ডেস্ক রিপোর্ট

২৯ এপ্রিল ২০২১, ২:৫৫ অপরাহ্ণ

লকডাউনে শ্রমজীবীদের খাবার ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি

আপডেট টাইম : এপ্রিল ২৯, ২০২১ ২:৫৫ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

বগুড়া প্রতিনিধি:: লকডাউনে শ্রমজীবী মানুষের ১ মাসের খাবার ও নগদ ৫ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা ও মধ্যবিত্তদের স্বল্পমূল্যে রেশনিং নিশ্চিত করুন প্রতিদিন ১ লক্ষ করোনা টেস্টসহ সকলের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন এবং নিরবিচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিতে বগুড়ায় বাম গণতান্ত্রিক জোট এর বিক্ষোভ।

আজ বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১ টায় বাম গণতান্ত্রিক জোট বগুড়ার উদ্যোগে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে নগরীর সাতমাথায় এই মানববন্ধন-বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্টিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাম গণতান্ত্রিক জোট বগুড়ার সমন্বয়ক, সিপিবি জেলা সভাপতি জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না।

সমাবেশ সঞ্চালনা করেন বাসদ জেলা সদস্য সচিব সাইফুজ্জামান টুটুল।

বক্তব্য রাখেন বাসদ জেলা আহ্বায়ক অ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু, গণ সংহতি আন্দোলন জেলা সমন্বয়কারী আব্দুর রশিদ, সিপিবি জেলা সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ফরিদ, বাসদ জেলা সদস্য মাসুদ পারভেজ, সিপিবি জেলা নেতা হাসান আলী শেখ।

সমাবেশে সুচনা বক্তব্যে সভাপতি জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, “করোনার দ্বিতীয় ধাক্কায় দেশে আজ থেকে শুরু হলো ৪র্থ সপ্তাহের লকডাউন, করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাক্কা ঠেকাতে সরকার ঘোষিত এই লক ডাউন শ্রমজীবী মানুষের জন্য আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে। গত বছর সাধারণ ছুটির সময়ও জরিপে এসেছে প্রান্তিক জনগোষ্টির প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ তাদের খাদ্য বাবদ খরচ কমাতে বাধ্য হয়েছে এবং ৬৯ শতাংশ পরিবার ঋণ নিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করেছে। দেশের প্রায় ৫ থেকে সাড়ে ৫ কোটি শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়েছিল। এবারও দেশে অপরিকল্পিত লকডাউনের ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছে কোটি কোটি অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক। এবারেও ৫ এপ্রিল প্রথমে বলা হলো এক সপ্তাহের লকডাউন, পরে বলা হলো কিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা, তারপর প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হলো চলাচল সীমিত করা ইত্যাদি। কিন্তু দেখা গেল পরে মহানগরে গাড়ী চলাচল করতে দেয়া, দোকানপাট, শপিং মল খোলার অনুমতি দিয়ে এক লক্কর ঝক্কর লকডাউন। সর্বশেষ ঘোষণা করল সর্বাত্মক লকডাউন। একদিকে লকডাউন, অপর দিকে গার্মেন্টস কলকারখানা চালু অন্যদিকে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের কাজ নাই ফলে মানুষের আতঙ্ক কাটছে না। কাজেই শ্রমজীবী মানুষের ১ মাসের খাবার নিশ্চিত করা নগদ ৫ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা ও মধ্য বিত্তদের স্বল্পমূল্যে রেশনিং নিশ্চিত করা জরুরী হয়ে পড়েছে। দিন আনা দিন খাওয়া মানুষের খাদ্য, চিকিৎসা ও নগদ অর্থ দেয়ার দায়িত্ব সরকার না নিলে কোন লকডাউনই যে কার্যকর করা যাবে না এটা বারে বারে প্রমাণিত।”

অ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু বলেন, ‘করোনার ২য় ঢেউয়ে ব্রিটেন ও সাউথ আফ্রিকার ভেরিয়েন্ট আসার কথা বিসিএসআইআর জানুয়ারি ও ফেব্রæয়ারি মাসেই সরকারের আইইডিস্আির এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানিয়েছে। তখনো সরকার সময়োপযোগী কার্যকর কোন ভূমিকা পালন করেনি ফলে সেই ভেরিয়েন্ট আমাদের উপর ভয়াবহভাবে আক্রমণ করল। এখন আবার ইন্ডিয়া ভেরিয়েন্ট আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অনেক বেশি তীব্রতা সম্পন্ন করোনা ভেরিয়েন্ট আগ্রাসীভাবে সংক্রমণ করে চলেছে। ফলে হাসপাতালসমূহে রোগি সংকুলান হচ্ছে না, গত বছরের মতোই এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতাল, ৪/৫টি হাসপাতাল ঘুরে রাস্তায় এম্বুলেন্সেই মানুষ কোন প্রকার চিকিৎসা ছাড়াই মৃত্যুবরণ করছে। অন্যদিকে সরকারি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা করাতেই কমপক্ষে দেড়-দুই লাখ টাকা খরচ হয় এবং বেসরকারি হাসপাতালে কমপক্ষে ৫/৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়। এই ব্যয় বহুল চিকিৎসা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। ফলে বিনা মূল্যে সকল নাগরিকের করোনা পরীক্ষা, চিকিৎসা এবং টিকার ব্যবস্থা সরকারকেই করতে হবে। ভারতের একটি রাজ্যেই (মহারাষ্ট্রে) যেখানে দিনে দুই লাখ করোনা টেস্ট করা হয় সেখানে আমাদের দেশে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টেস্ট করা হয়েছে ১ দিনে। এটা বাড়িয়ে কমপক্ষে দিনে ১ লাখ টেস্ট করা এবং নিরবিচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরী।”

সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা বলেন, চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে গত ১৮ এপ্রিল এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এস এস পাওয়ার প্লান্টের শ্রমিকদের বেতনসহ ন্যায়সংগত ১০ দফা দাবিতে শান্তিপূূর্ণ বিক্ষোভে বিনা উস্কানীতে মালিকের নির্দেশে পুলিশ, আনসার, সিকিউরিটি ও সন্ত্রাসী বাহিনীর গুলিতে ঘটনাস্থলেই ৩ জন, ঐদিনই হাসপাতালে ২ জন এবং পরে আরো দুইজনসহ মোট ৭ জন হত্যার শিকার হয়।এই হত্যাকান্ডকেও অতীতের মত বিচারহীনভাবে না রেখে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং নিহত ও আহতদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। নেতৃবৃন্দ সরকাকে অবিলম্বে এই সমস্ত দাবি বাস্তবায়নে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানায়।

শেয়ার করুন