ডেস্ক রিপোর্ট

১ মে ২০২১, ৮:১৬ অপরাহ্ণ

মহান মে দিবসে সিলেটে ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের লাল পতাকা র্যালী ও সমাবেশ

আপডেট টাইম : মে ১, ২০২১ ৮:১৬ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

সিলেট প্রতিনিধি:: মহান মে দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে ১ মে শনিবার সকাল ১১ টায় সিলেট কীন ব্রিজ পয়েন্ট থেকে লাল পতাকা র্যা লি শুরু হয়ে নগরীর কোর্ট পয়েন্ট-জিন্দাবাজার-চৌহাট্টা পয়েন্ট ঘুরে পুনরায় সিলেট নগর ভবনের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশ সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শ্রমিকনেতা মোঃ সুরুজ আলী। সমাবেশে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শাহীন আলম।

সংগঠনের জেলা শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রমজান আলী পটুর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ ছাদেক মিয়া, সিলেট জেলা প্রেস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি একে আজাদ সরকার, সিলেট জেলা স’মিল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন এর সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী, সিলেট জেলা অতো-রাইছ মিল শ্রমিক ইউনিয়ন এর সাধারণ সম্পাদক ফয়সল আহমদ, জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা শাখার যুগ্ম-আহবায়ক নাজমুল হোসেন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, শ্রমিক শ্রেণীর রক্তঝরা সংগ্রামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মহিমায় মহিমান্বিত সংগ্রামের প্রতীক হচ্ছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস তথা ‘মহান মে দিবস’। শ্রেণি বিভক্ত সমাজে রক্তঝরা সংগ্রামের মধ্য দিয়েই শ্রমিক শ্রেণিকে অধিকার আদায় করে নিতে হয়। শ্রমিক শ্রেণির ছোট বড় বিচ্ছিন্ন স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন যূথবদ্ধ ও সংগঠিত রূপের আন্দোলনের সূচনা ঘটে ১৮৮৬ সালের ১ মে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটে সমাবেশের মাধ্যমে। সেই সমাবেশে বুর্জোয়া শ্রেণির সরকারের পুলিশ ও গুন্ডা বাহিনীর নির্মম দমন পীড়নের প্রতিবাদে ১ মে শ্রমিক ধর্মঘট পালিত হয়। ধর্মঘট চলাকালে পুলিশ ও বুর্জোয়াশ্রেণির দালালদের অতর্কিত হামলায় নিহত হন ৬ জন শ্রমিক এবং শত শত শ্রমিক আহত হন। এর প্রতিবাদে ৪ মে হে মার্কেটের সামনে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সভা চলাকালীন সময়ে পুলিশের পৈশাচিক গুলিবর্ষণে নিহত হন ৭ জন শ্রমিক এবং হতাহত হন অনেকে।

বক্তারা বলেন, ৮ ঘন্টা শ্রম দিবসের এই ঐতিহাসিক সংগ্রামে নেতৃত্ব দেবার কারণে পুলিশ গ্রেফতার করে অগাষ্ট স্পাইজ, সীমফেল্ডেন, মাইকেল, জর্জ এঞ্জেল, এডলফ ফিশার, লুই নিংগ এবং অস্কার নিবে- এই ৭ জন শ্রমিক নেতাকে। বুর্জোয়াশ্রেণি ও তাদের স্বার্থরক্ষাকারী সরকার ফাঁসির আদেশ দেয় শ্রমিকশ্রেণির নির্ভীক, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বীর নেতা অগাষ্ট স্পাইজ, পারসন, ফিশার, জর্জ এঞ্জেলকে। সেই সব বীর শ্রমিক নেতারা সেদিন সৃষ্টি করেন আত্মত্যাগ ও বিপ্লবী দৃঢ়তার এক উজ্জল দৃষ্টান্ত। প্রতিষ্ঠিত হয় ৮ ঘন্টা শ্রম, ৮ ঘন্টা বিনোদন ও ৮ ঘন্টা বিশ্রামের সময়সীমা। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি লাভ করে মহান মে দিবস।

বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি নয়া উপনিবেশিক দেশ হওয়ায় শুরু থেকে অদ্যাবধি প্রতিটি সরকারই অনেক জাতীয় স্বার্থ বিরোধী প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে যা সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থ রক্ষা করে চলেছে। ক্ষমতায় আসা বা টিকে থাকার জন্য আমাদের দেশের সরকারগুলো সাম্রাজ্যবাদের র্স্বাথকে প্রাধান্য দিয়ে চলে। রামপুর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বিভিন্ন চুক্তি সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থেই করা হচ্ছে। তাই আজ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী দেশপ্রেমিক শক্তিকে জাতীয় ও জনস্বার্থ বিরোধী সকল পদক্ষেপের বিরুদ্ধে এবং বাংলাদেশকে নিয়ে সাম্রাজ্যবাদীদের সকল অপতৎপরতা রুখে দাঁড়াতে হবে। অগ্রসর করতে হবে সকল সাম্রাজ্যবাদ ও দালালদের সৃষ্ট রাষ্ট্রীয় ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এক্যবদ্ধ আন্দোলন। প্রতিষ্ঠা করতে হবে সাম্রাজ্যবাদ সামন্তবাদ আমলা দালালপুঁজি বিরোধী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থা। বিশ্বব্যাপী শ্রমিক শ্রেণি ও জনগণের ওপর শোষণ-লুন্ঠন, নিপীড়ন-নির্যাতন, দু:খ-দারিদ্র, সন্ত্রাস, আগ্রাসী যুদ্ধ তথা বিশ্বযুদ্ধের মূল হোতা সাম্রাজ্যবাদ। সাম্রাজ্যবাদী তথা পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থাকে বৈপ্লবিক পন্থায় উচ্ছেদ সাধন করে সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠা করাই বিশ্বের শ্রমিক শ্রেণি ও জনগণের মুক্তির একমাত্র বিকল্প।

শেয়ার করুন