ডেস্ক রিপোর্ট
৯ এপ্রিল ২০২৩, ১০:৫১ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের প্রাকপর্বে শ্বাসরুদ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নিপীড়িত মানুষের গান গাইবার অঙ্গীকার নিয়ে উদীচীর যাত্রা শুরু। সেই উত্তাল সময়ের ধারাবাহিকতায় শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ, অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। লাখো শহিদের আত্মদানে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে ঘটবে শোষণ নিপীড়নের অবসান, সংস্কৃতি বিকাশের পথ হবে বন্ধনমুক্ত, সাম্প্রদায়িক ও অপসংস্কৃতিতে লালিত বিকৃত চিন্তা-চেতনা থেকে মুক্ত হয়ে ব্যাক্তি ও সমাজের পরিপূর্ণতা অর্জনে মানুষ ব্রতী হবে, মানবিক বিকাশের পথ হবে উন্মুক্ত- এই ছিল আশাবাদ।
কিন্তু এক গ্লানিকর বিপরীত বাস্তবতা আমাদেরকে ঘিরে ধরেছে, রুদ্ধ করে চলেছে আমাদের মানবিক বিকাশের পথ, প্রতিনিয়ত নিপীড়নের শিকার হচ্ছে নারী, শিশুসহ আমাদের স্বজন, পরিজন।
সংস্কৃতিকে বিকৃত, বিভ্রান্ত ও বিনষ্ট করার জন্য চলছে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা। অসুন্দরের দাপটে সুন্দর ও মানবিক-শক্তি আজ কোণঠাসা ।
পীড়নমূলক ঘটনা মানুষের সহজাত সৌন্দর্যবোধ, শিল্পচেতনা, সৃষ্টিশীলতা, সংস্কৃতিমনস্কতা, মমত্ববোধ ভালোবাসা আর আত্মবিকাশের স্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষাকে বিনষ্ট করে ।
মানবিকবোধসমূহ জাগ্রত ও বিকশিত করে তোলা শিল্পী বা শিল্পীগোষ্ঠীর মৌলিক দায়িত্ব হিসাবে আমাদের উপর বর্তায়। এই দায়িত্ব পালনে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী জন্ম লগ্ন থেকে নিরন্তর কর্মতৎপরতায় অবিচল থাকতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।
যেকোন শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে মুক্তির পথ রচনায় সুন্দর মানবিক সমাজ গঠনের নিশ্চিত পরিপূরক হিসাবে কাজ করে উদীচী ।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সামাজিক ও সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সিলেটের থিয়েটারকর্মী আমিনুল ইসলাম লিটন-এর নারী ও শিশু নিপীড়নের সংবাদে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, সিলেট জেলা সংসদ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
কথাকলি সিলেট-এর সদস্য আমিনুল ইসলাম লিটন বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন ফেডারেটিভ সংগঠনে কাজ করার সময় তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শিক্ষার্থী নারী ও শিশুদের প্রতি নিপীড়নমূলক আচরণের যে বর্ণনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তা রুচি বিবর্জিত মধ্যযুগীয় বর্বরতার সামিল। উল্লেখ্য যে, অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম প্রকাশিত প্রতিটি অভিযোগই অকপটে স্বীকার করেছেন- যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবাই অবগত।
এমতাবস্থায় অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম লিটনকে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার জোর দাবি জানাচ্ছি ।
আমরা সিলেটের নাট্য-আন্দোলন ও প্রগতিশীল সংস্কৃতিচর্চার কেন্দ্র সম্মিলিত নাট্য পরিষদের পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তির সংগঠন কথাকলি ‘র স্পষ্ট ঘোষণা প্রত্যাশা করি- যার ফলশ্রুতিতে সিলেটের নাট্যাঙ্গন ও সংস্কৃতিঅঙ্গন কলুষমুক্ত হবে ও নারীশিল্পীগণ নির্বিঘ্নে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার প্রয়াস পাবেন ।
আমারা আরও লক্ষ্য করছি যে, কতিপয় ব্যাক্তি ঘটনাটিকে আড়াল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। আমরা এইসব হীনমন্য, বিকৃত মানসিকতার ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের মুখোশ উন্মোচন করাসহ তাদেরকেও সাংস্কৃতিক ও নাট্যাঙ্গনে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার জোর দাবি জানাচ্ছি ।