ডেস্ক রিপোর্ট
৯ এপ্রিল ২০২৩, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক: স্বাধীনতার চেতনার নামে যৌন নিপীড়নের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের রুচির দুর্ভিক্ষের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল সিলেট জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ সিলেটে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতির বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল।
সিলেটে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ও কথাকলি নাট্যদলের সদস্য আমিনুল ইসলাম লিটনের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য এবং যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন একজন নারী সংস্কৃতিকর্মী। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে আসলে বিভিন্ন সময় আমিনুল ইসলাম লিটন কর্তৃক যৌন নিপীড়নের শিকার কয়েকজন নারী তাদের সাথে ঘটে যাওয়া নিপীড়নের বিষয়ে অভিযোগ করেন ৷ ইতিমধ্যে প্রকাশিত দুইটি অডিও ক্লিপে আমিনুল ইসলাম লিটন কর্তৃক শিশুদের যৌন নিপীড়নের মত ভয়াবহ ঘটনার প্রামাণ পাওয়া যায়৷
অথচ এরকম একটি গুরুতর অভিযোগকে অপপ্রচার উল্লেখ করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের বিবৃতিতে বলা হয়, “সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নাম জড়িয়ে জোটকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা প্রকারান্তরে স্বাধীনতা বিরোধী, দেশদ্রোহী ও মৌলবাদী গোষ্ঠীর হাতকে শক্তিশালী করার নামান্তর।”
এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে আজ (৯ এপ্রিল) এক যুক্ত বিবৃতিতে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল সিলেট নগর শাখার সভাপতি বিশ্বজিৎ চন্দ্র শীল ও সাধারণ সম্পাদক তানজিনা বেগম বলেন, গোটা রাষ্ট্রজুড়ে ভয়ংকর নিপীড়নের সংস্কৃতির প্রভাব দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনেও বিরাজমান। ক্ষমতাসীনদের সকল অপকর্মের নিরঙ্কুশ সমর্থকগোষ্ঠির ভূমিকা পালন করা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নৈতিক অধঃপতনের বাস্তব চিত্র ফুটে আসে সিলেটের আমিনুল ইসলাম লিটনের যৌন নিপীড়নের ঘটনায়৷ সংস্কৃতি চর্চা মানুষের মানবিক গুণাবলির বিকাশ, মুক্ত চিন্তা ও সামাজিক দায়বোধ গড়ে তুলতে সহায়ক৷ অথচ এমন একটি মুক্ত প্রাঙ্গনেও নারীর নিরাপত্তা অনিশ্চিত। অাবার ভিকটিম যৌন হয়রানির বিষয়ে অভিযোগ করলেও বিনা তদন্তে একে অপপ্রচার বলার ধৃষ্টতা প্রদর্শন করছে! আমরা মনে করি, বর্তমান শাসন কাঠামোয় ক্ষমতাসীনদের সকল অপরাধ ধামাচাপা দেয়ার সংস্কৃতি শেষ পর্যন্ত সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটকে যৌন নিপীড়কের পক্ষে দাঁড় করিয়েছে৷ দালালিবৃত্তিকে পুঁজি করে সংস্কৃতি চর্চা করা এই সংস্কৃতিজীবিরা জনগণের নৈতিক আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্ন। ফলে যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণে সিলেটের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ, সাংস্কৃতিক কর্তাব্যক্তিরা প্রকৃতপক্ষে রুচির দুর্ভিক্ষের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে ৷
বিবৃতিতে অবিলম্বে আমিনুল ইসলাম লিটনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যৌন নিপীড়কের সমর্থকদের সামাজিকভাবে বয়কটের মাধ্যমে একটি সুস্থ নিরাপদ ও গণমানুষের সংস্কৃতি চর্চার পরিবেশ বিনির্মাণের আহবান জানানো হয়৷