ডেস্ক রিপোর্ট

৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ

জাতীয় সঙ্গীত, মুক্তিযুদ্ধে শহিদের সংখ্যা ও জাতীয় পতাকা নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্যের নিন্দা

আপডেট টাইম : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৪ ৮:৫৮ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: জাতীয় সঙ্গীত, মুক্তিযুদ্ধে শহিদের সংখ্যা, সংবিধান ও জাতীয় পতাকা নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং আইন শৃংখলা পরিস্হিতি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান।

বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের এক সভা আজ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সেগুনবাগিচাস্থ বাসদ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভা থেকে এই দাবি জানানো হয়।

বাম জোটের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র সভাপতি কমরেড শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানা ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির যুগ্ম সম্পাদক কমরেড রুবেল সিকদার, কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা সীমা দত্ত প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

সভায় এক প্রস্তাবে সীমান্তে ক্রমাগত হত্যাকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করে তা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। সভায় দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথাযথ উন্নতি না হওয়া, বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্বের হাত বদল হওয়া, নিত্য পণ্যের দাম না কমা, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া ও ‘মব জাস্টিসের’ নামে ভীতি ছড়ানো এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় নিয়োগের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে চাঁদাবাজি-দখলদারিত্বের অবসান এবং উপযুক্ত নীতিমালার ভিত্তিতে দলনিরপেক্ষ যোগ্য, দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সভায় সাভার আশুলিয়া গাজীপুরে শ্রমিকদের নায্য দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সাথে শ্রমিক অসন্তোষের সুযোগ নিয়ে কেউ যেন আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে না পারে সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।

সভায় স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের ছেলে আমান আযমীর সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান, জাতীয় সঙ্গিত, মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়, তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতাকামী জনতার আত্মত্যাগকে তিনি অস্বীকার করেছেন যা চরম ঔদ্ধত্য ও দৃষ্টতার সামিল। সভার প্রস্তাবে বলা হয় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অস্বীকার করে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করা যাবে না। একাত্তরের আত্মদানকে অস্বীকার করা, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী পাক বাহিনীর দোসর রাজাকার আলবদর বাহিনীর গণহত্যায় সমর্থন ও সহযোগিতাকারীদের ইতিহাস ভুলিয়ে দেয়ার জন্যই যে তার এই বক্তব্য তা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। জনগণ এই বক্তব্য ঘৃনাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে । বাম জোটও তার এহেন ঔদ্ধত্যপূণ বক্তব্য প্রত্যাহার করার দাবি জানাচ্ছে।

সভায় গাজায় উপর্যুপুরি গণহত্যার নিন্দা জানিয়ে এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

সভায় দেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে আলোচনা করে সংস্কারের রোডম্যাপ ঘোষণা ও নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এর লক্ষ্যে আলোচনা শুরুর আহ্বান জানানো হয়।

সভায় জুলাই-আগস্ট ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকান্ডের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাব্যুনাল গঠনের দাবি করা হয়। গণঅভ্যুত্থানের বিজয়কে সামনে রেখে দেশ ও মানুষের মুক্তির সংগ্রাম এগিয়ে নিতে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকে নিজ নিজ দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানানো হয়। ফ্যাসিবাদের ভিত্তিমূল উচ্ছেদ ও ব্যবস্থা বদলের সংগ্রাম বেগবান করতে নীতিনিষ্ঠ বাম গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল দল, সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গের প্রতি বাম জোটের সভা থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন