ডেস্ক রিপোর্ট
৩ জুলাই ২০২১, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: কানাডায় তীব্র তাপদাহের মধ্যেই দাবানলে পুড়ছে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া। রেকর্ড ১৩০টির বেশি দাবানল সক্রিয় রয়েছে সেখানে। দাবানলগুলোর বেশিরভাগই বজ্রপাত থেকে সৃষ্টি হয়েছে।
কানাডার ফেডারেল সরকার জানিয়েছে, কানাডার পশ্চিমাঞ্চলে সৃষ্ট দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং শহরগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে সেনাবাহিনীর উড়োজাহাজ পাঠাবে দেশটির সরকার। খবর বিবিসির।
সম্প্রতি ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার লিটন গ্রামে দেশটির সর্বকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এরপরই শুরু হয় ভয়াবহ দাবানল। এতে লিটন গ্রামের মানুষজন গ্রাম ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। শুধু কানাডা নয়, উত্তর আমেরিকাজুড়েই অস্বাভাবিক রকম চড়া গরম পড়ছে এবার।
এদিকে কানাডার ভ্যানকুভার থেকে ২৬০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে একটি গ্রামে প্রায় ২৫০ জন মানুষের বসবাস। সেখানে দাবানলের কারণে বুধবার সন্ধ্যায় কোনরকম জিনিসপত্র ছাড়াই গ্রামের মানুষ পালাতে বাধ্য হয়। সেখানকার মেয়র জ্যান পোল্ডারম্যান জানান, প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে পুরো শহরে আগুনে ছড়িয়ে পড়ে।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ওয়াইন্ডফায়ার সার্ভিস শুক্রবার জানায়, ব্রিটিম কলাম্বিয়ায় ১৩৬টি দাবানল সক্রিয় রয়েছে এবং আগের দিন রেকর্ড ১২ হাজার বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছিল সেখানে।
প্রাদেশিক কার্যক্রমের পরিচালক ক্লিফ চ্যাপমান জানান, বেশিরভাগ বজ্রপাত লোকালয়ের কাছাকাছি আঘাত হানে।
কানাডার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জেরিফ স্যাজান বলেন, দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং শহরগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে সেনাবাহিনীর উড়োজাহাজ পাঠাবে সরকার।
জননিরাপত্তা মন্ত্রী বিল ব্লেয়ার বলেন, বৈরি আবহাওয়া এবং দাবানল ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় ‘ধ্বংসাত্মক এবং নজিরবিহীন’ প্রভাব ফেলেছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অরিগন অঙ্গরাজ্য থেকে কানাডার আর্কটিক অঞ্চল পর্যন্ত তীব্র তাপপ্রবাহের সৃষ্টি হয়। সেটি পূর্ব দিকে সরে যেতে শুরু করেছে। এ দাবদাহের কারণে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় পাহাড় থেকে বরফ গলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিতে পারে বলে শুক্রবার স্থানীয় প্রশাসন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
এদিকে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশে মোট ৪৮৬ জনের মৃত্যু নথিবদ্ধ করা হয়েছে। সাধারণ সময়ে গড়ে এ মৃত্যুর সংখ্যা থাকে ১৬৫ জনের মতো। স্থানীয় চিফ করোনার লিসা লাপোইন্তে এই মৃত্যুর জন্য চরম আবহাওয়াকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট তাবদাহ থেকেই এতো মানুষের মৃত্যু বলে মনে করা হচ্ছে।