ডেস্ক রিপোর্ট

২৪ এপ্রিল ২০২১, ২:৩৬ অপরাহ্ণ

রানপ্লাজা ধ্বসের ৮ম বার্ষিকীতে বগুড়ায় শ্রমিক ফ্রন্টের মানববন্ধন-সমাবেশ

আপডেট টাইম : এপ্রিল ২৪, ২০২১ ২:৩৬ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

বগুড়া প্রতিনিধি:: রানপ্লাজা ধ্বসের ৮ম বার্ষিকীতে নিহত-নিখোজ শ্রমিকদের স্মরণে, আহত-ক্ষতিগ্রস্থদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন এবং আইন সংশোধন করে রানাপ্লাজা হত্যাকান্ডের জন্য দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, ২৪ এপ্রিলকে রাষ্ট্রিয়ভাবে গার্মেন্টস শ্রমিক শোক দিবস ঘোষণর দাবিতে বগুড়ায় সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের মানববন্ধন-সমাবেশ অনুষ্ঠিত।

করোনা দুর্যোগকালীন লকডাউন পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারীরীক দুরত্ব বজায় রেখে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে আজ শনিবার (২৪ এপ্রিল ২০২১) সকাল সাড়ে ১১ টায় শহরের সাতমাথায় এই প্রতিবাদী মানববন্ধন-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বগুড়া জেলা সভাপতি শ্রমিকনেতা সাইফুজ্জামান টুটুল, সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ বগুড়া জেলা আহবায়ক কমরেড এ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বগুড়া জেলা সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা মাসুদ পারভেজ, সহ-সভাপতি শিবসংকর শিবু, যুগ্ম সম্পাদক সুরেশ চন্দ্র দাস মনো, সাংগাঠনিক সম্পাদক আবু রায়হান প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা কর্মক্ষেত্রে অবহেলাজনিত মৃত্যুতে আজীবন আয়ের সমান (৪৮ লক্ষ টাকা) ক্ষতিপুরণ নির্ধারণ করা, রানাপ্লাজা ধ্বসে আহতদের ক্ষতিপূরণ ও পূনর্বাসন নিশ্চিত করা, বে-আইনি শ্রমিক ছাঁটাই, লে-অফ বন্ধ করা, করোনায় কর্মহীন সকল শ্রমিকের পূর্ণ বেতন-ভাতা এবং লকডাউনের এক মাসের খাবার ও নগদ সহায়তা প্রদান করা, করোনা সংক্রমিত শ্রমিকের চিকিৎসা, মৃত্যুতে ক্ষতিপুরণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে নিশ্চিত করার দাবি জানান।

কমরেড সাইফুল ইসলাম পল্টু বলেন, বাংলাদেশের পোষাক শিল্পে শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ কাঠামোগত হত্যাকান্ড সংগঠিত হওয়ার ৮ম বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও এগার শতাধিক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু, তিন শতাধিক শ্রমিক নিখোঁজ এবং প্রায় তিন সহস্র শ্রমিক মারাত্বক আহত হওয়ার জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়নি। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতিই কর্মক্ষেত্রে শ্রমিককে আরও বেশি নিরাপত্তাহীন করেছে। শ্রমিকের নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারকে অস্বীকার করতে দায়িত্বহীন আচরণ করতে মালিকদের উৎসাহিত করে। সেই কারণেই করোনা দুর্যোগের সময়ও মালিকরা শ্রমিকদের বাঁচানোর দায়িত্ব না নিয়ে বরং বেতন পরিশোধ না করে, বে-আইনিভাবে ছাঁটাই এবং কারখানা লে-অফ করে শ্রমিকদের মৃত‚্য ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। মালিকেরা শ্রমিকের কর্মসংস্থানের দোহ্্াই দিয়ে প্রণোদনার রাষ্ট্রের কাছ থেকে হাজার-হাজার কোটি টাকার সুবিধা নিয়েও দুর্যোগ মুহুর্তে শ্রমিকদের ঝুঁকিতে ফেলা অনৈতিক অপরাধমূলক আচরন করেই চলেছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের রাষ্ট্র নিরব দর্শকের ভূমিকাই অবতীর্ন হয়েছে। সেই কারণে অর্থ আর ক্ষমতা থাকলে অপরাধ করেও দায়মুক্তি পাওয়া যায়। দুর্বল শ্রমিকরা কখনোই তাদের অভিযুক্ত করতে পারবেনা। এই ধারণা থেকেই মালিকরা বারবার ঔদ্ধ্যত্বপূর্ণ আচরন করে।

শ্রমিকনেতা সাইফুজ্জামান টুটুল বলেন, রানা প্লাজা হত্যাকান্ডের এত বছর পরও এখনো অনেক ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকরা ক্ষতিপূরণ পায়নি। অথচ রানা প্লাজা ধসের পর সরকারি কোষাগারে ১২৭ কোটি ও গার্মেন্টস মালিকের (বিজিএমই) তহবিলে ১৪ কোটি টাকা জমা পড়েছিল। সেই টাকা গুলি ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকদের কিভাবে দেওয়া হলো আমরা তা জানিনা। পঙ্গু ও আহত সকল শ্রমিকদের পূনর্বাসন আজও করা হয়নি।

 

শেয়ার করুন