ডেস্ক রিপোর্ট
১৬ অক্টোবর ২০২৩, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক: গত ১২ অক্টোবর সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটির স্থাপত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও দেশবরেণ্য স্থপতি রাজন দাশ ও স্থপতি সৈয়দা জেরিনা হোসেনকে অবৈধভাবে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কাজী আজিজুল মাওলা যুক্তরাষ্ট্র সফরে আছেন। এই সুযোগেই ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ট্রেজারার বনমালী ভৌমিক এই বহিষ্কারাদেশ বাস্তবায়ন করেন।
উল্লেখ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নানান সময়ে প্রশাসনিক অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই এই দুই শিক্ষককে প্রশাসনের চক্ষুশূল হতে হয়েছে। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সিলেট জেলা সংসদ স্থপতি রাজন দাশ ও স্থপতি সৈয়দা জেরিনা হোসেনকে অবৈধভাবে বহিষ্কার করার ঘটনা তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে। একইসাথে স্থাপত্য বিভাগের প্রধান স্থপতি রাজন দাশ ও স্থপতি সৈয়দা জেরিনা হোসেনকে নিজ কর্মস্থল সসম্মানে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবী জানাচ্ছে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্রমাগত অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চাইতে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হচ্ছে ক্রমাগত। এই অন্ধকারের যুগে রাজন দাশের মতো শিক্ষকরা সত্যিকারে শিক্ষক হিসাবে আবির্ভূত হলেও আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা আজ রন্ধ্রে রন্ধ্রে। স্থপতি রাজন দাশ ও সৈয়দা জেরিনা হোসেনের বহিষ্কারাদেশই প্রমাণ করে যে নিষ্ঠাবান মানুষদের জন্য বর্তমান বাংলাদেশ কতটুকু অনিরাপদ। তাঁদের উপর আরোপিত বহিষ্কারাদেশ শুধু তাঁদেরকে নয়, বরং প্রত্যেক নীতিবান মানুষকে ছাঁটাই করে ফেলার মানসিকতার সামগ্রিক বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই মনে করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। এই মানসিকতা শুধু লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রশাসনেরই নয় বরং কর্তৃত্ববাদী সরকারি আমলাতান্ত্রিক কাঠামো থেকেই উদ্ভুত। ফলে কর্তৃত্ববাদী ও অবৈধ বহিষ্কারাদেশ প্রদানকারী লিডিং ইউনিভার্সিটি প্রশাসনকে তাদের অবস্থান থেকে সরে এসে স্থপতি রাজন দাশ ও সৈয়দা জেরিনা হোসেনকে নিজ নিজ পদে পুনবর্হাল করতে হবে। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষকদের জন্য ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন গড়ে তুলেছেন তা অব্যাহত থাকবে।