ডেস্ক রিপোর্ট

১৯ মে ২০২১, ৬:২৬ অপরাহ্ণ

সাংবাদিক রোজিনাকে হেনস্থার প্রতিবাদ জানালো বাচসাস ও এফটিপিও

আপডেট টাইম : মে ১৯, ২০২১ ৬:২৬ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের ওপর সচিবালয়ে নির্যাতন ও কারাগারে প্রেরণের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) এবং ফেডারেশন অব টেলিভিশন প্রফেশনালস অর্গানাইজেশন (এফটিপিও)।

আলাদা আলাদা বিবৃতিতে সংগঠন দুটি জানায়, একজন সাংবাদিককে আটক রেখে নির্যাতন করা ও জেলে পাঠানোর বিষয়টি তাদের বিবেককে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে। এমন ঘটনা তারা নিন্দাও প্রকাশ করেছে।

এফটিপিওর পক্ষ থেকে সংগঠনটির চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ, টেলিপ্যাব সভাপতি ইরেশ যাকের ও সাধারণ সম্পাদক সাজু মুনতাসির, ডিরেক্টর গিল্ড সভাপতি সালাউদ্দিন লাভলু ও সাধারণ সম্পাদক এস এম কামরুজ্জামান সাগর, অভিনয়শিল্পী সংঘের সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব নাসিম, টেলিভিশন নাট্যকার সংঘের সভাপতি মাসুম রেজা ও সাধারণ সম্পাদক এজাজ মুন্না একটি যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন।

সেখানে উল্লেখ হয়, ‌‌‘সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় বাধা দেওয়া বড় অন্যায়। আরও বড় অন্যায় প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাংবাদিক রোজিনাকে থানায় পাঠিয়ে দেওয়া। সেখান থেকে তাকে যেভাবে আদালতে হাজির করে জেলে পাঠানো হয়েছে, সেটা সীমা লঙ্ঘন করেছে।’

অন্যদিকে, বাচসাসের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবুর স্বাক্ষরিত বার্তাতে বলা হয়, ‘বাচসাস নেতৃবৃন্দ মনে করেন যে, কিছু সংখ্যক অসৎ আমলা তাদের ব্যক্তিগত দুর্নীতির অপরাধকে ধামাচাপা দিতেই অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে কারাগারে প্রেরণ করার জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করা হয়েছে।’

বাচসাস নেতারা আরও মনে করেন, ‘রোজিনা ইসলামের সাথে যে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে, তা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য অনেক বড় হুমকি। কিন্তু সাংবাদিক সমাজকে এভাবে সত্য প্রকাশে বিরত রাখা যাবে না। অতীতেও অনেক সরকার বাকস্বাধীনতা হরণ করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু সাধারণ জনগণ শেষ পর্যন্ত তাদেরকে ক্ষমা করেনি।’

বিষয়টি নিয়ে তারা তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করেন। এছাড়াও এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম।

উল্লেখ্য, পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সোমবার (১৭ মে) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গেলে দৈনিক প্রথম আলোর সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে পাঁচ ঘণ্টার বেশি আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ তাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়।

মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব ডা. মাে. শিব্বির আহমেদ ওসমানী শাহবাগ থানায় তার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের পক্ষে অভিযোগ দায়ের করেন। পরে তার অভিযোগটি মামলা আকারে রুজু করে পুলিশ। পরে পুলিশ জানায়, তাকে সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পাঠানো হয়েছে কাশিমপুর কারাগারে।

 

শেয়ার করুন