ডেস্ক রিপোর্ট
২৪ আগস্ট ২০২৩, ১০:৩৯ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক: ২৪ আগস্ট নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ( ইয়াসমিন হত্যা ) দিবস উপলক্ষ্যে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে আজ ২৪ আগস্ট ২০২৩ বেলা: ১২:০০ টায় সাতমাথায় মানববন্ধন-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের জেলা সভাপতি দিলরুবা নূরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ জেলা আহŸায়ক এ্যাড, সাইফুল ইসলাম পল্টু, মহিলা ফোরাম জেলা সহ-সভাপতি রাধা রাণী বর্মন, সাধারণ সম্পাদক তাহমিনা আক্তার অ্যানি, নিয়তী সরকার প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
কমরেড সাইফুল ইসলাম পল্টু বলেন, ২৪ আগস্ট নারী নির্যাতন প্রতিরোধ (ইয়াসমিন হত্যা) দিবস। ১৯৯৫ সালের এ দিনে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে পুলিশ কর্তৃক ধর্ষিত হয়ে খুন হয়েছিল দিনাজপুরের ইয়াসমিন। এর বিরুদ্ধে গড়ে ওঠে তীব্র আন্দোলন। কিশোরী ইয়াসমিন কাজ করত ঢাকা শহরে। গরিব পরিবারে মেয়েটি কেবল মাত্র চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়তে পেরেছিল। স্বপ্ন ছিল কাজ করে টাকা জমিয়ে আরো পড়াশুনা করার। সেই স্বপ্ন কে বুকে নিয়েই দিনাজপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে পাড়ি দিয়েছিল রাজধানী ঢাকায়। ২৩ আগষ্ট ’৯৫ ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরছিল ইয়াসমিন। ভুল গাড়িতে উঠে পরে তাই দিনাজপুরের দশমাইল মোড়ে ভোরের আলো ফোটার আগেই ইয়াসমিনকে নামিয়ে দিয়ে চলে যায় বাসটি। কিছুক্ষণ পর সেখাানে আসে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান। বাড়ি পৌঁছে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে পিকআপে তুলে নেয়া হয় ইয়াসমিনকে। কিন্তু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া পুলিশ সদস্যরাই প্রথমে পালাক্রমে ধর্ষণ এবং পরে হত্যা করে কিশোরী ইয়াসমিনকে। পরদিনই দিনাজপুরে এ হত্যাকাÐের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের গুলিতে প্রাণ দিল অকুতোভয় সাতজন সংগ্রামী মানুষ।
সারা দেশের মানুষের ঘুম ভাঙ্গাতে যেন ইয়াসমিন বিবেকের ডাক দিয়ে গিয়েছিলো। হত্যা ও ধর্ষণের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হলো নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দেশের মানুষ সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামসহ বাম প্রগতিশীল নারী সংগঠন ও প্রগতিবাদী নারীদের সমন্বয়ে গড়ে উঠল আন্দোলনের প্লাটফরম সম্বিলিত নারী সমাজ। সরকার ও পুলিশ প্রশাসন বারেবারেই বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে। ইয়াসমিনকে পতিতা বানানোর ষড়যন্ত্র হয়েছে।
ইয়াসমিনের পরিবারকে বারেবারে হুমকি দিয়েছে। এসব কোন অপচেষ্টাই আন্দোলনকে দমাতে পারেনি। আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ১৯৯৭ সালে বিচারে ধর্ষক ও খুনিদের ফাঁসির রায় হয়। রায় কার্যকর করা হয় ২০০৪ সালে। ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যার বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন মানুষের মনে এক প্রতিবাদী চেতনার জন্ম দেয়। সম্বিলিত নারী সমাজের পক্ষ থেকে ২৪ আগস্ট নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর পর থেকেই ঐ দিনটি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসেবে নারী সমাজ পালন করে আসছে।
কমরেড দিলরুবা নূরী বলেন: ইয়াসমিন হত্যার এত বছর পরও নারীর প্রতি সহিংসতা বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে । নারীকে নির্যাতনের ভয়াবহতার ধরনও বেড়েছে । কতভাবে যে নারীর প্রতি সহিংসতা ঘটানো হচ্ছে! কিন্তু অপরাধীরা বরাবরের মতোই পার পেয়ে যাচ্ছে বিচারের হাত থেকে। আর এই বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি দিন দিন নারী নির্যাতনকে বাড়িয়ে চলেছে। সাথে সাথে যুক্ত আছে নারীর প্রতি পুরুষতান্ত্রিক ভোগবাদী দৃষ্টিভঙ্গি। টাকা আর ক্ষমতার দাপটে অপরাধী পার পেয়ে যায় আর ভুক্তভোগীরা ভয়, আতঙ্ক আর অসহায়ভাবে দিনাতিপাত করে। ১০০ টি মামলায় ৯৭টির বিচার হয়না। ৯৪ ভাগ নারী পরিবহণে নিপীড়নের শিকার হয়। নারীর নিরাপত্তা না ঘরে আছে না কর্মস্থলে আছে না রাস্তায় আছে। একদিকে নারীর নিরাপত্তাহীনতা অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্দ্ধগতি, রাজনৈতিক ফ্যাসিবাদীরূপ নারীর উপর নিপীড়নকে তরান্বিত করে। বাংলাদেশের জনগণকেই এই দুর্বিসহ অবস্থার পরিবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। তাই নেতৃবৃন্দ এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে ইয়াসমিন হত্যার প্রতিবাদের আন্দোলনের মতো সামাজিক ও গণপ্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহŸান জানান ।