ডেস্ক রিপোর্ট

১৭ এপ্রিল ২০২১, ৬:০২ অপরাহ্ণ

মাফিয়াদের মুনাফার স্বার্থে শ্রমিক হত্যা করছে সরকার: গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল

আপডেট টাইম : এপ্রিল ১৭, ২০২১ ৬:০২ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: চট্টগ্রামের বাঁশখালির গন্ডামারা ইউনিয়নে এস আলম গ্রুপের নির্মাণাধীন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-বোনাস পরিশোধ, ইফতারে পর্যাপ্ত বিরতি, ব্যবহারযোগ্য শৌচাগারসহ কয়েকটি ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের উপর পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালিয়ে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল।

আজ শনিবার (১৭ এপ্রিল) গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আরিফ মঈনুদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল বিশ্বাস এক যুক্ত বিবৃতিতে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বলেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহতের সংখ্যা সরকারীভাবে ৪ জন বলা হলেও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে এই সংখ্যা অন্তত ১০ জন। আহত হয়েছে শতাধিক শ্রমিক।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০১৬ সালে বাঁশখালিতে সাধারণ মানুষের বসতভিটা উচ্ছেদ করে, ৪ জন স্থানীয় নাগরিককে গুলি করে,তাদের লাশের উপর যে পরিবেশ বিধ্বংসী বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছিল, আজ ৫ বছর পর; সেই একই বিদ্যুৎকেন্দ্রে মুনাফার স্বার্থে মানুষ হত্যার পুনরাবৃত্তি ঘটলো। শ্রমিকদের ভাষ্যমতে বিদ্যুৎ প্লান্টে কর্মরত প্রায় চার হাজার শ্রমিককে প্রতিদিন অমানবিক শ্রম দিতে হয়। যথাসময়ে বেতন বোনাস পরিশোধ, ইফতারে পর্যাপ্ত বিরতি, ব্যবহারযোগ্য পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা পর্যন্ত রাখা হয়নি শ্রমিকদের জন্য। অথচ শ্রমিকরা এর প্রতিবাদ জানালে রাষ্ট্রীয় পুলিশ বাহিনী শ্রমিকদের উপর নির্বিচারে গুলি চালায়। মালিক শ্রেণীর একচেটিয়া মুনাফার স্বার্থে বাঁশখালির শ্রমিকদের উপর এই অমানবিক নির্যাতন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আরেকাটি মানবতাবিরোধী অপরাধের নজীর স্থাপন করলো।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বাঁশখালিতে জনগণের জানমাল ও পরিবেশ রক্ষার দাবিতে শুরু থেকেই কয়লাভিত্তিক পাওয়ার প্লান্টের বিরুদ্ধে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে আন্দোলন চলে আসছিল। এবং প্রতি ক্ষেত্রেই আন্দোলন দমনে সরকার ও মালিকগোষ্ঠি বেপরোয়া আক্রমণ চালিয়েছে। এই প্রতিটি আক্রমণের জবাব জনগণকে দিতে হবে। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে এস আলম গ্রুপের মত অসংখ্য মাফিয়া গোষ্টি ও তার সেবাদাস আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

শেয়ার করুন