ডেস্ক রিপোর্ট
১৬ মে ২০২১, ৪:১৯ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: প্যালেস্টাইনের ওপর ইজরায়েলের ঔপনিবেশিক দখলদারিত্ব, নজিরবিহীন নিষ্ঠুরতা এবং খুনে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রচিন্তার আয়োজনে একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে আজ ১৬ই মে, রবিবার, সকাল ১১টায়।
উক্ত প্রতিবাদ-সভায় অংশ নেন রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য হাসনাত কাইয়ূম, আব্দুল জলিল, লিটন কবিরাজ, হাবিবুর রহমান জুনিয়র, দিদারুল ভূঁইয়া; রাষ্ট্রচিন্তা জার্নালের সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা হাবীবুর রহমান, বন্ধু সংগঠন মুক্তিফোরামের সদস্য রাফায়েত হৃদয়, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি সাখাওয়াত হোসেন ভূইয়া, রাইসুল ইসলাম প্রভূত।
সমাবেশ থেকে প্যালেস্টাইনের ওপর ইজরায়েলের ঘৃণ্য আক্রমণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়, কালো পতাকা প্রদর্শন করা হয়।
সারাবিশ্বের বিভিন্ন স্থানের মুক্তিকামী আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানানো হয়। সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্যালেস্টাইনের ওপর ইজরায়েলের এই বর্বরতা এবারই প্রথম নয়; বরং এটা ইজরায়েলের ধারাবাহিক বর্বরতারই বহিঃপ্রকাশ। বিশ্বের সাম্রাজ্যবাদী শক্তি এই সংকট তৈরি করেছে এবং সংকট জিইয়ে রাখার মাধ্যমে ফায়দা লুটছে, যার ফলশ্রুতিতে প্যালেস্টাইন পরিণত হয়েছে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে।
রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য হাসনাত কাইয়ূম তার বক্তৃতায় বলেন, আপনারা সকলে জানেন কোন পরিস্থিতিতে আমরা এখানে এসে একত্রিত হয়েছি। এখন যখন আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি, তখনো প্যালেস্টাইনে বোমা বর্ষণ চলছে। আল-জাজিরা, এপি’র মতো সংবাদ-প্রতিষ্ঠানের ভবন গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কোন না কোন মা তার সন্তানের লাশের সামনে আহাজারি করছে, কোন না কোন ফিলিস্তিনির লাশ নিয়ে মিছিল চলছে। যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী ও ঔপনিবেশিক শক্তি ভারতবর্ষে দুইশ বছর যাবৎ বর্বর আগ্রাসন ও লুন্ঠন চালিয়েছে, সেই একই শক্তির প্রত্যক্ষ মদদে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফিলিস্তিনের জমি দখল করে ইউরোপ থেকে বিতাড়িত ইহুদিদের নিয়ে এক অবাস্তব রাষ্ট্র ইজরায়েল কায়েম করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের বুকে এক স্থায়ী ক্যান্সারের বীজ বপন করা হয়। আজ সেই ক্যান্সার গোটা মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতাবস্থাকে তছনছ করে দিচ্ছে। আর ওইদিকে তথাকথিত মুসলিম নেতারা সাম্রাজ্যবাদীদের সাথে হাত মিলিয়ে এই গণহত্যার পক্ষাবলম্বন করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যারা কিনা সারা দুনিয়ায় মানবতার বুলি ফেরি করে বেড়ায়, তারা এই আগ্রাসনকে ‘আত্মরক্ষার অধিকার’ বলে বৈধতা দিচ্ছে।
এমতাবস্থায় একটা মুক্তিসংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অঙ্গিকার হিসেবে আমরা বাংলাদেশের নাগরিকরা এই ভয়াবহ জুলুমের বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করছি।
রাষ্ট্রচিন্তার আয়োজিত উক্ত প্রতিবাদ-সভা সঞ্চালনা করেন রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য দিদারুল ভূঁইয়া।