ডেস্ক রিপোর্ট

৯ এপ্রিল ২০২১, ৪:১৬ অপরাহ্ণ

লকডাউনে পর্যটন খাতের কর্মহীন শ্রমিকদের খাদ্য ও নগদ সহায়তার দাবি

আপডেট টাইম : এপ্রিল ৯, ২০২১ ৪:১৬ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ওয়ার্কার্স-এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের আহবায়ক রাশেদুর রহমান রাশেদ এবং সদস্য সচিব আহসান হাবিব বুলবুল করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ঘোষিত লকডাউনে পর্যটন খাতে কর্মরত শ্রমিকদের ছাঁটাই বন্ধ, তাদেও বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধ এবং কর্মহীন শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় খাদ্য ও নগদ সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার গত বছর করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে জাতীয় পর্যায়ে ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত ৬৬ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলেও ৪ মাসের অধিককাল পর্যটন কেন্দ্র সমূহ চালু করার অনুমতি দেয়নি। সেই সময় এই খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মরত প্রায় ৪০ লক্ষ শ্রমিক তাৎক্ষণিকভাবে বেকার হয়ে গিয়েছিল। পর্যটন কেন্দ্রগুলি বন্ধ থাকার সময়ে হোটেল-মোটেল-রেষ্টহাউজ-রেঁস্তোরার মালিকরা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাবদ কোন অর্থ পরিশোধ করেননি। এমন কি করোনার অজুহাতে ৮-১০ বছর ধরে কর্মরত শ্রমিকদের কোন ধরণের ক্ষতিপূরণ না দিয়ে চাকুরিচ্যুত করেছেন। সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা সমূহ কর্মহীন হয়ে যাওয়া এই শ্রমিকদের চাকুরি রক্ষা কিংবা সহায়তা প্রদানে কোন ভুমিকা রাখেনি। অর্থাৎ যে সময়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবেলায় চিকিৎসা, পরিচ্ছন্নতা এবং পুষ্টিকর খাদ্য সামগ্রী নিশ্চিত করা জরুরি সেই সময় পর্যটন খাতে কর্মরত ৪০ লক্ষ শ্রমিক এবং তাদের উপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যসহ প্রায় দেড়কোটি মানুষ চরম অনিশ্চয়তা এবং অসহায়ত্বের মধ্যে ঋণ করে দিনযাপন করেছে। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে পর্যটক সংখ্যা কমে যাওয়ায় প্রধানত বকশিশের উপর নির্ভরশীল পর্যটন খাতের শ্রমিক-কর্মচারীরা টানাপোড়নের মধ্যে জীবনযাপন করছিল।

নেতৃবৃন্দ বলেন, গত বছরের বন্ধকালিন সময়ে করা ঋণের টাকা এখনো পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। এই অবস্থায় সরকার এপ্রিলের শুরু থেকে পুণরায় পর্যটন কেন্দ্রসমূহ বন্ধ এবং ৫ এপ্রিল থেকে লকডাউন ঘোষণা করেছে এবং ১৪ এপ্রিল থেকে কঠোরভাবে লকডাউন পালনের ঘোষণা দিয়েছে। পর্যটন খাতের সাথে যুক্ত মালিকরা পূর্বের বছরের মতই সম্পূর্ণ দায়িত্বহীনভাবে শ্রমিক-কর্মচারীদের চাকুরিচ্যুত বা বিনামজুরিতে বাধ্যতামুলক ছুটিতে পাঠাচ্ছে। যা পর্যটন শ্রমিকদের সপরিাবরে প্রায় অর্ধাহার-অনাহারের অমানবিক জীবনের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার ১৯৯৯ সালে পর্যটন খাতকে শিল্পের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করলেও অদ্যবধি শ্রম আইনের শিল্প প্রতিষ্ঠানের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেনি, ফলে এই খাতে কর্মরত লক্ষ-লক্ষ শ্রমিক শ্রম আইনের সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর শ্রম আইন বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারাও তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছেনা।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ২০১৯ সালে বাংলাদেশের জিডিপিতে পর্যটন খাতের ভুমিকা ছিল ৯৫০.৭ বিলিয়ন টাকা যা জিডিপির ৪.২ শতাংশ। বাংলাদেশের নৈসর্গীক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে সাথে উন্নত সেবাযুক্ত করতে পারলে পরবর্তী দশ বছরে জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান হতে পার এক-পঞ্চমাংশের বেশী। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে পাশাপাশি পর্যটক আর্কষনের দ্বিতীয় ভিত্তি হলো দক্ষ হাতের উন্নত সেবা। তাই সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পের বিকাশের প্রয়োজনেও দক্ষ শিল্পিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরী।

নেতৃবৃন্দ, লকডাউনের সময় অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত না করে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য মালিকদের প্রতি আহবান জানানোর পাশাপাশি কর্মহীন শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য ও নগদ সহায়তা প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি জোড় দাবি জানান।

শেয়ার করুন