ডেস্ক রিপোর্ট

১৮ এপ্রিল ২০২১, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ

বাঁশখালীতে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বাসদের প্রতিবাদ সমাবেশ

আপডেট টাইম : এপ্রিল ১৮, ২০২১ ৭:৩৬ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:: বাঁশখালিতে কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বকেয়া বেতন-ভাতা এবং রোজার সময়ে অফিসের সময় পুণঃনির্ধারণের দাবিতে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের উপর এস.আলম. গ্রুপের নিরাপত্তারক্ষী, আনসার এবং পুলিশের নির্বিচার গুলিবর্ষণে, পাঁচজন শ্রমিকের মৃত্যু এবং অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হওয়ার ঘটনায় দায়ীদের শাস্তি, নিহত শ্রমিকদের আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ, আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ এবং বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধসহ শ্রমিকদের উত্থাপিত দাবিসমূহ অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবিতে চট্টগ্রামে বাসদের প্রতিবাদ সমাবেশ।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে আজ রোববার (১৮ এপ্রিল) বিকাল ৪ টায় নগরীর নিউমার্কেট মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ চট্টগ্রাম জেলার সদস্য নুরুলহুদা নিপু, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রাম নগরের সভাপতি রায়হান উদ্দিন। সমাবেশ পরিচালনা করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রাম নগরের সাধারণ সম্পাদক ঋজু লক্ষ্মী অবরোধ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, করোনা সংক্রমণরোধে সরকার ঘোষিত লকডাউনে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমজীবী মানুষরা কর্মহীন হয়ে অসহায়ত্ব-অস্থিরতা আর প্রাতিষ্ঠানিক খাতের কর্মরত শ্রমিকেরা প্রাপ্ত মজুরি দিয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যায় ও দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতীর কারণে বর্ধিত ব্যয়ের কষাঘাতে যন্ত্রণার মধ্যে জীবন-যাপন করছে। শ্রমিকদের জীবন ও জীবীকার এক অসীম সংকট তৈরি হয়েছে। এই শ্রমজীবী মানুষদের রক্ষার দায়িত্ব সরকার নেয়নি। অথচ আমরা দেখলাম সরকার এস.আলম গ্রুপের ঋণের ৩ হাজার কোটি টাকা মাফ করে দিয়েছে, প্রণোদনার নামে মালিকদের হাজার-হাজার কোটি টাকা নামমাত্র সুদে ঋণ দিয়েছে। এই সময়ে বাশখালীতে যখন শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য দাবিতে বিক্ষোভ করছিলো,তখন তাদের দাবিকে কর্ণপাত না করে উল্টো এই শ্রমিকদের উপর পুলিশ দিয়ে হামলা করা হয় এবং গুলি চালিয়ে নির্মমভাবে ৫ জন শ্রমিককে হত্যা ও অর্ধাতিকশতাধিক শ্রমিক সেখানে গুরুতরভাবে আহত করা হয়।

এই ঘটনার সাথে জড়িত পুলিশ সদস্যদের শাস্তির আওয়ায় না এনে উল্টো দেড় হাজার শ্রমিকের নামে সেখানে অজ্ঞাতনামা মামলা করা হয়েছে। মৃত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের জন্য মাত্র ৩ লক্ষ টাকা ঘোষণা করা এই শ্রমিকদের জীবনকে নিয়ে এই মালিকদের তামাশা ও দায়হীন মনোভাবের বহিপ্রকাশ।

সমাবেশে বক্তারা দাবি জানান, অবিলম্বে এই শ্রমিকদের নামে সকল মামলা প্রত্যহার করে তাদের সকল দাবি মেনে নিতে হবে। নিহত শ্রমিকদের আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ ও আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার সকল ভার বহন করতে হবে এবং বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

 

শেয়ার করুন