ডেস্ক রিপোর্ট
৩১ মার্চ ২০২৩, ৭:০০ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার প্রথম আলোর সাংবাদিক শামসুজ্জামানের নিঃশর্ত মুক্তিসহ তিন দফা দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে আটটি বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের মোর্চা গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট। সংগঠনগুলোর নেতারা বলেছেন, বর্তমান সরকারের সময়ে দেশে নানা অন্যায়-অনাচার ঘটে চলেছে। আওয়ামী স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যিনি কথা বলছেন, তাঁর জায়গা হচ্ছে জেলখানায় কিংবা আয়নাঘরের মতো বন্দিশালায়।
গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের অন্য দুই দাবি হলো অবিলম্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল ও বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ এবং র্যাব হেফাজতে সুলতানা জেসমিনের হত্যাকাণ্ডের বিচার।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিন থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন জোটের নেতা–কর্মীরা। মিছিলে ‘অবিলম্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল কর, করতে হবে’, ‘অবিলম্বে জেসমিন হত্যার বিচার চাই, করতে হবে’, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করা চলবে না’ প্রভৃতি স্লোগান দেওয়া হয়৷ মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে টিএসসি এলাকার রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হয়। এরপর সেখানে সমাবেশ হয়।
সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেটবিহীন সরকার। এই সরকারের প্রশ্রয়ে বিভিন্ন সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। এসবের বিরুদ্ধে কথা বললেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দেওয়া হয়। মানুষের সংবিধানস্বীকৃত অধিকারকে ক্রমাগত ভূলুণ্ঠিত করা হচ্ছে। মানুষকে দমনের জন্য একদিকে আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আর অন্যদিকে আছে যুবলীগ-ছাত্রলীগ।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মানুষের সামর্থ্য বাড়েনি, কিন্তু বেড়েছে দ্রব্যমূল্য। তা নিয়ে প্রতিবেদন করায় প্রথম আলোর সাংবাদিক শামসুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা তাঁর নিঃশর্ত মুক্তি চাই।’
বর্তমান সরকার মানুষের সঙ্গে প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা করেছে বলে মন্তব্য করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (বাসদ) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শোভন রহমান। তিনি বলেন, ‘একটি মিডিয়া অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নামে সরকারের কুৎসিত দালালি করেছে। আমার ভাত-চাল-মাংসের স্বাধীনতা নেই। এই কথার জন্য মামলা করা হয়, তাহলে দেশের ১৮ কোটি মানুষকে জেলে পুরতে হবে।’
ছাত্র ইউনিয়ন নেতা তামজীদ হায়দার বলেন, ‘প্রতিবেদন করার জন্য একজন সাংবাদিককে আজকে কারাগারে থাকতে হচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে প্রত্যেক নাগরিকের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। সাধারণ মানুষ সেই কথা বললে এবং সাংবাদিকেরা সেগুলো প্রকাশ করলে মামলা হয়। কিন্তু আওয়ামী সরকারের লোকজনের লুটপাট-দুর্নীতি ও হামলা-অন্যায়ের বিচার আমরা হতে দেখি না। আওয়ামী স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কেউ কলম তুললে তাঁর জায়গা হয় জেলখানায় কিংবা আয়নাঘরের মতো বন্দিশালায়। এই প্রতিবাদ করার জন্য জেলে যেতে হলে আমরা যাব।’
সাংবাদিক শামসুজ্জামানকে বিনা দোষে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অমল ত্রিপুরা। অবিলম্বে শামসুজ্জামানের নিঃশর্ত মুক্তি ও জেসমিন হত্যার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন তিনি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সমন্বয়ক ও গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছায়েদুল হক। আরও বক্তব্য দেন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক দিলীপ রায় ও ছাত্র ফেডারেশনের (জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল) কেন্দ্রীয় সভাপতি মিতু সরকার।