের ১১.৯২ শতাংশ যা মোট জিডিপির ২.০৮ শতাংশ। অথচ আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি শিক্ষাখাতে মোট বাজেটের ২৫ শতাংশ বা মোট জিডিপির ৮ শতাংশ বরাদ্দ দিতে হবে।
বক্তারা আরো বলেন, এই ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থাকে সংস্কার করার বদলে প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপর ১৫ শতাংশ ট্যাক্স আদায়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট টিউশন ফি নির্ধারণে কোনো নীতিমালা না থাকায় এই প্রস্তাবিত ট্যাক্সের চাপ গিয়ে পড়বে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর।
তারা আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকার বলছে তারা এমডিজি পূরণ করে এসডিজি বা সাস্টেইনেবল ডেভলপমেন্ট গোলের পথে হাটছে কিন্তু তারা শিক্ষাখাতে কখনই মোট বাজেটের ১২ শতাংশ বা মোট জিডিপির ২ শতাংশের উপরে বরাদ্দ দেয়নি। অথচ এমডিজি বা মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল লক্ষমাত্রা পূরণে বাজেটে শিক্ষা খাতে এককভাবে ২০ শতাংশ বরাদ্দ রাখার কথা। সরকার বরাবরই এই বিষয়ে মিথ্যাচার ও লোকচুরির আশ্রয় নিয়েছে।
সমাবেশে বক্তরা প্রস্তাবিত শিক্ষাবাজেট প্রত্যাখ্যান করে মোট বাজেটের ২৫ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপর ১৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব থেকে সরে আসার জন্য হুঁশিয়ারি দেন। সমাবেশ শেষে রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।