ডেস্ক রিপোর্ট

২৪ এপ্রিল ২০২১, ১১:৫২ অপরাহ্ণ

কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি

আপডেট টাইম : এপ্রিল ২৪, ২০২১ ১১:৫২ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: করোনার আক্রমণে দেশের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ হলো কৃষক, ক্ষেতমজুর ও কৃষিজীবী মানুষ মন্তব্য করে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

২৩ এপ্রিল ২০২১ শুক্রবার বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠন কেন্দ্রীয় কমিটির অনলাইন বৈঠকে নেতৃবৃন্দ এই দাবি জানান।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য আহসানুল হাবীব সাঈদ। বৈঠকে আরও অংশগ্রহণ করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য হাসিনুর রহমান, আনোয়ার হোসেন বাবলু, গোলাম সাদেক লেবু, মহিউদ্দিন মহির, আহসানুল আরেফিন তিতু প্রমুখ।

বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “করোনার আক্রমণের মুখে মানুষ একবছর পার করল হাজার হাজার স্বজনদের হারিয়ে। তারপরও এ থেকে গত একবছরে কোনো শিক্ষাই নেয়নি সরকার, করোনা মোকাবিলার তথাকথিত সাফল্যগাথা প্রচারেই ব্যস্ত ছিল। দ্বিতীয়বার করোনা যখন দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে হামলে পড়লো মানুষের উপর, তখন আর একবার উন্মোচিত হলো-জনগণের প্রতি সরকারের দায়িত্বহীনতা, চিকিৎসা ব্যবস্থার বেহাল দশা এবং চরম দুর্নীতি লুটপাটের চিত্র। করোনা নিয়ন্ত্রণে তড়িঘড়ি করে অপরিকল্পিত লকডাউন ঘোষণা করলো সরকার। লকডাউনের মেয়াদ আরও ৭ দিন বাড়ানো হয়েছে।”

নেতৃবৃন্দ বলেন, “করোনার আক্রমণে দেশের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ হলো কৃষক, ক্ষেতমজুর ও কৃষিজীবী মানুষ। যদিও এই পরিস্থিতিতে সবকিছু যখন স্থবির, তখন উৎপাদন অব্যাহত রেখে দেশের মানুষের মুখে অন্ন তুলে দিচ্ছে তারাই। সাম্প্রতিক সময়ের কালবৈশাখী ঝড়ে ধান, ভুট্টা, ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় উত্তরবঙ্গের কৃষক, ক্ষেতমজুররা চরম বিপদের মধ্যে পড়েছে। হাওড় অঞ্চলের ধান কাটার সময় হয়েছে। সঠিক সময়ে ধান কাটতে না পারলে বন্যায় বা অন্য দুর্যোগে ধান নষ্ট হয়ে যাবে। আবার দুর্যোগের হাত থেকে বাঁচলেও ফসলের ন্যাযমূল্য কৃষকের হাতে পৌঁছায় না, ক্ষমতাসীন দলের নেতা, দালাল, ফড়িয়ারা কৃষকের কষ্টের ফল লুটে নেয়। কৃষিতে সারাবছর কাজ থাকে না। ফলে ক্ষেতমজুর ও গরীব কৃষকরা মৌসুমী কাজের বাইরে শহরে গিয়ে রিক্সা, অটো, ভ্যান চালানো, নির্মাণসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করে পরিবার চালায়।

