ডেস্ক রিপোর্ট

১০ অক্টোবর ২০২৩, ১০:২৬ অপরাহ্ণ

সিএনজি অটোরিক্সার দৈনিক জমা ৯০০/- টাকা কার্যকরের দাবি

আপডেট টাইম : অক্টোবর ১০, ২০২৩ ১০:২৬ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: ঢাকা মহানগরীতে ৫০০০ সিএনজি অটোরিক্সা চালকদের জন্য রেজিস্ট্রেশন (ব্লু বুক) প্রদান, মালিকদের দ্বারা চালকদের জিম্মিদশা নিরসন, বিআরটিএ নির্ধারিত দৈনিক জমা ৯০০/- টাকা কার্যকর, মিটার ও নো পার্কিং এর নামে পুলিশ হয়রানি ও জরিমানা-মামলা বন্ধ এবং সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ ও বিধিমালা-২০২৩ এর চালক স্বার্থ বিরোধী ধারা সমূহ সংশোধন, আই এল ও কনভেনশন ৮৭ অনুযায়ী অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকারের দাবিতে ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিক্সা চালক ঐক্য পরিষদ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ করেছে।

১০ অক্টোম্বর মঙ্গলবার বেলা ১২ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্টিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিক্সা চালক ঐক্য পরিষদের আহবায়ক শেখ হানিফ।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোঃ শাহআলম ভূইয়া, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের কেন্দ্রীয় সদস্য আতিকুল ইসলাম টিটো, ঢাকা পোষাক প্রস্তুতকারক শ্রমিক সংঘের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম মানিক, সিএনজি অটোরিক্সা চালক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব গোলাপ হোসেন সিদ্দিক প্রমূখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২০১৫ সালের ১ নভেম্বর বিআরটিএ ঢাকা মহানগরের সিএনজি অটোরিক্সার মালিকদের দৈনিক জমা ৯০০ টাকা নির্ধারণসহ যাত্রীদের ভাড়া নির্ধারণ করে দেন। বিআরটিএ সিএনজি অটোরিক্সার যাত্রীদের জন্য প্রথম দুই কিলোমিটারের জন্য ৪০ টাকা, পরবর্তী প্রতি কিলোমিটার ১২ টাকা এবং মিনিট প্রতি ২.০০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয় কিন্তু ঢাকা মহানগরের মালিকগণ বিআরটিএ নির্দেশনা অমান্য করে সরকার নির্ধারিত দৈনিক জমা ৯০০/- টাকার স্থলে আইন বহির্ভূতভাবে ১১০০/- টাকা হতে ১৩০০/- টাকা বা তারও অধিক হারে জমা নিয়ে থাকেন। যার কারণে ঢাকা মহানগরের সিএনজি অটোরিক্সার চালকদের গ্যাস সহ অন্যান্য খরচ বাবদ দৈনিক ১৬০০/- টাকা জোগার রেখে দিন শুরু করতে হয়। এর আগে ২০০২ সালের পর সর্বপ্রথমে সিএনজি অটোরিক্সার দৈনিক জমা ৩০০/- থেকে পর্যায়ক্রমে ৪৫০/-, ৬০০/- সর্বশেষ ৯০০/-টাকা করা হয়েছিল কিন্তু সব সময়ই মালিকরা দৈনিক জমা বিআরটিএ কর্তৃক নির্ধারিত হার অমান্য করে অধিক হারে নিয়ে থাকেন। বিআরটিএ দৈনিক জমা ৯০০ টাকা নির্ধারণ করলেও ঢাকা মহানগরের পাশ্ববর্তী এলাকার ঢাকা জেলা, গাজীপুর, নারায়নগঞ্জে অনুরূপ সিএনজি অটোরিক্সার দৈনিক জমা ৪৫০/৫০০ টাকা নেওয়া হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রকৃতপক্ষে বিআরটিএ’র দৈনিক জমা ৯০০ টাকা নির্ধারণ করাটাও অন্যায্য ছিল; বর্তমান
বাজারদরসহ আনুষঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করে বিআরটিএ কর্তৃক দৈনিক জমার হার কমিয়ে পুণঃনির্ধারণ করা জরুরী। আইন অনুযায়ী বাইরের সিএনজি অটোরিক্সা ঢাকা মহানগরের এলাকায় প্রবেশ করতে না দেওয়ার কথা থাকলেও কথিত আছে নানা রকম উৎকোচের বিনিময়ে নিয়মিতই বাইরের সিএনজি অটোরিক্সাগুলো ঢাকা মহানগরের এলাকায় যাত্রী পরিবহণ করছে। আবার প্রাইভেট নামধারী সিএনজি অটোরিক্সাগুলো অবাধে যাত্রী পরিবহন করছে। সকল আইন ও হয়রানি প্রকৃত সিএনজি অটোরিক্সা চালকদের সহ্য করতে হয়। গ্যাস, চাল, ডাল, তেল, সাবান, বাড়ি ভাড়াসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম ২০১৫ সালের পর বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু মিটারের রেট বৃদ্ধি পায় নাই। ২০১৫ সালের মিটারের রেটে বর্তমানে সি.এন.জি অটোরিক্সা কোন ভাবেই চালানো সম্ভব না। যে কারনে বর্তমানে চালক যাত্রীগণ দরকষাকষি করে সিএনজি অটোরিক্সা পরিচালনা করছে। ঢাকা মহানগরের টিআই, সার্জন মহোদয়গণ প্রতিনিয়ত চালকদের কাছ থেকে ৭০০ থেকে ৭০০০ টাকার মিটারের মামলা করে দিচ্ছেন।

উক্ত মিটারের মামলার জরিমানার টাকা সংশ্লিষ্ট চালককে বহন করতে হচ্ছে। বর্তমানে চালকরা চরমভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে। ২০০৭ সালে সরকার অনুমোদিত ৫০০০ সিএনজি অটোরিক্সা চালকদের নিবন্ধন প্রদান, ঢাকা মহানগরের জন্য আরও ১৫,০০০ সিএনজি অটোরিক্সা চালকদের জন্য রেজিস্ট্রেশন/ ব্লু-বুক প্রদানের অনুমোদন দেয়া, ঢাকা মহানগরে সি.এন.জি অটোরিক্সা দৈনিক জমা বৃদ্ধি না করা, পার্কিং-এর ব্যবস্থা না দিয়ে নো পার্কিং মামলা দিয়ে চালক হয়রানি বন্ধ করা, ২০১৫ সালের মিটারের রেট জন্য মিটারের মামলা দিয়ে চালক হয়রানি বন্ধ করা, মহাসড়কে সিএনজি অটোরিক্সার জন্য পৃথক লেন/বাইলেন তৈরি করে চলাচলের সুযোগ দেওয়া, অল্প অর্থে ও সহজ শর্তে ৪ স্ট্রোক থ্রি হুইলার চালকদের লাইসেন্স নবায়নের ব্যবস্থা করা এবং সাথে সাথে নবায়নকৃত লাইসেন্স চালকদের সবরাহের ব্যবস্থা করা।

সমাবেশ থেকে বক্তারা হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন অনতিবিলম্বে যদি সিএনজি অটোরিক্সা চালকদের দাবি বাস্তবায়ন করা না হয় তাহলে ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিক্সা চালক ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে বিআরটিএ কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।

শেয়ার করুন