ডেস্ক রিপোর্ট

৩১ মার্চ ২০২৩, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ

সাংবাদিক শামস-এর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি বাম জোটের

আপডেট টাইম : মার্চ ৩১, ২০২৩ ৬:৫৬ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: বিচার বহির্ভূত হত্যা, আইন শৃংখলা রক্ষা বাহীনির হেফাজতে মৃত্যু, বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার বন্ধ, র‌্যাবের হেফাজতে নওগাঁয় সুলতানা জেসমিন এর মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান, সাংবাদিক শামস এর নিঃশর্ত মুক্তি, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করার দাবি বাম গণতান্ত্রিক জোটের।

বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের উদ্যোগে আজ ৩০ মার্চ ২০২৩ বিকেল সাড়ে ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে জোটের নেতৃবৃন্দ এই দাবি জানান।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমÐলীর সদস্য কমরেড নজরুল ইসলাম, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড শহীদুল ইসলাম সবুজ, সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি কমরেড আব্দুল আলী। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেসক্লাব থেকে তোপখানা রোড হয়ে পল্টন মোড়ে এসে শেষ হয়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে একটি ইউনিয়ন ভ‚মি অফিসের সহকারী সুলতানা জেসমিনকে র‌্যাব ২২ মার্চ নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড় থেকে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর র‌্যাব হেফাজতে তার মৃত্যু হয়। যখন তাকে তুলে নেওয়া হয় তখন তার বিরুদ্ধে কোন মামলা ছিল না। তার আত্মিয়-স্বজন ও পরিচিত জনেরা বলেন, আটক হওয়ার আগে জেসমিন সম্পূর্ণ সুস্থ্য ছিলেন, র‌্যাবের হেফাজতে নির্যাতনের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। শুধু তাই নয়, যেখানে আইনে আছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে অভিযুক্তকে সোপর্দ করতে হবে কিন্তু তা হয়নি। মামলা ছাড়া কাউকে আটক আইনসম্মত নয়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক জেসমিনের মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখেছেন বলেও পত্রিকায় প্রতিবেদনে এসেছে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সুলতানা জেসমিনের মৃত্যুর ঘটনায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এটা একটা হাস্যকর বিষয়। কারণ, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারাই তদন্ত করবে। ফলে এই তদন্ত নিরপেক্ষ হবে এ কথা কেউ বিশ^াস করে না।

নেতৃবৃন্দ বলেন, এর আগেও পুলিশ ও র‌্যাবের হেফাজতে অসংখ্য মানুষ মারা গেছেন। র‌্যাব-পুলিশের ক্রস ফায়ারের একটা পরিচিত গল্প দেশবাসীর মুখস্ত। গুম-খুন, বিচার বহির্ভূত হত্যা ধারাবাহিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বস্তুত, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, মানবাধিকার বলে আজ আর কিছু অবশিষ্ট নাই। মানুষের বেঁচে থাকাই আজ দায় হয়েছে। দলীয় সন্ত্রাস আর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসীদের হাতে মানুষ জিম্মি হয়ে আছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, মাছ, মাংস, চাইলের স্বাধীনতা চাই – একজন দিনমজুর জাকিরের বক্তব্য পত্রিকায় রিপোর্ট আকারে তুলে ধরার কারণে সাংবাদিক শামসকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রাতের আঁধারে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আইন রকেটের গতিতে কাজ করেছে, আবার কোন কোন ক্ষেত্রে আইন গরুর গাড়ীর গতিতেও চলে না। ডিজিটাল আইনে নায়িকা মাহিয়া মাহির জামিন হয়েছে দলীয় লোক বলে, অথচ শামসের জামিন দেয়া হয়নি। প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের নামেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দেয়া হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, এটা শুধু দিনমজুরের কথা নয়, এটা আজ আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী ও কতিপয় চাটুকার বুদ্ধিজীবী ছাড়া ১৮ কোটি মানুষের মনের কথা। আজও পত্রিকায় এসেছে ৭১% মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য গ্রহণ কমিয়েছে। ৩৭% মানুষের ৩ বেলার মধ্যে ১ বেলা খাবার পায় না। ৪০% মানুষের কোন কোন দিন ঘরে একটুও খাবার থাকছে না। তাহলে বেসরকারি সংস্থা সানেমের নামেও কি ডিজিটাল আইনে মামলা করবে সরকার। তাহলে তো ১৮ কোটি মানুষের নামেই মামলা করতে হবে। গণবিচ্ছিন্ন সরকার দেশকে পুলিশী রাষ্ট্র বানিয়েছে। মানুষকে ভয় দেখিয়ে ক্ষমতায় থাকতে চায় কিন্তু সে গুড়ে বালি।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে প্রথম আলোর সাংবাদিক শামসুজ্জামানের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন এবং বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তার আইনের নামে মানুষের বাক্স্বাধীনতা হরণের কালো আইন বাতিল করতে হবে। আজ মানুষের ভোটের অধিকার, ভাতের অধিকার নাই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ দিশেহারা। সরকার সিন্ডিকেটের ডাকাতদের হাতে দেশের বাজার তুলে দিয়েছে। ফলে দ্রব্যমূল্য আকাশচুম্বী। এরা মানুষকে লুটেপুটে খাচ্ছে। ব্যাংক লুট, টাকা পাচার রোধে সরকার কোন ভ‚মিকা না নিয়ে, লুটপাটকারী, পাচারকারী, ঋণ খেলাপীদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে।

নেতৃবৃন্দ সুলতানা জেসমিনে মৃত্যুর ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন এবং ঘটনার সাথে যুক্তদের ও নেপথ্য হোতাদের বিচার দাবি করেন। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে হেফাজতে মৃত্যু, বিচার বহির্ভূত হত্যা, বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার বন্ধের দাবিতে এবং এই ফ্যাসিবাদী সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সকল বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান।

শেয়ার করুন