লকডাউন ঘোষণার পূর্বে সরকার এই বিষয়গুলি আমলে নেয়নি, কোনো পরিকল্পনা করেনি। লকডাউনের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় কৃষকের অনেক ফসল জমিতেই নষ্ট হচ্ছে, আবার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষক সার-বীজের দামও তুলতে পারে না। অথচ বাজারে চাল-ডাল, শাক-সব্জির অগ্নিমূল্য। জমিতে কাজ নেই, আবার লকডাউনের কারণে বিকল্প কাজগুলো বন্ধ হওয়ায় লক্ষ লক্ষ কৃষিজীবী গরীব মানুষ অনাহারে, অর্ধাহারে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তরা ভাঙা ঘরেই ঝুঁকি নিয়ে কোনরকম মাথা গুঁজে দিন অতিবাহিত করছে। সরকারের উচিৎ ছিলো এই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত জরুরি ত্রাণের আওতায় নিয়ে আসা, কিন্তু সরকার সে কাজ করেনি। বাড়িতে খাবার না থাকায় এবং এনজিও’র কিস্তির যন্ত্রণায় মানুষ রিক্সার হ্যান্ডেল ধরতে বা কাজ-খাদ্যের খোঁজে বাইরে আসতে বাধ্য হচ্ছে। আর যারা শহরে ঝুঁকি নিয়ে রিক্সা চালাতে যায়, তাদের বেশিরভাগ ক্ষেতমজুর ও গরীব কৃষক। লকডাউনের নাম করে পুলিশ প্রশাসন এদের রিক্সা, অটো ভেঙে দেয়া, জব্দ করা, জরিমানা করাসহ নানান অমানবিক জনবিরোধী কাজ করছে। তারপরও মানুষ বের হচ্ছে, লকডাউন অমান্য করছে। এসব ঘটনা থেকে স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যায় মানুষ কতটা নিরুপায় হলে এত সব ঝুঁকি থাকার পরও রাস্তায় আসতে বাধ্য হয়। সরকারের উচিৎ ছিলো রাস্তায় আসা রিক্সা, অটো চালকদের নগদ টাকা ও খাদ্য দিয়ে বাড়িতে পাঠানো। এতে লকডাউনও কার্যকর হতো, কিন্তু তা না করে সরকার গায়ের জোরে লকডাউন কার্যকর করতে চায়।

দুর্নীতি-লুটপাট, অবহেলায় চিকিৎসার বেহাল দশার কারণে করোনায় আক্রান্ত হলে গরীব কৃষক, ক্ষেতমজুর, নিম্ন-আয়ের মানুষের মৃত্যুই একমাত্র পরিণতি। সরকারী হাসপাতালগুলোতে করোনা চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সব ঔষধের ব্যবস্থা না থাকায় একেকজন করোনা রোগীর সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা করাতেই লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়, যা বহন করার সামর্থ্য এই শ্রেণীর মানুষের নেই। আবার বর্তমানে চড়ামূল্যে ঔষধ কেনাও দুঃসাধ্য।

তাই করোনাকালে বিপর্যস্ত কৃষি, কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের রক্ষায় আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে নিম্নোক্ত দাবি বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানাই:

১. প্রান্তিক কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের আর্মিরেটে রেশন দাও। ১০টাকা কেজি দরে ওএমএস-এর পর্যাপ্ত চাল বিক্রির ব্যবস্থা কর। টিসিবির পণ্যের দাম কমাও, পাড়ায় পাড়ায় বিক্রির ব্যবস্থা কর, ব্যবহার অনুপযোগী পণ্য বিক্রি বন্ধ কর।

২. কৃষিঋণ মওকুফ কর, এনজিও’র কিস্তি বন্ধ কর, কৃষকদের বিনাসুদে দীর্ঘমেয়াদে পরিশোধযোগ্য ঋণ দাও। প্রান্তিক চাষী ও বর্গাচাষীদের সরাসরি আর্থিক প্রণোদনা দাও।

৩. সরকারঘোষিত মূল্যে খোদ কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের ব্যবস্থা কর। সরকারী গুদামে কৃষক ছাড়া ব্যবসায়ী দালাল, ফড়িয়াদের ধান বিক্রি নিষিদ্ধ কর।

৪. জেলায় জেলায় আরটিপিসিআর (জঞচঈজ) ল্যাব স্থাপন করে দৈনিক এক লাখ কোভিড টেস্ট কর। হাসপাতালগুলোতে করোনা চিকিৎসায় বেড সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রতি জেলায় কমপক্ষে ৫০টি আইসিইউ বেড স্থাপন কর। সরকারী হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার সকল ঔষধ, পথ্য বিনামূল্যে চাই।”

শেয়ার করুন