ডেস্ক রিপোর্ট
২৫ এপ্রিল ২০২১, ১০:৫৬ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: করোনা অতিমারী সময়ে গার্মেন্টস শ্রমিক, গৃহশ্রমিক ও শ্রমজীবী নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভাতা বরাদ্দ, এনজিও ঋণ মওকুফ ও মহাজনী কারবার বন্ধ সহ ৬দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর নারীমুক্তি কেন্দ্র এর স্মারকলিপি।
বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে করোনাকালীন সময়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা, রেশন চালু, খাদ্যের জন্য মাসিক বরাদ্দের দাবিতে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী ও সারা দেশে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে। স্মারকলিপি প্রদানের পূর্বে জাতীয় প্রেসক্লাবে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সভাপতি সীমা দত্ত ও সাংগঠনিক সম্পাদক তাসলিমা আক্তার বিউটি। সমাবেশ পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক নাঈমা খালেদ মনিকা।
বক্তারা বলেন, “করোনা ভাইরাসের অতিমারীতে বর্তমান পরিস্থিতি নাজুক। কারণ, দেশে ভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়া এবং জনগণের খাদ্য-কাজের অনিশ্চয়তা। এর মধ্যেই দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। জনমনে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, শঙ্কা, নিরাপত্তাহীনতা চরম রূপ নিয়েছে। বেকারত্বের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। খবরে প্রকাশ এই সময়ে ২.৫ কোটি নতুন করে দরিদ্র হয়েছে, অন্যদিকে কোটিপতি বেড়েছে ৩,৪১২ জনেরও বেশি। শিক্ষা ব্যবস্থার চরম দুরবস্থা জাতির ভবিষ্যৎকে ধুলায় লুন্ঠিত করেছে। ছাত্র যুবকদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পণ্যে পরিণত করার চলমান প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে মহামারী করোনা ভাইরাস। আজ সবচেয়ে বড় ব্যবসা এবং দুর্নীতির প্রধান ক্ষেত্র এই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ডাক্তার- নার্স-টেকনিশিয়ান নাই। ফলে সাধারণ জনগণ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কোভিড-১৯ এর কারনে সকল শ্রমজীবী, পেশাজীবী মানুষের কাজের ক্ষেত্র একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান খাত গার্মেন্টসে লক্ষ লক্ষ নারী-পুরুষ কর্মরত। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেই। গার্মেন্টস খোলা রেখে তাদের মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলা হয়েছে। কাজ হারিয়ে গৃহকর্মীদের মধ্যে অনেকেরই অবস্থা নাজুক। গ্রামীণ শ্রমজীবী নারীদের কাজ না থাকায় অনাহারে অর্ধাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বেঁচে থাকার জন্য ঘরে ন্যূনতম খাদ্য নাই, মাথার উপর এনজিও ঋণের কিস্তি, মহাজনী সুদের চাপে মানুষ দিশেহারা। সহায় সম্বলহীন রিক্ত নিঃস্ব মানুষের কবরই এখন একমাত্র ঠিকানা।
কর্মহীন মানুষ হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে নানারূপ অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে, যার প্রধান শিকার হচ্ছে নারী ও শিশু। করোনা পরিস্থিতিতে তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। দেশের এহেন নাজুক পরিস্থিতিতে যারা কলের চাকা ঘোরায়; ক্ষেতে লাঙ্গল চালায়; উদয়াস্ত পরিশ্রম করে সকলের মুখের আহার জোগায় সে সকল শ্রমজীবী মানুষদের বাঁচিয়ে রাখতে, জীবন-জীবিকা সচল রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে নিম্বের দাবি উত্থাপন করা হয়।
১. নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
২. গার্মেন্টস ও গৃহকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতি মাসে পরিবার পিছু পর্যাপ্ত খাবার ও পাঁচ হাজার টাকা বরাদ্দ দিন।
৩. সকল নাগরিকদের বিনামূল্যে করোনা টেস্ট, চিকিৎসা ও টিকা দিতে হবে। জেলা উপজেলায় করোনা পরীক্ষায় জঞচঈজ ল্যাব স্থাপন করুন।
৪. ডাক্তার, নার্স, টেকনিশিয়ান সহ পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ করে তাদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও ঝুঁকি ভাতা সহ প্রণোদনা দিন।
৫. গ্রামীণ কর্মহীন শ্রমজীবি নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করুন।
৬. করোনাকালীন এনজিও ঋণ মওকুফ ও মহাজনী সুদী কারবার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।